ETV Bharat / technology

সুনীতার 'ঘরে' ফেরা, উচ্ছ্বসিত মোদি-মমতা; উৎসবে মাতল ঝুলাসন

সব উৎকণ্ঠার অবসান ৷ নিরাপদে ফিরেছে ঘরের মেয়ে ৷ উৎসবের মেজাজে গুজরাতবাসী ৷ মঙ্গলবার থেকেই সুনীতার তুতোভাই দীনেশ রাওয়াল যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন বোনের মঙ্গল কামনায়।

sunita williams home village
গুজরাতে সুনীতার সাফল্য উদযাপনে ব্যস্ত এলাকাবাসী (ছবি ANI)
author img

By ETV Bharat Tech Team

Published : March 19, 2025 at 8:56 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

আমেদাবাদ: সুনীতাদের পৃথিবীতে ফেরা নিয়ে উৎকণ্ঠা আগে থেকেই ছিল ৷ রবিবার,16 মার্চ ক্রু -10 আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিল স্পেসএক্সের মহাকাশযান ড্রাগন ৷ বুধবার, ভোররাত 3.27 মিনিটে নিরাপদে পৃথিবীতে পৌঁছন সুনীতারা ৷ সুনীতাকে স্বাগত জানিয়ে এক্স হ্যাণ্ডেলে টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি ৷ সেইসঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেন সুনীতা উইলিয়ামসের পৈতৃক বাড়ি গুজরাতে ঝুলাসনের বসিন্দারা ৷

মঙ্গলবার থেকেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের তুতোভাই দীনেশ রাওয়াল বোনের মঙ্গল কামনায় যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন ৷ ড্রাগন মহাকাশযানের সফল স্প্ল্যাশডাউনের পর উদযাপন শুরু হয় গুজরাতে ৷ স্পেসএক্সের এই মহাকাশযানে ক্রু-9 মিশনে উইলিয়ামস-সহ বুচ উইলমোর, নিক হেগ এবং রাশিয়ান মহাকাশচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভ পৃথিবীতে ফিরে আসেন ৷

sunita williams
ঝুলাসনে পুজোয় ব্যস্ত এলাকাবাসী (ছবি সংবাদ সংস্থা (এপি ))

এক্স হ্যাণ্ডেলে প্রধানমন্ত্রী পোস্ট করেন, "আবারও স্বাগতম ! পৃথিবী তোমার অভাব অনুভব করেছে । দৃঢ়তা, সাহস এবং অসীম মানবিক চেতনার পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে গিয়েছ ৷ সুনিতা উইলিয়ামস এবং ক্রু- 9এর মহাকাশচারীরা আবারও আমাদের দেখিয়েছেন যে অধ্যবসায়ের প্রকৃত অর্থ কী। অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁদের অটল ও মানসিক দৃঢ়তা লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।"

তিনি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, মহাকাশ অনুসন্ধানের অর্থ হল মানুষের সম্ভাবনার সীমা অতিক্রম করা, স্বপ্ন দেখার সাহস এবং সেই স্বপ্নগুলিকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার সাহস অর্জন করা। আইকন সুনিতা উইলিয়ামস তার ক্যারিয়ার জুড়ে এই চেতনার উদাহরণ তৈরি করেছেন । তাঁরা দেখিয়েছেন যে যখন নির্ভুলতা আবেগের সঙ্গে মিলিত হয় এবং প্রযুক্তি দৃঢ়তার সঙ্গে মিলিত হয় তখন কী ঘটে।

সুনীতার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এক্স হ্যাণ্ডেলে একটি পোস্ট করেন ৷

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুসারে, নাসার মহাকাশচারী নিক হেগ জানিয়েছেন তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ৷ পৃথিবীতে ফেরার সময় তাঁরা কানে কানে হেসে গিয়েছেন ৷ অবতরণের পর, নাসার মহাকাশচারী নিক হেগ মিশন কন্ট্রোলে তাঁর প্রথম বার্তা পৌঁছে দেন। অডিয়োটি কিছুটা অস্পষ্ট থাকলেও, হেগকে বলতে শোনা যায় যে ক্রুরা "কানে কানে হাসছেন" ৷ ড্রাগন মহাকাশযানের সফল স্প্ল্যাশডাউনের পর স্পেসএক্স একটি এক্স পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টটিতে বলা হয়েছে, "ড্রাগনের স্প্ল্যাশডাউন নিশ্চিত ৷ পৃথিবীতে ফিরে আসার জন্য স্বাগতম, নিক, সানি, বুচ এবং অ্যালেক্স!"

নাসার ভাষ্যকার স্যান্ড্রা জোন্স ড্রাগন মহাকাশযানের অবতরণের দৃশ্য বর্ণনা করে বলেছেন, "একটি শান্ত, কাঁচের মতো সমুদ্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখানে দেখা যাচ্ছে ।"

সিএনএন-এর তরফে জানা গিয়েছে, যে মহাকাশযানটি অবতরণ করার কিছু আগেই, মহাকাশযানের অবতরণের গতি কমানোর জন্য প্যারাসুট রাখা হয়েছিল ৷ এটি প্রতি ঘণ্টায় 20মাইলেরও কম গতিতে অবতরণ করে । স্প্ল্যাশডাউনের পর, হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে মহাকাশচারীদের পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য কিছু সময় রাখা হবে ৷ সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন চিকিৎসকরা, বেশ কিছুদিন নজর রাখবেন ৷

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের বাবা দীপক পান্ডিয়া গুজরাতের ঝুলাসন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি 1957 সালে আমেরিকায় বসবাস করতে শুরু করেন । 1965 সালের ,19 সেপ্টম্বর ওহাইওতে দীপক পান্ড্য এবং স্লোভেনীয়-আমেরিকান উরসুলিন বনির ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন সুনীতা।

তিনি 1983 সালে ম্যাসাচুসেটস থেকে উচ্চ বিদ্যালয়, 1987 সালে ইউএস নেভাল একাডেমি থেকে বিএসসি এবং 1995 সালে ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে এমএসসি পাঠ সম্পন্ন করেন। এরপর 1997 সালে সুনিতা সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং 30 ধরণের বিমান 3 হাজার ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর । পরবর্তীতে 1998 সালে তিনি নাসার মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হন।

সফল প্রত্যাবর্তন, 9 মাস মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা; দেখুন ভিডিয়ো