ETV Bharat / technology

নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের চাবিকাঠি আছে আপনার হাতে !

আজ সেফার ইন্টারনেট ডে ৷ রইল নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজ টিপস ৷

Safer Internet Day 2025
সেফার ইন্টারনেট ডে (ছবি ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Tech Team

Published : February 11, 2025 at 3:13 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ: অত্যাধুনিকতার সঙ্গে বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা ৷ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে সহজেই প্রয়োজনীয় কাজ নিমেষে সারা হয়ে যায় ৷ বিশেষত ডিজিটাল লেনদেন থেকে শুরু করে যেকোনও কনটেন্ট সার্চিং-এর ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ অজান্তের সার্চ করা যেকোনও কনটেন্ট ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে ৷ ডিজিটাল গ্রেফতারি থেকে নিঃস্ব করে দিতে পারে ৷

এই পরিস্থিতিতে, ইন্টারনেট ব্যবহার সাধরণ মানুষের কাছে নিরাপদ করতে প্রতি বছর 11 ফেব্রুয়ারি নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস (SID) পালিত হয়। এবার জেনে নেওয়া যাক ঠিক কোনও কোনও বিষয়ে নজর দিলে এড়ানো যায় ইন্টারনেট ব্যবহারের ঝুঁকি ৷

AI ব্যবহারে বাড়ছে সাইবার অপরাধের সম্ভবনা, হুঁশিয়ারি বিশেষজ্ঞদের

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:

মিডিয়া সাক্ষরতা: অনলাইন নিরাপত্তার জন্য মিডিয়া সাক্ষরতা অপরিহার্য। এটি হল অনলাইনের মাধ্যমে সচেতনতার প্রসার ঘটানো ৷ সচেতনতার মাধ্যমে তথ্য এবং প্রতারণার মতো বিপজ্জনক বিষয়বস্তু এড়ানো যায় ।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা অত্যান্ত জরুরি। সমস্ত অ্যাকাউন্টের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরিবর্তে, প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হয় । সমস্ত পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন মনে হলে, তাহলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার প্রয়োজন ৷

সাবধানে শেয়ার করা: অনলাইনে কোনও লিঙ্ক পোস্ট করার সময় সাবধানতার সঙ্গে সেটি করা প্রয়োজন ৷ যখন কিছু পোস্ট করবেন সে সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে লিঙ্কডইন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিতে।

অনলাইন নিরাপত্তা অ্যাপ: অনলাইন কার্যকলাপ খতিয়ে দেখতে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করতে সাহায্য করার জন্য অনেক অনলাইন নিরাপত্তা অ্যাপ পাওয়া যায়। এর মধ্যে, নর্টন ফ্যামিলি প্রিমিয়ার, কুস্টোডিও এবং নেট ন্যানির মতো অ্যাপগুলি সেরা বিকল্প।

এই সতর্কতাগুলি অনুসরণ করার পাশাপাশি, আপনার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে নিরাপদ এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন ৷ অনলাইন স্ক্যাম এবং মিডিয়া সাক্ষরতা সম্পর্কে তাদের সচেতনতার চেষ্টা করা প্রয়োজন ।

Whatsapp-এ সারাক্ষণ অ্যাক্টিভ, সাবধান নিঃস্ব হতে পারেন যে কোনও মুহূর্তে!

অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়

ইমেল, টেক্সট এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জালিয়াতি: সাইবার অপরাধীরা ইমেল, টেক্সট বার্তা এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জালিয়াতির নতুন পন্থা অবলম্বন শুরু করেছে । তারা ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন (DWP) এর নাম করে পেমেন্টের বার্তা পাঠায়, সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই সর্বনাশ ৷ আপনার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যেতে পারে । মনে রাখবেন যে সরকার বা কোনও প্রতিষ্ঠান ইমেল , টেক্সট মেসেজ বা লিঙ্কে ক্লিক করে আপনার ব্যাঙ্কের বিবরণ দিতে বলবে না।

সরকারি ওয়েবসাইটের নকল: এই ধরণের জালিয়াতিকারী অপরাধীরা এমন ওয়েবসাইট তৈরি করে যা দেখতে বৈধ সরকারি ওয়েবসাইটের মতো হয় ৷ সাধারণত পাসপোর্ট এবং ভিসার মতো অফিসিয়াল নথি প্রক্রিয়াকরণের নামে নাগরিকদের জালে ফেলে অর্থ সংগ্রহ করে ৷

ডেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারি: সম্প্রতি এই ধরনের কেলেঙ্কারির সংখ্যা আরও বেড়েছে । অনলাইনে জাল ফেলছে ৷ এমনকি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে ৷ একটি মাত্র ফোন কল শান্তিপূর্ণ জীবনকে উল্টে দেয় ।

ফিশিং ইমেল: এই ধরণের জালিয়াতির ক্ষেত্রে, শিকারকে একটি জাল ইমেল পাঠিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় ৷ আপনার ব্যাংক বা অন্য কোনও বিশ্বস্ত সংস্থার নাম করে পাঠানো হয় ৷ লিঙ্কে ক্লিক করলেই সর্বাশ্রান্ত হতে পারেন ৷

র‍্যানসমওয়্যার: র‍্যানসমওয়্যার একটি সাইবার হুমকি ৷ সাধারণ নাগরিকদের থেকে কোম্পানিগুলিকে লক্ষ্য করে। র‍্যানসমওয়্যার হলো এক ধরণের ম্যালওয়্যার যা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ডেটা লক বা এনক্রিপ্ট করার জন্য তৈরি করা হয়। এটি কম্পিউটারকে ব্যবহারের অযোগ্য করে তোলে। জালিয়াতরা কম্পিউটারে তথ্য লক করে রাখে এবং তা ফেরত পেতে অর্থ দাবি করে । যদি আপনার কোম্পানি র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তাহলে অবিলম্বে পুলিশকে ফোন করুন। সহায়তার জন্য আপনি ইউএস সিক্রেট সার্ভিস (পিডিএফ) অথবা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর স্থানীয় ফিল্ড অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

সাইবার বুলিং: সাইবার বুলিং হলো প্রযুক্তির ব্যবহার করে হয়রানি করাই প্রধান লক্ষ্য । এই ধরণের বুলিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সম্পর্কে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে অথবা তাদের অনুপযুক্ত ছবি বা ভিডিয়ো পোস্ট করে নাগরিকদের হয়রানি করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের উপর।

সাইবার প্রতারণা রুখতে কার্টুন সিরিজের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারের উদ্যোগ