জোকা ধর্ষণ-কাণ্ডের সঙ্গে তৃণমূলের কী সম্পর্ক, প্রশ্ন কুণাল ঘোষের
জোকার একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৷ এই নিয়ে কী বলছেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ও বাবুল সুুপ্রিয় ?

Published : July 12, 2025 at 9:03 PM IST
কলকাতা, 12 জুলাই: আরজি কর, কসবার পর এবার জোকার ম্যানেজমেন্ট কলেজ৷ ঠান্ডা পানীয় খাইয়ে কলেজ চত্বরেই এক তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ৷ রাজ্যে আরও একটি নারী নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কী বলছে তৃণমূল ?
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “বিকেল পৌনে 5টা পর্যন্ত এই ঘটনাটি পুরোপুরি কুয়াশাপূর্ণ ৷ যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিষ্ঠান নয় ৷ সেখানকার নিরাপত্তার জন্য নিশ্চয়ই তাদের লোক রয়েছে ৷ সেখানকার সিসিটিভির ফুটেজ সবাই দেখুক ৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যে ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে কর্ণাটকের বাসিন্দা ৷ মেয়েটি এক ধরনের অভিযোগ করেছিলেন ৷ তাঁর বাবা আরেক ধরনের কথা বলছেন ৷ আমার মনে হয় কোনও বিষয় নিয়ে সরব হওয়ার আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই ঘটনাবলি খতিয়ে দেখা উচিত ৷ সমাজটা অনেক বড়৷ সেখানে কোনও ঘটনা ঘটতে পারে, আবার নাও ঘটতে পারে ৷ তাই প্রথমেই কোনও উপসংহার নিয়ে নেমে পড়া ঠিক নয় ৷’’
কুণাল আরও বলেন, ‘‘দেখতে হবে, কী ঘটেছে, ঘটলে কার দায়িত্ব ৷ এখানে তৃণমূল কী করবে ? তৃণমূলকে জড়ানোর মানে কী ? কর্ণাটক থেকে পড়তে আসা একটি ছেলের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হওয়া এক মহিলার কিছু হয়েছে কি হয়নি, সেটা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার মধ্যে কী করে পড়তে পারে এবং তার সঙ্গে তৃণমূলের কী যোগ থাকতে পারে, সেটাই বুঝতে পারছি না ৷ কেন সবাই মিলে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারের বাতাবরণ তৈরি করা হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা হোক ৷’’
কুণালের আরও বক্তব্য, ‘‘উত্তরপ্রদেশে সরকারি হাসপাতালের মধ্যে নার্সকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে ৷ সেই রাজ্যের পুলিশের কনস্টেবল ধর্ষণ করছে ৷ পুণেতে ডেলিভারি বয় সেজে বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করছে ৷ একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটছে ৷ আর বিজেপি এখানে বড় বড় কথা বলছে ? অনিতা গ্রোভার থেকে তাপসী মালিক, একের পর এক ঘটনা ঘটেছে ৷ সিপিআইএম বড় বড় কথা বলছে ? জোকায় যে সংস্থায় এই ঘটনা ঘটেছে সেটা কেন্দ্রের ৷ কংগ্রেসও এখন কথা বলছে ৷ ওরা দীর্ঘদিন কেন্দ্রে বা রাজ্যে নেই ৷ শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই ৷ তাদের মনে রাখা উচিত, কেলেঙ্কারির জন্য মনমোহন সরকারকেই চলে যেতে হয়েছিল ৷”

কুণাল এদিন আরও বলেন, “বাংলা রাজ্য ও ভাষার বিরুদ্ধে বিজেপি যে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি শুরু করেছে, তা আবার প্রতিফলিত হয়েছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার কথায় ৷ তিনি বলছেন, ‘সেন্সাসের সময় যদি কেউ মাতৃভাষা বাংলা বলে জানান তবে তাঁদের বিদেশি চিহ্নিত করতে সুবিধে হবে ৷’ এর মানে কী ? বাংলায় কথা বললে বিদেশি ? আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি৷ আমরা সবাই বিদেশি ?’’
কুণালের দাবি, ‘‘যদি তিনি বাংলাদেশকে ইঙ্গিত করে অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে একথা বলে থাকেন তাহলে তো প্রথমে অমিত শাহের বিএসএফ-এর ব্যর্থতার কথা তাঁর বলা উচিত ৷ বাংলাদেশ থেকে যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী এদেশে ঢুকে থাকে তবে তার ব্যর্থতা তো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের ৷ সেই ব্যর্থতা আড়াল করতে তিনি কোন সাহসে বাংলায় যাঁরা কথা বলেন তাঁদের বিদেশি বলছেন ? এর জন্য তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত ৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি একটা বাংলা বিদ্বেষী দল ৷ এরা বাংলা, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে ৷ বাংলার অধিকার থেকে বাংলাকে বঞ্চিত করে ৷ সমস্ত নথিপত্র দেখালেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওরা বিদেশি তকমা দিয়ে আটকে রাখছে ৷ এরা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে ৷”
কী বলছেন বাবুল সুপ্রিয়?
এদিন তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত একটি আলোচনাসভায় অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় । সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় । গোটা বিশ্বে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নিচুতলার কিছু লোকজন থাকে, যাদের জন্য দলকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় । আমাদের দেখতে দেখত হবে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা সঠিক কাজ করছেন কি না । দিদি করছেন কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন কি না, সেটাই বড় ব্যাপার । তাহলেই নিচুতলার কর্মীরা ঠিক হবে । তৃণমূলে যে সমস্ত বিকৃতমনা লোকজন ছিল বেশির ভাগকে বিজেপি নিয়ে নিচ্ছে ।’’
এছাড়াও এদিন তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি জানান, কলকাতা ভবিষ্যতে দেশের দ্বিতীয় তথ্য প্রযুক্তি হাব হবে । দেশের মধ্যে রাজ্য তথ্য, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উত্থান ঘটছে খুব দ্রুত । বড় বড় আইটি পার্ক তৈরি হচ্ছে । সরকার এই আইটি শিল্প বেড়ে ওঠার সব দিক নিশ্চিত করছে । 35 হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট হয় এখন । 50 একর জায়গায় সিলিকন ভ্যালি গড়ে উঠছে ।

তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন কলকাতা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর তথ্য প্রযুক্তি শহর হবে । 42টি কোম্পানি কাজ করছে । ইনফোসিস-সহ একাধিক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা দফতর খুলেছে । অনুসারী সংস্থাগুলো তাদের অফিস খুলছে । বাংলার বহু ছেলে মেয়ে ভিন দেশে ভিন রাজ্যে থেকে কাজ করেন বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় । বিদেশের মাটিতে বা ভিনরাজ্যের মাটিতে থাকতে হবে না । এরাজ্যে ছেলেরা এখানে কাজ করবে ।

বাবুল সুপ্রিয় আরও জানান, 22টি আইটি পার্ক তৈরি করবে সরকার ৷ তিনটে শিলিগুড়ি ও পাঁচটা কলকাতা, কল্যাণী, আসানসোল, হাওড়া, বোলপুর ও খড়গপুরে হবে । দেশের দ্বিতীয় আই টি হাব হবে কলকাতা ।

