বন্দর এলাকায় দুই নাবালিকার যৌন হেনস্তা ! পৃথক দু’টি ঘটনায় গ্রেফতার অভিযুক্তরা
দক্ষিণ বন্দর ও গার্ডেনরিচ থানা এলাকার দুই ঘটনায় নাবালিকাদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ৷ দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এলাকায় ৷

Published : October 13, 2025 at 6:17 PM IST
কলকাতা, 13 অক্টোবর: আবারও নাবালিকার যৌন হেনস্তা অভিযোগ ৷ তাও আবার একটি নয়, দুটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে গার্ডেনরিচ ও দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকায় ৷ দুই ঘটনাতেই অভিযোগ উঠেছে নাবালিকাদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ৷ এই দুই ঘটনাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ ৷
কলকাতা পুলিশের ডিসি (বন্দর) হরি কৃষ্ণ পাই বলেন, "আমরা সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখছি ৷ তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে এবং অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জেরা চলছে ৷"
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকায় ৷ অভিযোগ, ওই এলাকার এক নাবালিকাকে তার পূর্বপরিচিত এক তরুণ কুতুবুদ্দিন শাহ মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ৷ এরপর গোটা বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে ৷ পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় ৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সোমবার কুতুবুদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে ৷ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা ৷
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে গত 11 অক্টোবর শনিবার, গার্ডেনরিচ থানা এলাকায় ৷ অভিযোগ, স্থানীয় এক সোনার দোকানের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আলম 9 বছরের এক নাবালিকাকে উপর যৌন হেনস্তা করেন ৷ জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা তার পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দোকানের সামনে গিয়েছিল ৷ অভিযুক্ত তাকে কৌশলে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন ৷ এরপর ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে চাপ দেন বলে অভিযোগ ৷
সেই সময় নাবালিকা ভয়ে বিষয়টি চেপে যায় ৷ কিন্তু, রাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৷ বাড়ির লোকজন কী হয়েছে জানতে চেয়ে চাপ দিলে, পুরো ঘটনা জানায় ওই নাবালিকা ৷ এরপরেই পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত ইমতিয়াজের খোঁজ শুরু করেন ৷ তবে, তাঁকে খুঁজে না-পেয়ে গার্ডেনরিচ থানা গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা ৷ অন্যদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ৷ এ দিন সকালে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷
দু’টি ঘটনা কলকাতা শহরে শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ৷ তবে পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে ৷ এই নিয়ে কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "নাবালিকাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অগ্রাধিকার ৷ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে ৷"

