ETV Bharat / state

স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা, সন্তানকে খুন করে বিষ খেলেন মা

ভাত দেওয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে ৷ বিষ খেয়ে মরে যেতে বলেছিলেন ৷ সেই রাগেই কি এহেন সিদ্ধান্ত, কী বলছেন অভিযুক্ত মা ?

mother kills son
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 13, 2025 at 11:23 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 13 অগস্ট: মর্মান্তিক ! পারিবারিক সমস্যার জেরে নিজের দুধের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন করলেন মা ৷ এমনকি সন্তানকে খুনের পর বিষপান করে নিজেও জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি ৷ মঙ্গলবার সন্ধেয় ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার গাজোল ব্লকের করকচ গ্রাম পঞ্চায়েতের আহোড়া গ্রামে ৷

বিষয়টি জানাজানি হতেই পরিবারের লোকজন এবং গ্রামের বাসিন্দারা মা ও সন্তানকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি স্থানীয় গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় ৷ তবে সেখানকার চিকিৎসকরা দু'বছর বয়সি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ৷ বাচ্চাটির দেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাজোল থানার পুলিশ ৷ বুধবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হবে ৷ মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গাজোল থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷

জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, "এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷ তবে গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে গাজোল থানার পুলিশ ৷ বুধবার বাচ্চাটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যালে পাঠানো হবে ৷ মায়ের শারীরিক পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্থিতিশীল ৷ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে ৷"

স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর তিনেক আগে আহোড়া গ্রামের বাসিন্দা গণেশ সরকারের সঙ্গে আদিনা এলাকার 22 বছর বয়সি জনকা মণ্ডলের বিয়ে হয় ৷ বিয়ের এক বছর পর পুত্রসন্তানের জন্ম দেন জনকা ৷ মঙ্গলবার সন্ধেয় সেই সন্তান, গৌরবের প্রাণ কেড়ে নিয়েছেন তিনি নিজেই ৷ কিন্তু হঠাৎ কী এমন ঘটল ?

গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদে জনকা নিজেই বলেন, "সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিল না ৷ আমি নিজেই বাচ্চাকে বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছি ৷ তারপর নিজে দু'বার বিষ খেয়েছি ৷ তাতেও আমার কিছু হয়নি ৷ আমি বাচ্চার মা হই ৷ এই ঘটনার জন্য আমিই দায়ী ৷ এর বেশি আর কিছু বলতে পারব না ৷"

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদেরও তিনি একই কথা জানান ৷ সেখানে তিনি এই ঘটনার কারণ বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, "গত পরশু স্বামীকে ভাত খেতে দিয়েছিলাম ৷ ও বেশি ভাত খায় না ৷ তাই অল্প করেই ভাত দিয়েছিলাম ৷ তাতে স্বামী আমাকে অনেক কটু কথা শোনায় ৷ আমাকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলে ৷ আমার শ্বশুর কিংবা স্বামী, কেউই আমাকে দেখতে পারে না ৷ তাই জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিই ৷ আর আমি যদি মরে যাই তাহলে আমার বাচ্চার কী হবে ? ও তো এমনিতেই মরে যাবে ৷ তাই বাচ্চাকে বালিশ চাপা দিয়ে আমি মেরে ফেলেছি ৷ তারপর দু'বার বিষ খেয়েছি ৷ তাতেও আমার মরণ হয়নি ৷ তারপর ব্লেড দিয়ে নিজের গলা ও দুই হাতের শিরা কেটে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করি ৷"

জনকার স্বামী গণেশ সরকার বলেন, "আমি বিদ্যুৎ দফতরের অস্থায়ী কর্মী ৷ ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলাম না ৷ কাজে গিয়েছিলাম ৷ খবর পেয়েই বাড়িতে ছুটে যাই ৷ ছেলেকে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসি ৷ কিন্তু লাভ কিছু হয়নি ৷ চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, অনেকক্ষণ আগেই ছেলের মৃত্যু হয়েছে ৷ স্ত্রীর সঙ্গে আমার এমন কিছু ঘটনা ঘটেনি যে এত বড় কাণ্ড ঘটবে ৷ যে কোনও সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অল্পবিস্তর ঝগড়া হতেই পারে ৷ কিন্তু তার জন্য এত বড় শাস্তি ? আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না ৷"

জনকার শ্বশুরমশাই গোবিন্দ সরকারের কথায়, "ঘটনার সময় আমিও বাড়িতে ছিলাম না ৷ রেশন আনতে গিয়েছিলাম ৷ বাড়িতে বউমা আর নাতি ছিল ৷ রেশন নিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি, তারা ঘুমিয়ে রয়েছে ৷ আমি ফের বাইরে চলে যাই ৷ খানিক পর জানতে পারি, বউমা আমার নাতিকে খুন করে নিজে বিষ খেয়েছে ৷ সঙ্গে সঙ্গে ওদের হাসপাতালে নিয়ে আসি ৷ নাতিকে খুনের কথা বউমা স্বীকার করেছে ৷ আমি ওর বিরুদ্ধে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করব ৷"

আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়

যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।