ETV Bharat / state

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় প্রসূতির মৃত্যু, থানা ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ

102 নম্বরে বার বার ফোন করেও দেড় ঘণ্টা পরও অ্যাম্বুলেন্স আসেনি বলে অভিযোগ । প্রসূতির মৃত্যুতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে কাঠগড়ায় তুলেছে মৃতের আত্মীয় পরিজনরা ৷

woman death in Farakka
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মৃত্যু প্রসূতির (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 13, 2025 at 12:42 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ফরাক্কা, 13 অক্টোবর: রেফার করার পরও টানা দেড় ঘণ্টা ধরে মরিয়া প্রচেষ্টা । 102 নম্বরে ফোনের পর ফোন । তবুও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স মেলেনি বলে অভিযোগ ৷ শেষমেশ সন্তানের জন্ম দিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মা । এই ঘটনায় সোমবার পরিবারের তরফে ফরাক্কা থানা ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করা হয় ৷

হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার নবনির্মিত ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে । মৃত গৃহবধূর নাম জামিলা খাতুন (25) । তাঁর বাড়ি ফরাক্কার ইমামনগর গ্রামে । ঘটনার পর ফরাক্কা ব্লক হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান মৃতের আত্মীয়রা ৷

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না মেলায় প্রসূতির মৃত্যু, থানা ও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ (ইটিভি ভারত)

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকালে প্রসব যন্ত্রণায় কাতর জামিলাকে ফারাক্কা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় । সেখানে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন । কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে । হাসপাতালের চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁকে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করেন । এরপর শুরু হয় অপেক্ষা ৷

মৃতের আত্মীয় বরজাহান আলি বলেন, "ছেলে হওয়ার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হয় ৷ তাকে রেফার করা হয় ৷ এরপর একবার নয়, বারবার ফোন করা হয় 102 নম্বরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে । তবুও দেড় ঘণ্টা কেটে যায়, কিন্তু দেখা মেলেনি অ্যাম্বুলেন্সের । তাই ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককেও ফোন করা হয়েছিল ৷ সেখান থেকেও কোনও উত্তর মেলেনি ৷"

অবশেষে দীর্ঘক্ষণ পর নিজেদের উদ্যোগেই অর্জুনপুর হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে ওই গৃহবধূকে জঙ্গিপুর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আত্মীয়রা । কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে ৷ অসহায় পরিবারের চোখের সামনেই মৃত্যু হয় জামিলা খাতুনের । নবজাতককে কোলে নিয়েই ভেঙে পড়েন আত্মীয়রা । মুহূর্তে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে শুরু হয় ক্ষোভ ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস যদি সময়মতো না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এটা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যর্থতা । ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় ফারাক্কা থানার পুলিশ । ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিন বলেন, "পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে । কী হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।" অ্যাম্বুলেন্স না আসার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে ফরাক্কা ব্লক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

এদিকে এক নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখল ঠিকই, কিন্তু জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মা-কে হারাল । প্রশ্ন উঠছে-একটি ফোনকলের জবাব সময়মতো পেলে কি বাঁচানো যেত না এই গৃহবধূকে? স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । সাধারণ মানুষের অভিযোগ, শুধু ফারাক্কা ব্লক নয়, সর্বত্রই 102 নম্বর অ্যাম্বুলেন্সের গাফিলতি পরিলক্ষিত হচ্ছে । অবিলম্বে বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে গুরুত্ব সহকারে দেখার দাবি জানিয়েছেন আমজনতা ।

ফরাক্কা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার সারফ হোসেন বলেন, "হ্যাঁ অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি করে ৷ সঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছলে হইতো রোগীকে বাঁচানো যেত । কারণ তাহলে রোগীর চিকিৎসা শুরু করা যেত ঠিক সময়ে ৷"