2 সহপাঠীই মাধ্যমিকে অষ্টম ! ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায় সৃজন, কোটায় ক্লাসে ব্যস্ত অরিত্র
ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানাধিকারী সৃজন ৷ এদিকে, বাড়িতে আনন্দ আর কোটায় ক্লাসে ব্যস্ত আরেক অষ্টম স্থানাধিকারী অরিত্র ৷

Published : May 2, 2025 at 1:53 PM IST
মালদা, 2 মে: মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় অষ্টম স্থান পেয়েছে মালদার রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের দুই ছাত্র, সৃজন প্রামাণিক ও অরিত্র সাহা ৷ জেলা থেকে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন সাতজন ৷
অষ্টম স্থানাধিকারী সৃজনের বাড়ি মালদা শহরের মহেশমাটি এলাকায় ৷ বাবা সীতানাথ প্রামাণিক হাইস্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে মানিকচকের গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলে কর্মরত ৷ মা জয়ন্তী গুপ্ত প্রামাণিক গৃহবধূ ৷
ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে সৃজন জানায়, "সকাল থেকেই টিভির দিকে নজর ছিল ৷ মেধাতালিকায় 66 জন স্থান পেয়েছে ৷ 688 পেয়ে আমি অষ্টম স্থান অধিকার করেছি ৷ নিজের ফল শুনে স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম ৷ পরে নিজেকে সামলে নিই ৷ আমি আশা করেছিলাম 690 নম্বর হয়তো পেতে পারি ৷ তবে যে নম্বর পেয়েছি তাতেও আমি খুশি ৷ আমার বাঁধা ধরা নিয়মে পড়াশোনা করতে খুব একটা ভালো লাগত না ৷ তবে দিনে 10 ঘণ্টা পড়াশোনা হয়েই যেত ৷"
তবে শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পছন্দ করত না সৃজন ৷ ক্রিকেটের পাশাপাশি দাবা খেলার প্রতিও আকর্ষণ ছিল তার ৷ সৃজন জানায়, "খেলাধুলোর পাশাপাশি বই পড়তেও ভালো লাগে ৷ এই মুহূর্তকে অনুভব করার পাশাপাশি আগামী লক্ষ্যের দিকেও নজর দিতে হবে ৷ অঙ্ক আর রসায়নের প্রতি আমার আলাদা টান রয়েছে ৷ সেদিক দিয়ে ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে রয়েছে ৷"
সৃজনের মা জয়ন্তী গুপ্ত প্রামাণিক জানান, "ছেলে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে ৷ ছোট থেকেই ছেলে পড়াশোনায় ভালো ৷ আরও ভালো ফল আশা করেছিলাম ৷ ছেলের রেজাল্ট শুনে সকলে বাড়িতে ছুটে আসছেন, খুব ভালো লাগছে ৷"
সৃজনের সঙ্গে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে তার সহপাঠী অরিত্র সাহাও ৷ মালদা শহরের রামকৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা অরিত্র ৷ বর্তমানে সে কোটায় পড়াশোনা করছে ৷ বাবা শিবাজি সাহা ইলেকট্রিকের ব্যবসা করেন ৷ মা অনিমা সাহা গৃহবধূ ৷ এত ভালো ফল করার পরেও পড়াশোনা থেকে এক ঘণ্টার জন্যও মন সরেনি অরিত্রর ৷ সারা বাড়ি জুড়ে যখন হইহুল্লোর চলছে, সেই সময়ও তড়িঘড়ি পরিবারের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলে, ক্লাসে যোগ দেয় সে ৷
টিভিতে ছেলের ফল শুনে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তার মা অনিমা সাহা ৷ তাঁর শরীরী ভাষায় আনন্দের বহিঃপ্রকাশ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল ৷ অরিত্রর মা জানান, "রেজাল্ট ঘোষণার সময় ছেলে ক্লাসে ছিল ৷ পরে ওর সঙ্গে কথা হয়েছে ৷ বর্তমানে ছেলে কোটায় পড়াশোনা করছে ৷ ক্লাস থাকায় ছেলের সঙ্গে বেশি কথা হয়নি ৷"
মালদা জেলায় মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন সাতজন ৷ মাধ্যমিক পরীক্ষার মালদা জেলার কনভেনর বিপ্লব গুপ্ত জানিয়েছেন, রামকৃষ্ণ মিশনের অনুভব দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে ৷ অষ্টম স্থানে রয়েছেন মালদার চার পড়ুয়া ৷ তার মধ্যে অরিত্র সাহা ও সৃজন প্রামাণিক রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ৷ বাকি দু'জন আসিফ মেহবুব জয়েনপুর হাইস্কুল ও মহম্মদ ইনজামুল হক টার্গেট পয়েন্ট স্কুলের ছাত্র ৷ দশম স্থানে রয়েছেন মোজনপুর গার্লস স্কুলের আমিনা বানু ও সুজাপুর হাইস্কুলের উদয় সাদাব ৷

