স্মার্ট ক্লাসরুম নিয়ে দ্বন্দ্ব, দলীয় বিধায়কের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন রচনার
কার তহবিল থেকে তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসরুম ? তা নিয়ে তরজায় জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়ক ৷ তাঁর বিরুদ্ধে শীর্ষ নেতাদের কাছে অভিযোগও করবেন সাংসদ ৷

Published : August 1, 2025 at 8:46 AM IST
চুঁচুড়া, 1 অগস্ট : বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে আবারও তৃণমূল বনাম তৃণমূল ! এবার দলীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ করলেন সাংসদ ৷ প্রবীণ বিধায়কের মাথা কাজ করছে না বলেও কটাক্ষ করেন রচনা ৷
হুগলির তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষিকাদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন ৷ তাঁদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেছেন ৷ রচনা মনে করেন, বয়স হয়েছে বলে অসিতের মাথার ঠিক নেই ৷ পাশাপাশি বিধায়কের বিরুদ্ধে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে নালিশ করবেন বলেও ঠিক করছেন ৷
যদিও সাংসদের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বিধায়ক ৷ ঘুরপথে তাঁর জবাব, "যা বলার সেটা দলকেই বলব ৷ সাংসদের কথা নিয়ে কিছু বলতে পারব না। উনি যা ইচ্ছা বলতে পারেন ৷ আমি সেসব নিয়ে কিছু বলছি না। আমি ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মেম্বার। যা বলার শিক্ষিকাদের বলব। ওই স্কুলের অভিভাবক ও ছাত্রীদের দেখার দায়িত্ব আমার।"
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে ৷ চুঁচুড়ার বালিকা বাণী মন্দির স্কুলের শিক্ষিকারা সিদ্ধান্ত নেন একটি স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করবেন ৷ স্থানীয় সাংসদ রচনার সাংসদ তহবিল থেকে ক্লাসরুম তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় ৷ এখানেই নাকি আপত্তি অসিতের ! তাঁর প্রশ্ন, সাংসদ তহবিলের প্রয়োজন পড়ল কেন ?
স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির কাজ থেকে শুরু করে স্কুলের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার সেখানে যান রচনা ৷ তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় অসিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শিক্ষিকারা ৷ তাঁদের দাবি, স্কুলে এসে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন বিধায়ক। অশালীন ভাষায় কথাও বলেছেন ৷ শুধু তাই নয়, সাংসদের তহবিলের টাকায় ক্লাসরুম তৈরির অনুমতি কে দিয়েছেন তাও জানতে চান অসিত ৷
ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সাংসদ বলেন, "তৃণমূল বিধায়কের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। হুগলি লোকসভা এলাকায় সাত বিধায়কের মধ্যে ছ'জন প্রাণ দিয়ে কাজ করেন। দলের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে কাজ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন। আমরা সম্মান করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের বদনাম হবে এমন কাজ আমরা করব না। উনি তিনবার বিধায়ক হয়েছেন ঠিকই কিন্তু ওঁর বয়স হয়ে গিয়েছে ৷ মাথা কাজ করছে না।"
তিনি আরও বলেন, "বাণী মন্দির চুঁচুড়া সদরের অন্যতম পুরানো এবং ঐতিহ্যশালী স্কুল। বহু মেধাবী ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে। তাদের সকলের একটা স্মার্ট ক্লাসরুমের প্রয়োজন ছিল। এআই থেকে শুরু করে কম্পিউটার-সহ বিভিন্ন রকম কোর্স করার জন্য এটি স্মার্ট ক্লাসরুম চেয়েছিল এখানকার স্কুলের ছাত্রীরা। শুধু বাণী মন্দির নয়, অন্য অনেক স্কুলই আমার দ্বারস্থ হয়েছে। আমি সবাইকে কথা দিয়েছি, সাংসদ তহবিল থেকে ধীরে ধীরে যা যা দরকার সেটা করে দেব। কিন্তু চুঁচুড়া বিধায়কের আচরণে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছি । হুগলি সংসদীয় এলাকার অন্য কোনও বিধায়ক এভাবে আচরণ করেননি ৷"
সাংসদকে বলতে শোনা যায়, "আমি রচনা বন্দোপাধ্যায় ৷ কার কত দম আছে আমাকে আটকে দেখাক। অসিত মজুমদারের এহেন কার্যকলাপ সর্বজনবিদিত। তৃণমূলের একাংশ অনেকদিন ধরেই তাঁর এই ধরনের অনেক কাজের সঙ্গে অবগত ৷ তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতাদের আমি সব জানাব। যাঁকে জানানোর দরকার তাঁকে অবশ্যই জানাব। আগামিদিনে এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেটা আমি দেখব। "

