পাড় ভাঙছে ভাগিরথীর ! রাতের ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের, শুরু বাঁধ মেরামতের কাজ
গ্রামবাসীদের কথায়, বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ হলে তবেই তাঁরা স্বস্তিতে ঘুমতে পারবেন । ভাঙন রোধে কাজের জন্য বরাদ্দ 2 কোটি 25 লক্ষ টাকা ।

Published : August 5, 2025 at 12:06 PM IST
পূর্বস্থলী, 5 অগস্ট: ভাগিরথী নদীতে জল বাড়তেই শুরু হয়েছে নদী ভাঙন । গত কয়েকদিনে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী-1 ব্লকের নসরতপুর কিশোরীগঞ্জ-সহ বেশ কিছু এলাকায় নদীর পাড় ধসে গিয়েছে । আর পাড় ভাঙায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে গ্রামবাসীদের । যদিও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন রোধে সাময়িক বাঁধ দেওয়ার কাজ ।
বর্ষা এলেই আতঙ্ক বাড়তে থাকে ভাগিরথী নদী লাগোয়া পূর্বস্থলীর নসরতপুর, কিশোরীগঞ্জ, ঝাউডাঙা, হালচাতরা গ্রামের বাসিন্দাদের ৷ রাতের অন্ধকারে নদীর গ্রাসে চলে যায় বাড়িঘর কৃষিজমি । এমনকি আস্ত গ্রামও নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে । ফলে গ্রামবাসীরা বাড়িঘর হারিয়ে ফাঁকা মাঠের ধারে কোনরকমে ঘর বেঁধে সংসার চালাচ্ছেন । কিন্তু ভাগিরথী নদীর ভাঙন প্রতি বছর বাড়তে থাকায় আতঙ্ক গ্রাস করে গ্রামবাসীদের ।

নদীর পাড়ের মাটি ভাঙতে ভাঙতে কখন বিলীন হয়ে গিয়েছে গ্রামের বাড়িঘর, কেউ টের পায়নি । এক সময়ে সেই গ্রামে প্রায় 270টির বেশি পরিবার বসবাস করত । ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে গিয়েছেন । কেউকেউ আবার সেখান থেকে সরে গিয়ে ফাঁকা মাঠের ধারে ঘর বেঁধেছেন । এদিকে ভাঙনের জেরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটও ।

গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরেই ভাঙনের সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা । 2006 সাল নাগাদ বাঁশের খাঁচা ও পাথর দিয়ে বাঁধ মেরামতের কাজ হয়েছিল । ফের নতুন করে বাঁশের খাঁচা বানিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে । গ্রামবাসীদের কথায়, কাজ শেষ হলে তবেই তাঁরা স্বস্তিতে রাত কাটাতে পারবেন ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে নদী ভাঙনের এলাকা খতিয়ে দেখেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক আয়েশা রানি এ-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা । ভাঙন রোধে কাজের জন্য 2 কোটি 25 লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।

গ্রামবাসী সিদ্ধেশ্বর মণ্ডল বলেন, "আমরা ভয়ে আছি । আতঙ্কে আছি । যদি পাড় বাঁধানো হয় তাহলে উপকার হবে । প্রতি বছর বর্ষা এলেই গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় । অনেক ঘরবাড়ি গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে গিয়েছে । আসল গ্রামের আর কোন অস্তিত্ব নেই । আমরা বাধ্য হয়ে মাঠের মধ্যে বসবাস করি । সেটাও ভেঙে যাচ্ছে । আমাদের নিজেদের কোন জমিজায়গা নেই । যদি সরকার বাঁধ দেয় তাহলে উপকার হবে ।"
নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোমিন মণ্ডল বলেন, "বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজের জন্য 2 কোটি 25 লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ।"

