উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ, দক্ষিণে বৃষ্টির প্রভাব কতটা ? জানাল হাওয়া অফিস
নতুন সপ্তাহে কেমন থাকবে বঙ্গের আবহাওয়া ? উত্তর থেকে দক্ষিণ, কোথায় কেমন বৃষ্টি ? জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর ৷

Published : August 3, 2025 at 8:13 AM IST
কলকাতা, 3 অগস্ট: দক্ষিণবঙ্গ থেকে সরে উত্তরবঙ্গের উপর অবস্থান করছে ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী অক্ষরেখা ৷ ফলে, নতুন সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমবে দক্ষিণবঙ্গে ৷ তবে, ভিজবে উত্তরবঙ্গ ৷ এমনটাই জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর ৷ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরের কোনও কোনও জেলায় ৷
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে অবস্থিত ঘূর্ণাবর্তটি বর্তমানে পূর্ব বিহার এবং হিমালয় পর্বত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে অবস্থান করছে । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 5.8 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে সেটি ৷ মৌসুমী অক্ষরেখাটি ফিরোজপুর, অম্বালা, নাজিবাবাদ, শাহজাহানপুর, বারাবাঁকি, গোরখপুর, মুজাফফরপুর, পুরনিয়া, বহরমপুর হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হয়েছে ৷ এর প্রভাবে রাজ্যের বাতাসে প্রবেশ করেছে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প । ফলে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিস্তৃত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ কিছু কিছু জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে ।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস:-
- রবিবার উত্তরের বেশিরভাগ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারের কিছু জায়গায় ভারী-অতিভারী বৃষ্টিপাত (7-20 সেমি) এবং কয়েকটি জেলায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের (20 সেমি-র বেশি) সম্ভাবনা রয়েছে ।
- সোমবার উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । তবে, উপরের 5 জেলা- দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত (7–20 সেমি) এবং দুই দিনাজপুর ও মালদায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের (7–11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ৷
- মঙ্গলবার উত্তরের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । উপরের পাঁচ জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের (7–11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ।
- বুধবার বেশিরভাগ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে । তবে, উপরের দু'টি জেলা- জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের (7–11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ।
- বৃহস্পতিবার উত্তরের প্রায় সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের (7–11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ।
- শুক্রবার উত্তরের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ -সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । উপরের 5 জেলা- দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের (7–11 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ৷
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস:-
- রবিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ।
- বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই বর্ধমান এবং দুই 24 পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত সঙ্গে ঘণ্টায় 30 থেকে 40 কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে ।
- সোমবার দক্ষিণের প্রায় সমস্ত জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । সেই সঙ্গে ঘণ্টায় 30-40 কিমি গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে ৷
- মঙ্গলবার এবং বুধবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷
- বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । নদিয়া ও উত্তর 24 পরগনায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের (7-20 সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে ।
- শুক্রবার দক্ষিণের জেলাগুলির অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবহাওয়ার পূর্বাভাস:-
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা 32 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 27 ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে ৷ দিনের আকাশ থাকবে মেঘলা ৷ বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৷
শনিবার কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল 32.2 ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে 0.3 ডিগ্রি কম । সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল 26.8 ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে 0.2 ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি । বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে সর্বোচ্চ 96 শতাংশ এবং সর্বনিম্ন 75 শতাংশ ৷

