মদের আসরে পিটিয়ে খুন ! যুবকের রক্তাক্ত দেহ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীর বাড়িতে
প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর ছেলে ও তাঁর মা এবং দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে । খুন না অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।

Published : September 8, 2025 at 7:28 PM IST
মধ্যমগ্রাম, 8 সেপ্টেম্বর: অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীর বাড়িতে মিলল যুবকের রক্তাক্ত দেহ ৷ মৃতের নাম বুদ্ধদেব মণ্ডল । অভিযোগ, মদের আসরে ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে । অভিযোগের আঙুল যুবকের বন্ধুদের দিকেই । বচসা, হাতাহাতি চলাকালীন বছর 24-এর এই যুবককে বন্ধুরা মিলে খুন করেছে বলে দাবি স্থানীয়দেরও ।
ঘটনার জেরে সোমবার শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামের হুমাইপুরে । এই ঘটনায় প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর ছেলে আজাদ রহমান ও তাঁর মা এবং দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে । এটি খুন না অন্য কোনও ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ । তবে যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে পুলিশও মনে করছে এটি খুনের ঘটনা । যদিও বিষয়টি নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা । ঘটনার তদন্তে নেমেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ।
অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী মতিয়ার রহমানের ছেলে আজাদ বাড়িতে প্রায় দিনই মদের আসর বসাতেন । স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেই মদের আসরে নিয়মিত চলত ঝগড়াঝাটি । কখনও কখনও চিৎকারও ভেসে আসত তাঁদের কানে । সোমবারও আজাদ এবং তাঁর বন্ধুরা মদের আসর বসিয়েছিল । সেই সময় হঠাৎ তাঁদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া । চলে কথা কাটাকাটিও । যা পরবর্তীতে গড়ায় হাতাহাতিতে । সেখানে হাজির ছিলেন বুদ্ধদেবও । ওই মদের আসরে উপস্থিত অন্যরা এই যুবককে পিটিয়ে খুন করেছে বলেই অভিযোগ উঠেছে ।
এদিন সকালে মতিয়ার রহমানের বাড়ির বাগানে বুদ্ধদেবের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা । যুবকের গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল আঘাতের চিহ্ন । তা দেখে মধ্যমগ্রাম থানায় খবর দেন তাঁরা । খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবকের দেহ উদ্ধার করে তা ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় বারাসত মেডিক্যাল কলেজে । এই ঘটনায় প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর ছেলে, স্ত্রী ও আজাদের দুই বন্ধুকে আটক করেছে ।

গোটা ঘটনায় আজাদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এলাকার লোকজন । স্থানীয় বাসিন্দা জামাইল ইসলাম বলেন, "প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ির ভিতরে নেশার আসর বসাতেন আজাদ । সেই আসরে ভিড় জমাতেন বাইরের লোকজনও । এ নিয়ে বলেও কোনও সুরাহা হয়নি । রবিবার সন্ধ্যাতেও সেখানে মদের আসর বসেছিল । সম্ভবত সেই আসরেই যুবককে খুন করে দেহ পরের দিন সকালে ফেলে দেওয়া হয়েছে । পুলিশ চার জনকে ধরে নিয়ে গিয়েছে । আমরা চাই, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক । যাতে কেউ এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর আগে দু'বার ভাবে !"

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার পদস্থ এক পুলিশ কর্তা বলেন, "গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে । কেন মদের আসরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । খুনের ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয়েছে । আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে । জেরায় সন্দেহজনক কিছু মিললেই তাঁদের গ্রেফতার করা হতে পারে ।"

