'রত্না দলের বিধায়ক, তাতে আমার কী', শোভনের বিবাহ-বিচ্ছেদ মামলা প্রসঙ্গে কল্যাণ
শোভন-রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলায় প্রাক্তন মেয়রের হয়ে সওয়াল করছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে সওয়াল করা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন সাংসদ ৷

Published : February 23, 2025 at 6:22 PM IST
ডানকুনি, 23 ফ্রেব্রুরারি: আইন ও রাজনীতি দু'টি আলাদা ক্ষেত্র ৷ তাই তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে সওয়াল করায় কোনও ভুল দেখছেন না প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ যিনি শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদও ৷
কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা লড়ছেন আইনজীবী কল্যাণ ৷ কলকাতা হাইকোর্টে মক্কেল শোভনের হয়ে রত্নার বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন ৷ আদালতে সওয়ালে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনের পক্ষে বলেন, "কে প্রভাবশালী ? প্রভাবশালী তো রত্না চট্টোপাধ্যায় । তিনি শাসকদলের বিধায়ক । তিনি কার বিরুদ্ধে প্রভাবশালীর অভিযোগ আনছেন ? অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন । সেসব ভাষা মুখে উচ্চারণও করা যায় না । তিনি একজন বিধায়ক । গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করেছেন রত্না চট্টোপাধ্যায় ৷"
সূত্রের খবর, দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে সওয়াল করায় সাংসদ কল্যাণের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অন্দরেই সমালোচনা চলছে ৷ দলের একজন সাংসদ কীভাবে দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা লড়ছেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে ?
এই বিষয়ে আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণের সাফ জবাব, "রত্না দলের বিধায়ক ৷ তাঁর সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক ৷ এটা বিবাহ-বিচ্ছেদ ব্যাপার ৷ যে আসবে, তার জন্য মামলা করব ৷ আমি তো পেশাদার লোক ৷ শোভনের আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে ৷ তাই তিনি আমার কাছে এসেছেন ৷ মক্কেল আইনজীবী পছন্দ করবেন ৷ আর আইনজীবী সেই অনুযায়ী মামলা লড়বেন ৷"
নিজের আইনি পেশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় 44 বছরের আইনজীবী ৷ 2003 সালে আমি সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদে উন্নীত হই ৷ আমি দলের সাংসদ, কিন্তু তার অনেক আগে থেকে আইনজীবী ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবী বলেই দলে এনেছেন ৷"
তৃণমূলের বিরুদ্ধে মামলা লড়া নিয়ে কল্যাণের বক্তব্য, "আমি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা লড়েছি ৷ কিন্তু দলের বিরুদ্ধে কোনও দিন করিনি ৷ দল ছাড়া অন্য যে কারও বিরুদ্ধেই লড়তে পারি ৷ এটাই আমার পেশা ৷"
ডানকুনিতে তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠানে এসে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সেখানে ডানকুনি হাউজিং-এর বিরিয়ানি ও ফাস্ট ফুডের দোকানগুলি ঘুরে দেখেন তিনি ৷ দোকানের কাছে বসে সেই প্রসঙ্গ টেনে আইনজীবী বলেন, "এখানে তৃণমূল কর্মীর বিরিয়ানির দোকান আছে ৷ তাই বলে কি তিনি আমায় বিনা পয়সায় বিরিয়ানি খেতে দেবেন ? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচিতিটাই হচ্ছে প্রথমে উকিল ৷"

