সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
এক ব্যবসায়ীর সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিবাদ ৷ বিবাদের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল নেতা ৷ গণপিটুনির জেরে জেরে প্রাণ যায় এক ব্যক্তির ৷

Published : October 10, 2025 at 4:01 PM IST
সোনারপুর, 10 অক্টোবর: গণপিটুনিতে মৃত্যু এক ব্যক্তির। মৃতের নাম রঞ্জিত মণ্ডল (35)। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর 2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলা অঞ্চলে ৷ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে ৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক দোকানদারের কাছ থেকে সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিবাদ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ রঞ্জিত মণ্ডল ওই দোকানদারের কাছ থেকে সাইকেল নিয়ে যান ৷ তারপর ফেরার সময় সেই সাইকেলটি দোকানদার ফেরত চাইলে রঞ্জিত পুরোপুরি অস্বীকার করেন ৷ দোকানদারকে তিনি জানান, সাইকেল তিনি নিয়ে যাননি ৷ এরপরই বচসা শুরু হয় ৷ সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সদস্য নারায়ণ রায়।
অভিযোগ, তিনিও এই বিবাদের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন এবং রঞ্জিত মণ্ডলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে এই মারধরের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না দোকানদার সন্তোষ জানা ৷
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত জানান, এই ঘটনার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ অভিযুক্তকে জেরা চলছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়েছে।
বাকি অভিযুক্তরা পলাতক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় পঞ্চায়েত সদস্য-সহ মোট 4 জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
সিপিএম নেতার অভিযোগ
সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্য ও বিধায়কের ছত্রছায়াতেই এমন ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন নিজের পথে চলবে, কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে রেয়াত করা হবে না। গণপিটুনির এই ঘটনা ফের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে । তিনি বলেন, "সোনারপুরের বিধায়কের ছত্রছায়াতেই পঞ্চায়েত সদস্যদের এমন বাড়বাড়ন্ত। গণপিটুনিতে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য জড়িত, এটা আশ্চর্যের বিষয় নয়। গণপিটুনিতে তৃণমূলের একজনের পিছনে জড়িত নন। আরও অনেকে জড়িত। পুলিশকে সক্রিয় হতে হবে।"
তৃণমূলের দাবি
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, আইন নিজের পথে চলবে, কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে রেয়াত করা হবে না। সোনারপুর 2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন সর্দার বলেন, "বিষয়টি আমি শুনেছি। একটা মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। পরে একজন মারা যান। আমাদের এক পঞ্চায়েত সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। আইন নিজের পথে চলবে। প্রশাসন বিষয়টি দেখছে।"

