মেয়েকে 3 নম্বর কম দেওয়ায় শিক্ষিকাকে হুমকি-অপমান ! অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির ৷ পাল্টা স্কুলে একাংশ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ ৷

Published : September 10, 2025 at 8:26 PM IST
নদিয়া, 10 সেপ্টেম্বর: শাসকদলের নেতার মেয়ের পরীক্ষার খাতায় 3 নম্বর কেটে নেওয়ায় শিক্ষিকাকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ৷ কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা অভিভাবক সুবীর ধর ৷ ঘটনা নদিয়ার রানাঘাটের গাংনাপুর গার্লস হাইস্কুলের ৷ পরিবেশ বিজ্ঞান পরীক্ষায় মেয়ের খাতায় 3 নম্বর কেটে নেওয়ায় ফোন করে শিক্ষিকা সুজাতা বিশ্বাসকে হুমকি দেওয়া ও অপমানজনক কথা বলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা বাবার বিরুদ্ধে ৷
জানা গিয়েছে, সুবীর ধর হলেন দেবগ্রামে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ৷ তাঁর মেয়ে গাংনাপুর গার্লস হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ৷ দ্বিতীয় সামেটিভ পরীক্ষায় তার পরিবেশ বিজ্ঞানে প্রাপ্তনম্বর ছিল 45.5 ৷ স্কুল থেকে উত্তরপত্র দেখানোর পর, ছাত্রীটি তার খাতা বাড়িতে নিয়ে যায় ৷ উত্তর দেওয়া প্রশ্নের থেকে 3 নম্বর কম থাকায় সুবীর ধর সোজা ফোন ঘোরান শিক্ষিকাকে ৷
অভিযোগ, কেন তাঁর মেয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের খাতায় নম্বর কম রয়েছে, তা জানতে চান শিক্ষিকা সুজাতা বিশ্বাসের কাছে ৷ এমনকি ফোনে কথা বলার সময়, শিক্ষিকাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ৷ যে ঘটনায় অপমানিত বোধ করেন তিনি ৷ এরপর তিনি বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে জানান ৷
এরপর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ-সহ বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি ৷ তবে, এই ঘটনাই শুধু নয় ৷ অভিযোগ, এর আগেও সুবীর ধর বিভিন্ন কারণে একাধিকবার স্কুলের একাধিক শিক্ষিকার উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন ৷ ফলে স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে ৷ বর্তমানে অন্যান্য শিক্ষিকারাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ৷
শিক্ষিকা সুজাতা বিশ্বাস বলেন, "ছাত্রীটির উত্তরপত্র পর্যবেক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে নম্বর প্রদান করা হয়েছে ৷ সেখানে কোনও পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না ৷ একজন শিক্ষকের স্বাধীন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করছে ৷"
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা অভিভাবক সুবীর ধর দাবি করেছেন, "সব অভিযোগ মিথ্যা ৷ আমি কেবল জানতে চেয়েছিলাম, কেন আমার মেয়েকে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে ৷ ও পড়াশোনায় ভালো, ম্যাডামরা অনেক সময় ভুল করেন ৷ আমি কোনও হুমকি দিইনি ৷ সরকারি স্তরে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে, আমি উত্তর দেব ৷"
নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি সনৎ চক্রবর্তী বলেন, "ঘটনা কতটা সত্য, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ৷ তবে, বিষয়টা যদি সত্যি ঘটে থাকে, তাহলে দলকে অনুরোধ করব তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ৷ তার কারণ শিক্ষককে হুমকি কোনোমতেই তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন করে না ৷"
বিষয়টি নিয়ে নদিয়া জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, "এটা শুধু মাত্র রানাঘাটের জন্য নয় ৷ গোটা রাজ্যজুড়ে একই কালচার চলছে তৃণমূলের ৷ সমাজ বিরোধীরা এই সরকার চালাচ্ছে ৷ এই সরকার শিক্ষাকে লাটে তুলেছে ৷ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান করে না এরা ৷ অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক প্রশাসন ৷"
তবে, ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও শিক্ষামহলের একাংশ ৷ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষিকারাও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন ৷ এই ধরনের ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল ৷

