ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার বস্তাবন্দি বহুমূল্য হরিণের শিং, নেপথ্যে কি চোরাকারবারিরা?
শুক্রবার জলপাইগুড়ি থেকে উদ্ধার হয় হরিণের শিং ৷ বন দফতর সেগুলি নিয়ে গিয়েছে ৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে ৷

Published : May 2, 2025 at 6:23 PM IST
জলপাইগুড়ি, 2 মে: হরিণের শিং উদ্ধার হল ভুট্টাখেত থেকে ৷ শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডেঙ্গুয়াঝার গোমাস্তাপাড়া এলাকায় ৷ স্থানীয় বাসিন্দারাই বস্তার মধ্যে হরিণের শিং দেখতে পান ৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও বন দফতরকে ৷ তারা গিয়ে সেগুলি উদ্ধার করেছে ৷ কীভাবে সেখানে এই শিংগুলি এল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে ৷
ডেঙ্গুয়াঝার গোমস্তাপাড়ায় রয়েছে চন্দ্রমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷ তার পাশেই রয়েছে একটি ভুট্টাখেত ৷ সেই খেতের পাশেই পড়েছিল একটি বস্তা ৷ সেটি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের ৷ তাঁরা বস্তাটি খুলে দেখেন ভিতরে রয়েছে হরিণের শিং ৷ বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায় ৷ স্থানীয়রা শিং-সহ বস্তাটি স্কুলের মাঠে নিয়ে আসেন ৷ খবর দেন স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় ৷ পাশাপাশি বন দফতরকেও খবর দেওয়া হয় ৷

যে ভুট্টাখেতের পাশে হরিণের শিং রাখা বস্তাটি পাওয়া গিয়েছে, সেই জমিটি এলাকার বাসিন্দা বিকাশ বসাকের ৷ তিনি জানান, এদিন সকালে তাঁর ভুট্টাখেতে ঘাস কাটার জন্য স্থানীয় কয়েকজন আসেন ৷ তাঁরাই প্রথম বস্তাটি লক্ষ্য করেন ৷ তার পর বস্তা খোলা হয় ৷ তখন দেখা যায় ভিতরে হরিণের শিং রয়েছে ৷
যাঁরা বিকাশ বসাকের জমিতে ঘাস কাটতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন জয়কুন্নেসা ৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা ঘাস কাটতে এসেছিলাম । এসে দেখি ভুট্টাখেতের পাশে একটি বস্তা পড়ে আছে । বস্তা খুলে দেখা যায় হরিণের শিং ।’’ স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য এক্রামুল হক বলেন, ‘‘স্থানীয়রা আমাকে ফোন করে জানান অনেকগুলো হরিণের শিং উদ্ধার হয়েছে ।’’
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ৷ যান বনাধিকারিকরাও৷ জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের বোদাগঞ্জ বিট অফিসার বিকাশেন্দু রায় বলেন, ‘‘আমরা শিংগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছি । তবে শিংগুলো পুর্ণবয়স্ক হরিণের বলেই মনে করা হচ্ছে ।’’
এখন প্রশ্ন হল, এই শিং কোথা থেকে এল ? বস্তাবন্দি করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ? আপাতত পুলিশ সেগুলিই খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে ৷ তবে পুলিশের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি ৷ যদিও বনদফতর মনে করছে, এর নেপথ্যে চোরাকারবার থাকতে পারে ৷ কারণ, হরিণের শিং সাধারণত ঘর সাজানোর ব্যবহার করতে চান অনেকে ৷ সেই কারণে চোরাকারবারিরা হরিণ মেরে শিং ভেঙে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়৷ দামও মেলে অনেক ৷
ফলে এই ঘটনার নেপথ্যে চোরাকারবারিদের হাত থাকতে পারে বলে অনেকের সন্দেহ ৷ সেক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, বন দফতরের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে চোরাকারবারিরা জঙ্গলে ঢুকে এসব কাজ করছে ?

