ETV Bharat / state

মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন ছাড়া স্থায়ীপদে নিয়োগ নয়, নির্দেশ পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের

পুর নিয়োগে দুর্নীতির মতো ঘটনা এড়াতে নয়া নির্দেশ পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ৷ এখন থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন মারফত নিয়োগ বাধ্যতামূলক ৷

UDMA INSTRUCTIONS OVER RECRUITMENTS
কলকাতা পুরনিগম ৷ (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 9, 2025 at 8:49 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 9 মার্চ: পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে মুখ পুড়েছে রাজ্যের ৷ তাই এবার পুরনিগম ও পুরসভাগুলির নিয়োগ নিয়ে কঠোর রাজ্য সরকার ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর মিউনিসিপ্যালিটি হোক বা ডেভলপমেন্ট অথরিটি, স্থায়ী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ করতে হবে ৷ এই মর্মে সম্প্রতি রাজ্যের সব পুরনিগম, মিউনিসিপ্যালিটি, উন্নয়ন পর্ষদ ও শিল্প উন্নয়ন পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ৷

কলকাতা-সহ দু-একটি পুরনিগম স্থায়ীপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ করে থাকে কর্মীদের ৷ তবে, বিভিন্ন মিউনিসিপ্যালিটি বা উন্নয়ন পর্ষদগুলিতে পর্ষদের চেয়ারম্যান বা মিনিসিপ্যালটি চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বলে স্থায়ীপদে নিয়োগ হয়েছে অতীতে ৷ আর স্থায়ীপদে নিয়ম না-মেনে নিয়োগের ক্ষেত্রে উঠেছে নানা অভিযোগ ৷

পুর নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েক বছরের তোলপাড় হয়েছে রাজ্য-রাজনীতি ৷ ধৃত অয়ন শীলের এজেন্সির তরফে পরীক্ষা নেওয়া থেকে শুরু করে তাঁর বাড়িতে ওএমআর শিট উদ্ধার হওয়া অথবা ব্যারাকপুর থেকে শুরু করে টিটাগর, ভাটপাড়া, কামারহাটি-সহ একাধিক পুরসভায় কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে ৷

আর এসব নিয়ে কার্যত অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে ৷ সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের এক বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে আর কোনও নিয়োগ পুরসভা বা উন্নয়ন পর্ষদ করতে পারবে না ৷ বাধ্যতামূলকভাবে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ করতে হবে ৷ এরপর তড়িঘড়ি পুর ও নগরোন্নয়ন দফরের সঙ্গে মিউনিসিপ্যালিটি ও উন্নয়ন পর্ষদগুলি বৈঠকে বসে ৷ তারপর সম্প্রতি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয় ৷ সেখানে স্থায়ী পদে নিয়োগ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে ৷

তবে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে আছে অনুমোদনের বিষয় ৷ চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই ফাইল পাঠাতে হয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং অর্থ দফতরের কাছে ৷ তাদের সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে তবেই নিয়োগ হয় ৷ একটা সময় শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে যথেচ্ছ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল ৷ একাধিক পুরসভা ও পর্ষদগুলির মুখ পুড়েছিল ৷ সরকারের এই পদক্ষেপে সেই ঘটনা আর ঘটবে না বলেই আশা করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ ৷

পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, 2018-2019 সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন গঠন করা হয় ৷ কমিশনের আইন অনুযায়ী, পরীক্ষার মাধ্যমে স্থায়ী পদে নিয়োগ হবে ৷ সেই পরীক্ষা ও নিয়োগ পদ্ধতি গোটাটাই পরিচালনা করবে ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন ৷

একাধিক ক্যাটাগরিতে এই পরীক্ষাগুলি হয় ৷ 'এ' ক্যাটাগরি পদ, 'বি' ক্যাটাগরি পদ ও 'সি' ক্যাটাগরি পদে নিয়োগের পদ্ধতি এবং 'এ' ও 'বি' ক্যাটাগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতি অনুসরণের বিষয়ে প্রয়োজনে বিভাগ এবং কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে সংশ্লিষ্ট লোকাল বডিকে ৷

এই নির্দেশিকা জারির আগেই কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি রায় দেয় ৷ বাম আমলে নিয়োজিত কর্মীদের পেনশন প্রভিডেন্ট ফান্ড-সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে দায়ের হয়েছিল ওই মামলা ৷ সেখানেও নিয়োগ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ৷ তাই পুর ও নগরোন্নয় দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, "শহুরে স্থানীয় সংস্থাগুলি যেমন পুরনিগম,পুরসভা, উন্নয়ন পর্ষদ, শিল্প উন্নয়ন পর্ষদ, নগরোন্নয় ও পুর বিষয়ক বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সংস্থায় সমস্ত কর্মীদের নিয়োগ পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন অনুযায়ী, ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে করতে হবে ৷"

এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, "সরকার চায় স্থায়ী পদে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হোক ৷ স্থানীয় ক্ষেত্রে স্থায়ীপদে নিয়োগে অনেক সময় অস্বচ্ছতা বা ত্রুটি ধরা পড়ে ৷ যা নিয়ে তোলপাড় হলে সেটা সরকারের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ৷ তাই এই সমস্যার সমাধানে স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ এই সিদ্ধান্ত সমস্ত কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি, উন্নয়ন পর্ষদের কাছে অর্থাৎ শহুরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ৷"