'মানুষকে মূল স্রোতে ফেরালে আর মাওবাদী সমস্যা থাকবে না', মত ফিরহাদের
আগামী 2026 সালের 31 মার্চের মধ্য়ে দেশ থেকে মাওবাদী মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র ৷ সংসদে সেই কথা বারবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ৷

Published : March 23, 2025 at 1:11 PM IST
কলকাতা, 23 মার্চ: দেশকে মাওবাদী মুক্ত করতে নয়া পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র ৷ আগামী 2026 সালের 31 মার্চের মধ্য়ে দেশ থেকে মাওবাদী মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র ৷ সংসদে সেই কথা বারবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ৷ তবে, বন্দুকের নলে নয় উন্নয়নের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন হবে বলে মনে করেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম । সেই পথে অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে মাওবাদী সমস্যা সমাধান করেছেন বলে দাবি তাঁর ।
সম্প্রতি একাধিক জায়গায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে । গত বৃহস্পতিবার ছত্তিশগড়ের বাস্তার রিজিয়ন দুই এলাকায় সন্দেহভাজন নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে 30 জনেরও বেশি মাওবাদীর প্রাণ গিয়েছে । সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা নির্মূল করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ।
তবে, কেন্দ্র সরকার যে পদ্ধতীতে মাওবাদী নিকেশ অভিযান চালাচ্ছে, তা নিয়ে ঘুরিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী ৷ ফিরহাদ হাকিমের কথায়, "এক বন্দুকের নল, দুই হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে আসা । মানুষের মধ্য়ে চরমপন্থী মনোভাব তৈরি হয় পেটের খিদে থেকে ৷ গরিব মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এই সমস্ত পথে নিয়ে আসা হয় । আমলাশোল, জঙ্গলমহল যেখানে মাওবাদী ছিল সেখানে মানুষকে মূল স্রোতে ফিরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাই সেখানে বন্দুক ধরতে হয়নি ৷ বড় নেতা কিশানজি ছাড়া গুলি চালাতেও হয়নি ।"
কলকাতার মেয়র আরও বলেন, "মানুষ সমর্থন না করলে কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী থাকতে পারে না । মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিলে সেই সমস্যা মিটে যাবে । সবার পেটে ভাত, সবার হাতে কাজ থাকলে আর বন্দুক ধরতে হবে না ৷ ভিলেজ পুলিশে কাজ পেয়েছে বেকার ছেলেরা । বিপথে যাতে না যায় পেটের ভাত দিতে হবে । যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে ।"
ফিরহাদ হাকিমের দাবি, জঙ্গলমহল এলাকার প্রচুর ছেলে-মেয়ে এখন কলকাতা-সহ আশপাশ এলাকায় কাজে আসেন । বাংলার সেরা খেলোয়াড়রা জঙ্গলমহলের বাসিন্দা । আর এই কাজ মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সম্ভব হয়েছে ৷ তাঁর কথায়, "একটি গোষ্ঠীকে মারলে আরও এক গোষ্ঠী জন্ম নেবে ।"

