ETV Bharat / bharat

ইভিএম নয়, এসআইআরে ভোট চুরি করছে কমিশন; তোপ অভিষেকের

দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ৷

TMC National General Secretary MP Abhishek Banerjee
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি: এএনআই থেকে স্ক্রিন শট নেওয়া)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 31, 2025 at 3:58 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 31 ডিসেম্বর: একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ঘুরপথে কংগ্রেসকেই দায়ী করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ ৷ আর এই চুরি ইভিএম-এ হচ্ছে না, হচ্ছে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি তালিকাকে ভিত্তি করে, দাবি অভিষেকের ৷

লোকসভার বিরোধী দলেনতা রাহুল গান্ধি একাধিক নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন ৷ কিন্তু অভিষেকের দাবি, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপির জন্য ভোট চুরি করছে নির্বাচন কমিশন ৷ অর্থাৎ ভোটার তালিকা তৈরির সময়ই ভোট চুরি হচ্ছে ৷ এর পরে আর কিছু করার থাকে না ৷ তাঁর কথায়, "যে বিমানে বা ট্রেনে উঠছি, তার ইঞ্জিনেই যদি গণ্ডগোল থাকে, তাহলে তো আহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায় ৷"

বুধবার দিল্লিতে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে অভিষেকের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল ৷ নির্বাচন সদনের বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বলেন, "ভোটার তালিকায় ভোট চুরি হচ্ছে ৷ কংগ্রেস এটা ধরতে পারলে, হরিয়ানায় হারত না ৷ লড়াইটা সোশাল মিডিয়ায় নয় ৷ আসল লড়াইটা এখানে ৷"

তিনি বলেন, "আমি সমমনস্ক দলগুলিকে সতর্ক করছি, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোট চুরি হচ্ছে ৷ ইভিএমে হচ্ছে না ৷ ইলেক্ট্রনিক ভোটার মেশিন পরীক্ষার করার সুযোগ পাওয়া যাবে ৷ কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না, এখানে কী অ্যালগোরিদমে কাজ হচ্ছে ৷ এক কোটি বা 50 লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিতে কোন সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না ৷"

নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বলেন, "চুরি এখানে (কমিশনের সদর দফতরে) হচ্ছে ৷ এটা আমরা ধরে ফেলেছি ৷ যদি ভোট চুরি না-ই হয়ে থাকে, তাহলে 1 কোটি 36 লক্ষ লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করুক কমিশন ৷ এর আগেও তো এসআইআর হয়েছে ৷ কিন্তু কখনও সাসপিসিয়াস লিস্ট বা সন্দেহজনক তালিকা এবং লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি তালিকা বলে কিছু ছিল না ৷ 2002 ও 2003 সালে এসআইআরের সময় সাসপিসিয়াস লিস্ট বলে কিছু ছিল না ৷"

জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, "আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (জ্ঞানেশ কুমারকে) বলেছি, এই সাসপিসিয়াস লিস্টের ভিত্তিতে আপনি ভোটার তালিকাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন ৷ এই তালিকা কোথা থেকে এল ? কে তৈরি করেছে ? আপনি যে সফ্টওয়্যার ব্যবহার করছেন, সেটা আমাদের না দেখালেও সংবাদমাধ্যমকে অন্তত দেখান ৷"

ভোট চুরি নিয়ে অভিষেকের দাবি, "বাংলার ভোটার তালিকায় 7 কোটি 66 লক্ষ ভোটারের নাম ছিল ৷ 58 লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে ৷ এবার 7 কোটি 8 লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়ায় 80 হাজার বিএলও, 8 হাজার বিএলও সুপারভাইজার, 3 হাজার এইআরও, 300 ইআরও, 23 ডিইও, এবং পুরো ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে এবং তাঁরা দু'মাসে এটা করছেন ৷ কমিশনের কাছে কী এমন জাদু আছে, এক ঘণ্টায় তালিকা স্যানিটাইজ করে বলে দিচ্ছে 1 কোটি 36 লক্ষ লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি আছে ?"

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্ন, "কবে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা দেওয়া হয়েছে ? 16 ডিসেম্বর ৷ খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে 16 ডিসেম্বর ৷ যেটা এক লক্ষ লোকের করতে 2 মাস সময় লাগছে, সেটা আপনি এক ঘণ্টায় কী করে করলেন ? এ থেকেই বোঝা যায় যে, আপনি কতটা ভয়ে রয়েছেন ৷ আপনি চান না যে, মানুষ ভোট দিক ৷"

বিজেপির বিরুদ্ধে অভিষেক তোপ দেগে বলেন, "এর আগে ভোটাররা সরকার নির্বাচিত করতেন ৷ এখন সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কারা ভোট দিতে পারবেন ৷ এটাই বিজেপির নতুন ভারত ৷ আগে ভোটাররা ঠিক করতেন, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন ? সরকার কে গড়বে ৷ এখন সরকার ঠিক করে বুথে কে যাবে, আর ভোট কে দেবে ৷ সারা দেশের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত ৷ প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে এই ভোটার তালিকায় চুরি রুখতে হবে ৷ বাংলায় ডানকুনি পুরসভায় আমাদের এক কাউন্সিলর জীবিত, তালিকায় তাঁকে মৃত দেখানো হয়েছে ৷ এরকম হাজারটা ঘটনা আছে ৷"

তৃণমূল সাংসদ আরও বলেন, "আমরা আট-দশটা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি ৷ দুপুর 12টায় বৈঠক শুরু হয় এবং আড়াই ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে ৷ এর একমাস আগে 28 নভেম্বর তৃণমূলের 10 সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল ৷ আমরা কমিশনকে পাঁচটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলাম ৷ কিন্তু একটিরও ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারেনি কমিশন ৷ ওই রাতেই কমিশন বাছাই করা কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে কিছু তথ্য ফাঁস করে ৷ তারা দাবি করে, সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে ৷"

অভিষেক বলেন, "তারপরেই আমি সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলাম দু-তিনটির বাইরে আমরা কোনও প্রশ্নের উত্তর পাইনি ৷ কোনও কিছু পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করেননি তিনি (জ্ঞানেশ কুমার) ৷ আমরা যখন এসআইআর নিয়ে কথা বলতে চাইছি, তখন তাঁরা নাগরিকত্বের বিষয়ে চলে যাচ্ছেন ৷ তাঁদের কাছে কোনও কিছুই সঠিক উত্তর নেই ৷" এদিন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইয়া, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাকেত গোখেল, মমতাবালা ঠাকুর, লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নাদিমুল হক ৷

রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা মার্চ-এপ্রিলে ৷ তার আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলছে পশ্চিমবঙ্গে ৷ গত 4 নভেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ৷ গত 16 ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন ৷ এখন চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব ৷ এই পর্বে প্রবীণদের অশক্ত ও অসুস্থ শরীরে হাজিরা দেওয়া নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে ৷ তৈরি হয়েছে বিতর্ক ৷ এদিন কমিশনের কাছে এই বিষয়টিও তুলে ধরে তৃণমূল ৷ আগামী 14 ফেব্রুয়ারি এসআইআর পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৷