ভয় কাটিয়ে অনায়াসে পাহাড় ঘুরে আসুন, পথ থেকে পর্যটন কেন্দ্র তুলে ধরল ইটিভি ভারত
ধসের জেরে বিপর্যস্ত পাহাড় ৷ তবুও অনায়াসে পাহাড়ে বেড়াতে পারবেন পর্যটকরা ৷ মুশকিল আসান করে পথ আর পর্যটন কেন্দ্র জানিয়ে দিল ইটিভি ভারত ৷

Published : October 10, 2025 at 8:28 PM IST
শিলিগুড়ি, 10 অক্টোবর: শনিবারের ধসে বিপর্যস্ত পাহাড়। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক মহকুমায় পেডং, রামডাং, লাভা ব্লকগুলি। ধসের জেরে পাহাড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত 24 জনের। এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে মিরিক । তবে ঘুম, সোনাদা হয়েও মিরিক যাওয়া যাচ্ছে ৷ দুর্গাপুজোর পর ধসের ফলে পাহাড়ের পর্যটনে খারাপ প্রভাব পড়েছে । তবে ধস সরিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে শৈলরানি । ইটিভি ভারতের বিশেষ প্রতিবেদনে জেনে নিন পথ ও পর্যটন কেন্দ্রের ঠিকানা ৷
মিরিক ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাবাকোশির পর্যটনকেন্দ্রগুলো। কিন্তু এই ভরা পর্যটনের মরশুমে চিন্তার কোনও কারণ নেই পর্যটকদের। কারণ মিরিক ও তাবাকোশি বাদে অনেক পর্যটন কেন্দ্রই খোলা রয়েছে পর্যটকদের জন্য। যেখানে কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই অনায়াসে পাহাড় ও তরাই ডুয়ার্সে বেড়াতে যেতে পারবেন পর্যটকরা।
পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামের কিছু ছোট রাস্তা বাদ দিয়ে প্রায় সবক'টি পর্যটন কেন্দ্র ও সড়ক খোলা

- দার্জিলিংয়ে ওঠা-নামার জন্য মূল রাস্তা, জাতীয় সড়ক 110 (হিল কোর্ট রোড) এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড খোলা রয়েছে। দার্জিলিং থেকে মিরিকের রাস্তাও খোলা। তবে শিলিগুড়ি থেকে মিরিক যাওয়ার রাস্তা দুধিয়াতে বন্ধ রয়েছে। তবে শিলিগুড়ি থেকে যেতে হলে ঘুম, সোনাদা হয়ে মিরিক যাওয়া যাচ্ছে ৷
- দার্জিলিং থেকে কালিম্পং যাওয়ার রাস্তা খোলা।
- শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং যাওয়ার মূল রাস্তা (জাতীয় সড়ক 10) শুক্রবার ধসের কারণে বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সড়ক খুব দ্রুত খুলে যাবে।
- কালিম্পং যাওয়ার বিকল্প পথ 717এ বিকল্প জাতীয় সড়ক খোলা রয়েছে।
- শিলিগুড়ি থেকে লাভা আলগাড়া হয়ে রামধুরা হয়ে রংপো (সিকিম) যাওয়ার রাস্তা খোলা ৷
- শিলিগুড়ি থেকে রংপো (সিকিম) যাওয়ার মূল সড়ক দিয়ে একমুখী যান চলাচল করছে ৷
- শিলিগুড়ি থেকে রম্ভি বাজার হয়ে মংপু হয়ে সিটং যাওয়ার রাস্তা খোলা ৷
- শিলিগুড়ি থেকে শিবখোলা দিয়ে সিটংয়ের রাস্তা খোলা ৷
- দার্জিলিং থেকে জোড়বাংলো হয়ে ছয় মাইল হয়ে তাকদার রাস্তা খোলা ৷
- লাভা থেকে লোলেগাঁও রাস্তা খোলা ৷
- ধূপগুড়ি-মাদারিহাট সড়ক খোলা ৷
- মাদারিহাট (জলদাপাড়া) ফালাকাটা সড়ক খোলা ৷
- কোচবিহার, মাথাভাঙা, জামালদা চ্যাংড়াবান্ধা শিলিগুড়ি সড়ক খোলা।
- শিলিগুড়ি থেকে সেবক হয়ে মালবাজার-চালসা-লাটাগুড়ি খোলা ৷
- শিলিগুড়ি-গাজলডোবা-ক্রান্তি-লাটাগুড়ি সড়ক খোলা ৷
- চালসা-নাগরাকাটা-বানারহাট-বিন্নাগুড়ি-তেলিপাড়া মোড় রাস্তা খোলা ৷
খোলা রয়েছে যেসব পর্যটনকেন্দ্রগুলি

দার্জিলিং: দার্জিলিং ম্যাল, রক গার্ডেন, টাইগার হিল, লেপচাজগত, চটকপুর, দাওয়াইপানি, কাফেরগাঁও, লিংডিং খাসমহল, আহালদাড়া, যোগীঘাট, রিম্বিক, লোধামা, রঙ্গলি, গোরখে, ধোতরে, দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ৷

কার্শিয়াং: আম্বুটিয়া, বাগোরা, ডাউহিল, মহানদী, গিদ্দাপাহাড়, ডিয়ারপার্ক, টুং, সিমবঙ্গ ৷

কালিম্পং: লাভা, লোলেগাঁও, সিটং, মংপু, তাকদা, তিনচুলে, রামধুরা, ইচ্ছেগাঁও, সিলারিগাঁও, রিশপ, বাগোরা, লামাহাটা, বাদামতাম, কোলাখাম, মেয়রঙ্গ গাঁও, ছিবো, বিদ্যাঙ্গ, পাবং ৷

সিকিম: গ্যাংটক, পেলিং, রাবংলা, নামচি, লাচুং, উত্তারে, লাচেন ৷

এই বিষয়ে ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, "পাহাড় একেবারে বিধ্বস্ত নয়। কিছুটা বন্ধ রয়েছে। বাকিটা স্বাভাবিক রয়েছে। পাহাড় সবদিক থেকে খোলা। কালিম্পং সব ও সিকিম খোলা রয়েছে।"

এছাড়াও লাটাগুড়ি, গরুমারা, মাদারিহাট, চালসা, সামসিং, সুন্তালেখোলা, ঝালং, বিন্দু, মূর্তি, বাতাবাড়ি, জয়ন্তী, বক্সা, সান্তারাবাড়ি, কোদালবস্তি, চিলাপাতা, কোচবিহার এবং আরও অজস্র জায়গা। আলিপুর, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার বেশিরভাগ পর্যটকদের জন্য গন্তব্যস্থল সম্পূর্ণ রূপে খোলা এবং নিরাপদ ৷

