ETV Bharat / technology

হঠাৎ আকাশ থেকে উধাও চাঁদ! তাতেই উড়তে পারে রাতের ঘুম, ধ্বংস হতে পারে সভ্যতা - IF THE MOON DISAPPEAR

Moonless Earth: 'চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে', জনপ্রিয় এই গান যে চাঁদের সৌন্দর্যতাকে নিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়েও চাঁদের মাধুর্যে ডুবে যাননি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার ৷ কিন্তু হঠাৎ যদি পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যায় চাঁদ তবে কী হবে ভেবে দেখেছেন...

Moonless Earth
প্রতীকী ছবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Tech Team

Published : September 3, 2024 at 5:19 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ: পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ ৷ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে চাঁদের কেন্দ্রের গড় দূরত্ব 384,400 কিলোমিটার ৷ পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসতে চাঁদের সময় লাগে গড়ে 28 দিন ৷ এই নির্দিষ্ট সময়কাল হল এক মাস ৷ বৈজ্ঞানিক মতে চাঁদ 4.5 বিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে । কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন হঠাৎ চাঁদ অদৃশ্য হয়ে গেলে কী হবে? মানবসভ্যতা কতটা প্রভাবিত হতে পারে ৷

আমরা আজ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে যাচ্ছি। নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, চাঁদবিহীন পৃথিবীর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।"গ্রহের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাঁদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে," এই তথ্য উল্লেখ করেছেন গবেষক মারিয়া রদ্রিগেজ।

জোয়ার-ভাটায় ব্যাঘাত: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণের কারণে নদী-সমুদ্রের জলস্তর ফুলে ওঠে। এই জলস্তর বেড়ে যাওয়াকে জোয়ার এবং কমে যাওয়াকে ভাটা বলে হয় ৷ চন্দ্রগ্রহণের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সমুদ্রের উপর। যার কারণে উপকূলীয় এলাকাতেও ভাঙন দেখা যায় ৷ জোয়ারের কারণে বন্যা পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। হঠাৎ ধরুন পৃথিবীকে চাঁদ হারিয়ে গেল চিরতরে, তবে যে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটবে এবং জোয়ার- ভাটায় প্রভাব পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জলবায়ু পরিবর্তন: চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর অক্ষকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। সকলেই জানি পৃথিবী 23.5 ডিগ্রি হেলে থাকে। চাঁদের অনুপস্থিতির কারণে অক্ষ পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা ৷ এরফলে আবহাওয়ার পরিবর্তনও হতে পারে । ফল স্বরূপ পৃথিবীর কিছু অংশের তাপমাত্রা বাড়বে এবং কিছু অংশের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাবে। মানব সভ্যতার উপর প্রভাব ফেলবে ৷

ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ কারণে এই প্লেটগুলি স্থির আছে ৷ পৃথিবীতে চাঁদের আকর্ষণ শক্তির প্রভাব না থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতও বাড়ত। ফলে জীব জগতের অস্তিত্ব যে বিলীন হত ধীরে ধীরে তা বলার অপেক্ষা রাখে না ৷

বিঘ্নিত ঘুম: চাঁদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ঘুম। আমরা সকলেই জানি মানব দেহে একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি রয়েছে ৷ যা ঘুমের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কাজ করা বন্ধ কর দিল ঘুমের ব্যঘাত ঘটবে। আর ঘুমের ব্যাঘাত হলেই ক্লান্তি ও শারীরে নানা সমস্যা তৈরি হবে। তাই ঘুম অত্যন্ত জরুরি ৷ ঘুম বা শরীরের ঘড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদ ৷ পরোক্ষ ভাবে হলেও ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদ ৷

চাঁদে কী কী আছে: মহাকাশ অনুসন্ধানের একটি অংশ চাঁদ। মহাকাশ গবেষণার জন্য চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের উপগ্রহ। এই উপগ্রহে জীব জগৎ সৃষ্টি হতে পারে কি না সেই অনুসন্ধান চালাচ্ছেন গবেষকার ৷

চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ: অবশেষে, একটি চাঁদবিহীন পৃথিবীর ধারণা আমরা করতেই পারি না ৷ চাঁদের অনুপস্থিতি যে মহাসাগর, জলবায়ু, ভূতত্ত্ব এবং এমনকী আমাদের স্বাস্থ্যের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীতে যেভাবে দূষণ বাড়ছে, তাতে গ্রহটি তার ভারসাম্য হারাতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা ৷ তার প্রভাবে একটি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পারে চাঁদ ৷ সেই পরিস্থিতির আগে সাবধান হওয়ার কথা বলেছেন গবেষকরা ৷