অ্যাকাউন্টে টাকা এলেও তৈরি করতে পারছে না বাড়ি, প্রশাসনের দ্বারস্থ 11টি পরিবার
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম রয়েছে ৷ বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকাও মিলেছে। তবু বাড়ি তৈরি করতে পারছে না 11টি পরিবার ৷

Published : March 23, 2025 at 4:36 PM IST
চন্দ্রকোনা, 23 মার্চ: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে নাম উঠলেও নেই নিজস্ব কোনও জায়গা ৷ সন্ধান মিলেছে এমন 11 জনের। তার মধ্যে 6 জনের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির 60 হাজার টাকা এলেও বাড়ি তৈরি করতে পারেনি অসহায় আদিবাসী পরিবারগুলি । দ্রুত সরকারি জায়গা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। এদিকে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও যাতে সেই টাকা উপভোক্তারা তুলতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন ।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা 2 নম্বর ব্লকের ভগবন্তপুর 2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের রসিয়াড়ি গ্রামের ঘটনা। কয়েকবছর ধরে রসিয়াড়ি গ্রামে জঙ্গলের ধারে মাটির বাড়ি তৈরি করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে সংসার করছেন এই আদিবাসী পরিবারগুলি। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নিজস্ব জায়গা নেই ৷ দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবারগুলি বন দফতরের জায়গায় বসবাস করে আসছে বলে জানা গিয়েছে ৷
স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে 11 জনের তালিকায় এসেছে ৷ ইতিমধ্যে 6 জনের অ্যাকাউন্টে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির 60 হাজার টাকা ক্রেডিটও হয়েছে। কিন্তু নিজস্ব জায়গা না থাকায় বাড়ি তৈরি করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের ৷ সরকারি পাট্টা তো নেই-ই, বন দফতরের দেওয়া কোনও ফরেস্ট পাট্টাও নেই ৷ অসহায় পরিস্থিতিতে তারা আজ প্রশাসনের দ্বারস্থ ৷ তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও ও মহকুমাশাসক দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ।
এই বিষয়ে লক্ষ্মীরাম হেমব্রম, ঝর্ণা সরেনরা বলেন, "আমাদের নামে বাড়ি এসেছে । টাকাও এসে গিয়েছে ৷ কিন্তু আমরা বাড়ি তৈরি করতে পারছি না শুধুমাত্র আমাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় । আমরা ফরেস্টের জায়গায় বাস করছি দীর্ঘদিন ৷ কিন্তু এখনও কোনও সরকারি কাগজপত্র হাতে দেয়নি প্রশাসন। আমরা এই নিয়ে বহুবার আবেদন করেছি জেলা প্রশাসনকে ৷ কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি । আমরা এখন যাব কোথায় ?"
এ বিষয়ে চন্দ্রকোণা 2 নং ব্লকের বিডিও উৎপল পাইক বলেন, "এই এলাকার 11 জন আদিবাসীর নামে বাড়ি এসেছে ৷ যার মধ্যে 6 জনের অ্যাকাউন্টে টাকাও চলে গিয়েছে ৷ কিন্তু তাদের ফরেস্ট পাট্টা না হওয়ায় আমরা অ্যাকাউন্ট হোল্ড করতে বলেছি । এই বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কমিটিকে জানিয়েছি যাতে তারা খুব দ্রুত ফরেস্ট পাট্টা পেয়ে যায় এবং পেয়ে গেলেই তাদের আমরা টাকা পাঠিয়ে দেব ।"
এ বিষয়ে মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, "আমরা দ্রুত চেষ্টা করছি যাতে পাট্টা প্রদান করে সমস্যার সমাধান করতে।"
ঘটনা ঘিরে কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে-
- বন দফতরের জায়গায় বসবাসকারী 11টি পরিবারের নাম বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকাভুক্ত হল কী করে ?
- বন দফতরের জায়গায় বসবাস করা সত্ত্বেও এই পরিবারগুলিকে অন্যত্র পাট্টার জায়গা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নিই বা কেন ?
- বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা পেলেও বন দফতরের জায়গায় কি আদৌ বাড়ি করতে পারবে আদিবাসী পরিবারগুলি ?
বন দফতরের জায়গায় সরকারি বাড়ি তৈরির বৈধতা নেই । আদিবাসী পরিবারের মাথায় সরকারি পাকা বাড়ির ছাদ দিতে গিয়ে বিপাকে স্থানীয় প্রশাসন। সমস্যা সমাধানে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন থেকে মহকুমা প্রশাসন ভূমি দফতরকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক বার বৈঠক আলোচনায় বসলেও এখনও অধরা সমাধান ।

