ETV Bharat / bharat

13 বছরের অপেক্ষাতেও মেলেনি অস্ত্রোপচারের তারিখ ! AIIMS-এ কিশোরীর মৃত্যুতে বিতর্ক

মৃতের নাম তনভি (15) ৷ সে রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা ৷ তার বাবা মুকেশ পারিয়ান এইমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন ৷

GIRL DIES AT AIIMS
দিল্লি এইমস ও (ইনসেটে) মৃত তনভি (এএনআই ও ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 2, 2026 at 3:34 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 2 সেপ্টেম্বর: দেশের অন্যতম নামী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান দিল্লি এইমস (AIIMS)-এ চিকিৎসার অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার জেরে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে । মঙ্গলবার এইমস (অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস) চত্বরেই মৃত্যু হয়েছে রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা 15 বছর বয়সী কিশোরী তনভির ।

মৃতার বাবা মুকেশ পারিয়ানি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন । তাঁর দাবি, হৃদযন্ত্রের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত তাঁর মেয়ে গত 13 বছর ধরে অস্ত্রোপচারের তারিখ পাওয়ার জন্য এইমসে নিয়মিত যাতায়াত করছিল ৷ কিন্তু হাসপাতালের গড়িমসির কারণে সময়মতো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি । শেষ পর্যন্ত এই বিলম্ব ও অবহেলার কারণেই সে প্রাণ হারায় ।

Tanvi
তনভি (ইটিভি ভারত)

দু’বছর বয়স থেকেই এইমসে চিকিৎসা: কোটার বাসিন্দা তনভি জন্মগত হৃদরোগে (ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট বা ভিএসডি-র সাথে পালমোনারি অ্যাট্রেসিয়া) ভুগছিল । মাত্র দু’বছর বয়সে তার বাবা-মা তাকে অনেক আশা নিয়ে এইমস দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন ।

পরিবারের অভিযোগ, 2014 সালের হাসপাতালের নথিতেই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল এবং 2015 সালে অস্ত্রোপচারের একটি তারিখও ঠিক করা হয়েছিল । তা সত্ত্বেও, নানা কারণে অস্ত্রোপচার বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয় । তার বাবা মুকেশ পারিয়ানির বিশ্বাস, চিকিৎসকরা যদি সময়মতো অস্ত্রোপচার করতেন, তবে তাঁর মেয়ে আজও বেঁচে থাকত । তিনি অভিযোগ করেন, 24 অগস্ট থেকে 31 অগস্টের মধ্যে চিকিৎসকরা তাঁর মেয়েকে একবারও পরীক্ষা করেননি ।

হার্ট-লাং ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রক্রিয়ার সময় অবস্থার অবনতি: হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, 24 অগস্ট তনভিকে পুনরায় এইমসে ভর্তি করা হয় । চিকিৎসকরা জানান, সম্মিলিত হার্ট-লাং ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জন্য তার শারীরিক অবস্থা যাচাইয়ের (ওয়ার্ক-আপ) প্রক্রিয়া চলছিল । সোমবার সন্ধ্যা 7টা নাগাদ তার এন্ডোস্কোপি করা হয় ৷ এর পরপরই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে ।

সিটিভিএস বিভাগের প্রধান ড. ভি দেবাগুরু জানান, মঙ্গলবার রাত 2টা 50 মিনিটের দিকে ওই কিশোরী তীব্র দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের কথা জানায় । পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা (স্যাচুরেশন লেভেল) কমে 48 শতাংশে নেমে এসেছে । চিকিৎসকরা তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি এবং ভোর 5টা 6 মিনিটের দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় ।

মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারটি শোকাচ্ছন্ন ও বিপর্যস্ত । এইমস কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত বাবা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি । তিনি হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ৷ তাঁর দাবি, কাগজপত্র সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কর্মীদের হাতে পরিবারটি বারবার হয়রানির শিকার হয়েছে এবং একাধিকবার রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে ।

পুরো ঘটনার পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, এমন সন্দেহ থেকে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন । ন্যায়বিচারের আশায় পরিবারটি তাদের মেয়ের দেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে ৷ তাদের দাবি, হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাদের উদ্বেগ এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট জবাব না পাওয়া পর্যন্ত তারা দেহ নেবে না ।

এদিকে, এইমসের সিনিয়র চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, 2018 সালে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে মেয়েটির ফুসফুসের ধমনীগুলো (যেসব প্রধান রক্তনালী ফুসফুসে রক্ত ​​সরবরাহ করে) সঠিকভাবে বিকশিত হয়নি ৷ ফলে প্রচলিত সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচারকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে, তা স্থগিত রাখা হয় এবং তার পরিবর্তে তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল ।

তা সত্ত্বেও, দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার আশায় 13 বছর কাটানোর পরও শেষ পর্যন্ত এক রোগীর প্রাণ হারানোর এই ঘটনাটি জনস্বাস্থ্য পরিষেবার কার্যকারিতা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ।

আরও পড়ুন -

  1. ব্রেন স্ট্রোকের চিকিৎসায় 'গাফিলতি' ! 6 বছর পর হাসপাতাল ও চিকিৎসককে 1 কোটি জরিমানা
  2. ‘ভাড়া’ 200 টাকা! ট্রলি না-পেয়ে করিডরেই মৃত্যু রোগীর, কাঠগড়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল
  3. পায়ের বদলে কিশোরের গোপনাঙ্গে অস্ত্রোপ্রচার ! সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ মায়ের