পরকীয়ার জেরে খুন ! খাটের তলায় কম্বলে জড়ানো বউদির দেহ, পলাতক দেওর
10 বছর ধরে দেওরের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক মৃতের ! সম্পর্ক থেকে বেরোতে চাইলে মারধরের অভিযোগ দেওরের বিরুদ্ধে ৷

Published : September 9, 2025 at 7:56 PM IST
গোবরডাঙা, 9 সেপ্টেম্বর: খাটের তলায় কম্বল জড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হল এক মহিলার দেহ ৷ মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর 24 পরগনার গোবরডাঙার সাহাপুর এলাকায় ৷ আর এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক মহিলার দেওর ৷ অভিযোগ, বৌদিকে খুন করে দেহ খাটের তলায় লুকিয়ে রেখে পালিয়ে গিয়েছেন অভিযুক্ত দেওর প্রদীপ দত্ত ৷ মৃত মহিলার নাম মিঠু দত্ত (43) ৷
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে মিঠুর স্বামী নিখোঁজ হয়ে যান ৷ তারপর থেকে তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন ৷ দেওর প্রদীপের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে আছে ৷ কিন্তু, তাঁদের ছেড়ে প্রদীপ বেশ কিছুদিন ধরে বৌদি মিঠুর বাড়িতে থাকা শুরু করেছিলেন ৷ সেখান থেকেই দেওর ও বৌদির মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের ৷
সোমবার রাত থেকে মিঠুর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ৷ তাঁর ছেলেরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও মায়ের সন্ধান পাননি ৷ এরপর মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রদীপেরও কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না ৷ ইতিমধ্যে ঘরের ভিতর থেকে পচা গন্ধ বেরোতে শুরু করে ৷ মিঠুর ছেলেরা প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন ৷
কীসের গন্ধ বেরোচ্ছে, তা দেখতে খাটের তলায় উঁকি দিলে কম্বলে জড়ানো অবস্থায় দেহ দেখতে পান তাঁরা ৷ এরপর গোবরডাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, খাটের তলা থেকে কম্বল জড়ানো অবস্থায় মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে ৷ জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল ৷ ভারী কিছু দিয়ে মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে ৷
দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে ৷ কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ ৷ তবে, ঘটনার পর থেকে দেওর প্রদীপের কোনও সন্ধান না-মেলায়, তাঁকে প্রাথমিক সন্দেহের তালিকায় রাখছেন তদন্তকারীরা ৷ নিহতের পরিবারও প্রদীপ দত্তের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছেন ৷

এই বিষয়ে মৃত মহিলার ছোট ছেলে বলেন, "সকালে কিছুক্ষণের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলাম ৷ সম্ভবত সেই ফাঁকেই খুনের ঘটনাটি ঘটে ৷ হয়তো কোনও কারণে কথা কাটাকাটি কিংবা ঝামেলা হয়ে থাকতে পারে মা ও কাকা মধ্যে ৷ দেখলাম গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে ৷ কাকাই খুন করেছে মাকে ৷ পুলিশ তদন্ত করে দোষীকে কঠোর শাস্তি দিক সেটাই চাই ৷"
মৃতের এক আত্মীয় বলেন, "মামা প্রায় বারো বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ৷ ওঁর অবর্তমানে মামি ছোট মামার সঙ্গে থাকছিলেন ৷ সামাজিক মতে বিয়ে না-করলেও, দু'জনের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল ৷ এটা পরিবারের সকলেই জানত ৷ দুই ছেলে বড় হয়ে যাওয়ার পর, মান সম্মানের ভয়ে তাঁরা দু'জনেই মামিকে বোঝাত, এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ৷ সেটা নিয়ে বললে ছোট মামা মদ খেয়ে আরও হুজ্জতি করতেন ৷"
বিষয়টি নিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস বলেন, "মৃতদেহ উদ্ধার করে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য ৷ নিখোঁজ দেওরের খোঁজ চালানো হচ্ছে ৷ তিনি গ্রেফতার হলেই কী থেকে এই ঘটনা, তা স্পষ্ট হবে ৷ তদন্ত চলছে ৷"

