ETV Bharat / state

হাতি বাঁচাতে দক্ষিণবঙ্গেও রেললাইনে ডিএএস প্রযুক্তি আনার প্রস্তাব বন দফতরের

দক্ষিণবঙ্গে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে উত্তরবঙ্গের মতোই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ রাজ্যের বন দফতরের ৷

elephant deaths on railway tracks
রেললাইনে হাতির মৃত্যু (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 18, 2025 at 8:06 AM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 18 অগস্ট: উত্তরের মতো এবার দক্ষিণবঙ্গের রেললাইনে হাতির মৃত্যুমিছিল থামাতে উদ্যোগী হল রাজ্যের বন দফতর ৷ সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের বাস্তোলা রেলস্টেশনের কাছে বারবিল-হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় তিনটি হাতির মৃত্যু হয়, যার মধ্যে দু'টি ছিল শাবক। ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্যের বন দফতর রেল কর্তৃপক্ষকে ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকোস্টিক সেন্সিং (ডিএএস) প্রযুক্তি চালু করার আহ্বান জানিয়েছে ৷

বন দফতরের দাবি, রেলের সঙ্গে যৌথ পরিদর্শনে ইতিমধ্যেই একাধিক সংবেদনশীল জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে হাতির যাতায়াতের সম্ভাবনা প্রবল। এই এলাকাগুলিতে ডিএএস প্রযুক্তি বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ৷ বিশেষ করে পাঞ্চেত ও রূপনারায়ণ বিভাগকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে ধরা হয়েছে ৷ রাজ্যের প্রধান বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কর্তা সন্দীপ সুন্দরিয়াল জানিয়েছেন, “উত্তরবঙ্গে এই প্রযুক্তি সফল ফল দিয়েছে । হাতির রেললাইন পারাপার সেখানে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও প্রযুক্তির মাধ্যমে বহু দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে । দক্ষিণবঙ্গেও এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

পরিসংখ্যান বলছে, গত 40 বছরে দক্ষিণবঙ্গে হাতির সংখ্যা প্রায় 10 গুণ বেড়েছে ৷ 1985 সালে যেখানে হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র 22, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় 225 (চলতি বছরের হিসাবে)। অন্যদিকে, খড়গপুর–টাটানগর–রাউরকেলা লাইনে হাতির চলাচল বেশি হয়। 2000 সাল থেকে এপর্যন্ত শুধু এই রুটেই ট্রেনের ধাক্কায় 65টিরও বেশি হাতি প্রাণ হারিয়েছে ৷

ডিএএস প্রযুক্তি মূলত রেলের উদ্ভাবিত একটি অনুপ্রবেশ-সতর্কতা ব্যবস্থা, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রেললাইনের ধারে হাতির উপস্থিতি বা নড়াচড়া শনাক্ত করে। সিস্টেমটি একযোগে চালক, স্টেশন ম্যানেজার এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠায়, যাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এই প্রযুক্তিতে ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকোস্টিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়, যা মূলত অপটিক্যাল ফাইবার এবং হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে গঠিত। এই সেন্সরগুলি রেললাইনের পাশে বসানো থাকে এবং হাতির পায়ের শব্দ বা অন্যান্য কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে। এই সংকেতগুলি একটি কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পাঠানো হয়, যা ট্রেনের চালকদের সতর্ক করে এবং হাতিদের রেললাইন অতিক্রম করার সময় দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।

শুধু প্রযুক্তিই নয়, বন দফতর চালকদেরও সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিজ্ঞ চালকদেরই ঝুঁকিপূর্ণ রুটে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রেলকে সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চালকদের হাতির আচরণ ও চলাফেরা সম্পর্কে বোঝাতে নিয়মিত ওরিয়েন্টেশন কর্মশালার আয়োজন হচ্ছে। বন দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, “সন্ধ্যা ও ভোরবেলা হাতির চলাচল বেশি হয়। তাই ওই সময় গতি নিয়ন্ত্রণের জন্যও রেলকে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

এই সমস্ত পদক্ষেপ কার্যকর হলে দক্ষিণবঙ্গের হাতিদের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে বন দফতর ও পরিবেশবিদদের আশা।