ETV Bharat / state

গাড়ি থামিয়ে চাঁদা নেওয়ার সময় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা, মৃত 2

স্থানীয় এক পুজো কমিটির হয়ে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

Two boys died
পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত 2 (প্রতীকী ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 10, 2025 at 1:16 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 10 সেপ্টেম্বর: গাড়ি থামিয়ে দুর্গাপুজোর চাঁদা তুলতে গিয়ে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হল দু'জনের। মৃত দু'জনেই কিশোর বলে জানা গিয়েছে ৷ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও একজন । মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বানারহাট ব্লকের নাথুয়াহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় রাজ্য সড়কে। মৃত দুই কিশোরের নাম মৈনাক দত্ত (16), পার্থ রায় (15)।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন স্থানীয় এক পুজো কমিটির হয়ে রাস্তায় চাঁদা তুলছিলেন বেশ কয়েকজন। রাজ্য সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। রাজ্য সড়কে সেই সময় একটি পিকআপ ভ্যান নাথুয়ার দিক থেকে ধূপগুড়ির দিকে আসছিল। স্থানীয় পুজো কমিটির সদস্যরা পিকআপ ভ্যানটিকে দাঁড় করিয়ে চাঁদা চাইতে গেলে পিক আপ ভ্যানটি চাঁদা না দিয়ে চলে যেতে থাকে। এরপরেই স্থানীয় তিনজন বাইকে চেপে পিকআপ ভ্যানটিকে তাড়া করে সামনে এসে দাড়ালে বাইক আরোহীদের ধাক্কা মেরে পিকআপ ভ্যানটি দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে নাথুয়া মিলন সংঘ ক্লাবের সামনে।

রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে তিন বাইক আরোহী। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে তিনজনই। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসক দু'জনকে মৃত বলে ঘোষণা করে ৷ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মৃতদের থেকে চাঁদা আদায়ের রশিদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যদিও চাঁদা আদায়ের বিষয়টি মৃতদের পরিবার অস্বীকার করছে। জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য দুই কিশোরের দেহ পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ৷

অন্যদিকে, ঘাতক পিকআপ ভ্যানটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মৃত মৈনাক দত্তের কাকা শঙ্কর দত্ত বলেন, "একই বাইকে তিনজন ছিল। পিকআপ ভ্যান বাইকটির পিছন থেকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল বুঝতেই পারলাম না। আমরা ওদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।" পিকআপ ভ্যানটি বাজেয়াপ্ত করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।

মৃত পার্থ রায়ের বাবা রবি রায় বলেন, "প্রাইভেটে পড়তে যাবে বলে বেরিয়েছিল বাড়ি থেকে। দুর্ঘটনার খবর আমাকে স্থানীয়রা খবর দেয়। জানতে পারি তারা চাঁদা তুলছিল। একটি গাড়িকে চাঁদা তোলার জন্য আটকায়। গাড়িটি চাঁদা না দিয়ে পালিয়ে গেলে তিনজনে মোটর বাইকে করে গাড়িটিকে ধরার চেষ্টা করে ৷ তখনই গাড়িটি বাইকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়।" পুলিশের দাবি, সম্ভবত স্থানীয় ক্লাবের ছেলেরা চাঁদা তুলছিল রাস্তায় তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।