ETV Bharat / state

প্রেমের ফাঁদ পেতে চাকরি দেওয়ার নামে লাক্ষাধিক টাকা প্রতারণা, 'প্রেমিকা'র অভিযোগে ধৃত যুবক

চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা ৷ প্রেমিকার অভিযোগের ভিত্তিতে মালদায় ধৃত যুবক ৷ প্রতারিত তরুণী কলকাতার বাসিন্দা ৷

youth-arrested-for-a-job-fraud-scam
'প্রেমিকা'র অভিযোগে ধৃত যুবক (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 10, 2025 at 3:09 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 10 অক্টোবর: প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় আলাপ ৷ তারপর ঘনিষ্ঠতা ৷ ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা ৷ তারপর প্রেমিকাকে চাকরি করে দেওয়ার প্রস্তাব ৷ এই বাজারে এমন প্রস্তাব ! তাও আবার প্রেমিকের ৷ প্রস্তাব লুফে নেন কলকাতার বাসিন্দা এক তরুণী ৷ পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কয়েক লাখ টাকা তাঁর কাছ থেকে আদায় করে 'প্রেমিক' ৷

কিন্তু চাকরির কোনও নামগন্ধ নেই ৷ তখনই সন্দেহ হয় ওই তরুণীর ৷ তিনি প্রেমিকের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ অভিযোগ পেয়ে সক্রিয় হয় পুলিশ ৷ শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার মাঝরাতে মালদা জেলার চাঁচল 1 নম্বর ব্লকের দক্ষিণ পাড়া এলাকা থেকে প্রতারক যুবককে গ্রেফতার করে বারাসত থানার পুলিশ ৷ শুক্রবার ভোরে ধৃতকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে সেখানকার পুলিশ ৷

ধৃত যুবকের নাম অসীম সরকার ৷ তাঁর বাড়ি কিংবা অন্য কোনও পরিচয় এখনও পুলিশের তরফে জানানো হয়নি ৷ তবে তিনি চাঁচলের বাসিন্দা নন ৷ কয়েক মাস আগে দক্ষিণ পাড়ার একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন ৷ এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তাঁকে এলাকায় প্রায় দেখাই যেত না ৷ রাতে বাড়িতে আসতেন, সকাল হলে বেরিয়ে যেতেন ৷ তিনি কী করতেন, কোথায় থাকতেন, তা কেউ জানেন না ৷ তিনিও কারও সঙ্গে খুব একটা কথাবার্তা বলতেন না ৷

youth-arrested-for-a-job-fraud-scam
প্রেমের ফাঁদ পেতে চাকরির নামে প্রতারণা (ইটিভি ভারত)

চাঁচল থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অসীম নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসাবে তাঁর পরিচয় দিতেন ৷ শুধু সরকারি নয়, একাধিক বেসরকারি সংস্থাতেও তিনি নাকি নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন ৷ সেসব সংস্থার মধ্যে অনেক বহুজাতিক সংস্থাও রয়েছে ৷ কিছুদিন আগে কলকাতার এক তরুণী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম সেলে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৷ সেখানে তিনি জানান, অসীম তাঁর প্রেমিক ৷ তাঁকে সরকারি দফতরে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে কয়েক লাখ টাকা আদায় করেছে ৷ কিন্তু অনেকদিন হয়ে গেলেও চাকরির কোনও নামগন্ধ পাচ্ছিলেন না তিনি ৷

এরপর তিনি যখন চাকরির চাপ দিতে শুরু করেন তখন থেকে অসীম তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করে ৷ তিনি বুঝতে পারেন, অসীম তাঁকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে ৷ তাই তিনি অসীমকে টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ দেন ৷ এরপর অসীম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয় ৷ তাই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ৷ মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে অসীমের সন্ধান পায় বারাসত থানার পুলিশ ৷ গতকাল বারাসত থানার অফিসাররা অসীমকে ধরতে চাঁচলে উপস্থিত হন ৷ অবশেষে চাঁচল থানার পুলিশের সহযোগিতায় অসীমকে গ্রেফতার করে ওই থানার পুলিশ ৷ তাঁকে নিয়ে বারাসত চলে গিয়েছেন সেখানকার পুলিশ অফিসাররা ৷

জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “এই কেসের পুরো তথ্য আমাদের কাছে নেই ৷ এক যুবককে গ্রেফতার করতে বারাসত থানার পুলিশ চাঁচল থানার পুলিশের সাহায্য চায় ৷ তাদের সেই সাহায্য করা হয়েছে ৷ ধৃতকে নিয়ে বারাসত থানার পুলিশ ফিরে গিয়েছে ৷”