ETV Bharat / state

নাম না-করে পুর কর্তৃপক্ষকে নিশানা, ক্ষিতি-কন্যা বসুন্ধরার পোস্টে অস্বস্তিতে তৃণমূল

কাজ না-করে কাউন্সিলর নির্বাচন আসার আগে বাহানা, পাল্টা খোঁচা বিজেপির ৷ 'বখরার লড়াই', মন্তব্য সিপিএমের ৷

KOLKATA MUNICIPAL CORPORATION
কলকাতা পুরনিগম, ইনসেটে বসুন্ধরা গোস্বামী ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 22, 2025 at 9:07 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 22 জুলাই: বাম সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামী ৷ তিনি বর্তমানে কলকাতা পুরনিগমের 96 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ৷ পুরনিগম কর্তৃপক্ষ ও নাম না-করে স্থানীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি ৷ সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন তিনি ৷ যার পরতে-পরতে উঠে এসেছে ওয়ার্ডে কাজ করতে না-পারা ও নাগরিকদের ভোগান্তির কথা ৷ আর এ নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ৷ বখরার ভাগের ঝামেলা বলে আক্রমণ করলেন সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত ৷

এ দিন তৃণমূল কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামী সোশাল মিডিয়ায় একটি লম্বা লেখা পোস্ট করেন ৷ সঙ্গে ছিল কিছু ছবি ৷ আর সেই লেখায় তিনি কেএমসি কর্তৃপক্ষ ও নাম না-করে ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন ৷

Kolkata Municipal Corporation
বসুন্ধরা গোস্বামীর ফেসবুক পোস্ট ৷ (ছবি- সোশাল মিডিয়া)

বসুন্ধরার কথায়, দিনের পর দিন চেষ্টা করেও নাগরিক স্বার্থে কাজ করতে পারেননি ওয়ার্ডে ৷ অথচ অন্যের অঙ্গুলি হেলনে নির্দিষ্ট লোকের বাড়ির কাজ হচ্ছে ৷ শুধু তাই নয়, বিরোধীরা এত দিন যে অভিযোগ করত, তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে ঠিক একই সুরে তাঁর অভিযোগ, প্রোমোটার ও কলকাতা কর্পোরেশনের যোগসাজশের ৷

এ দিন বসুন্ধরা গোস্বামী সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, "ছবিগুলি দয়া করে দেখুন, পরপর ক্যাচপিট গুলি জ্যাম বলে কর্পোরেশন কানেকশন করে দিয়েছে.... কবে কাজটা হয়েছে ? 21 শে জুলাইয়ের দিন আমরা সকলে র‍্যালির মাধ্যমে নেত্রীর সভায় যাব... সুতরাং, ওয়ার্ডে প্রায় কেউই থাকব না, সেই সময়.... সমগ্র ওয়ার্ড জুড়ে বহু ক্যাচপিট ভাঙা, জ্যাম এবং মাটি জমে ভর্তি হয়ে আছে... হঠাৎ সুভাষ দত্তের প্রোমোটেড প্রপার্টির সামনে রাতারাতি কাজ.....বাঘাযতীন আই-ব্লক এর উল্টোদিকের দোকানের সামনে বহু ক্যাচপিট ভাঙা এবং জ্যাম... কাজীপাড়া কুলতলার সামনে রুদ্ধ পাইপলাইন খুলে একটি ম্যানহোল বানাতে আমাকে কী করতে হয়েছে আপনারা ওই পাড়ার যারা বাসিন্দা, তাঁরা ভালোভাবে জানেন...৷"

Kolkata Municipal Corporation
বসুন্ধরা গোস্বামীর ফেসবুক পোস্ট ৷ (ছবি- সোশাল মিডিয়া)

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, "বাঘাযতীন এ-ব্লকে জল জমে যায় আধঘণ্টার বৃষ্টিতে...আই-ব্লকের উল্টো দিকের বেশিরভাগ ক্যাচপিট জ্যাম...আমাকে চিঠি দিতে হয় এবং অজস্র প্রতিকূলতা পেরিয়ে কাজ করতে হয়...বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ করতেই পারি না...আর যেখানে কিছু প্রোমোটার কাজ করেন, সেখানে রাতারাতি কর্পোরেশনের কাজ হয়...কি আবেগ স্বজনের প্রতি ! কি সাংঘাতিক তোষণ... কালীবাড়ি লেনের বিরাট অংশে কোনও ক্যাচপিট নেই... আমি বারংবার বলে-বলে ক্লান্ত হয়ে গেলাম... সেখানে কর্পোরেশনের নিজস্ব কোনও সার্ভে বলে কিছু নেই, ফাইল ধরা আছে বলে কিছু নেই...৷"

তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত ফাঁস করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বসুন্ধরা লিখেছেন, "চক্রান্ত আমি প্রকাশ করেই ছাড়বো...কর্পোরেশন সংক্রান্ত কাজ নিয়ে এত আবেগ থাকলে, যে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেখানে কাজ করুন...এই এক্তিয়ার লঙ্ঘন কেন মানবো ? গ্রাউন্ড ফ্লোর, গ্যারেজ গুলি এলাকার মানুষ ব্যবহারই করতে পারে না, একটা-দু’টো কানেকশন জল যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে... কিন্তু, সেখানে কর্পোরেশন বোবা হয়ে পড়ে থাকে...আমি সমাধান চেয়ে অপেক্ষার পর অপেক্ষা করতে থাকি, কী করে সমাধান সূত্র বার করা যায়, এবং অনুরোধ বারবার চলতে থাকে...কিন্তু প্রত্যুত্তরে ডিপ্লোম্যাটিক উত্তরে আমি অতিষ্ট হয়ে থাকি...এসব নির্বাক হয়ে মেনে নেওয়ার অর্থ, আমাকে যারা বিশ্বাস করছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করা...যাঁরা জল যন্ত্রণায় ভুগছেন, তাঁরা দেখেছেন রাতের পর রাত গাড়ি দিয়ে মেশিন দিয়ে কীভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেছি...ছোটখাটো পরিকাঠামোর পরিবর্তন করতে পারিনি... এই সাবোতাজ এবং চক্রান্তটা কেমন, তার চেহারাটা কেমন দেখে যাবেন, ঠিক সেই কারণেই এই ছবিগুলো দিলাম...৷"

Kolkata Municipal Corporation
কাজ করতে না-দেওয়ার অভিযোগে বসুন্ধরা গোস্বামীর ফেসবুক পোস্ট ৷ (ছবি- সোশাল মিডিয়া)

এরপর কলকাতা পুরনিগম নিয়ে তিনি লেখেন, "এত বড় মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা কলকাতা কর্পোরেশন, তার থেকে নিরপেক্ষতা আশা করি...বড় প্রোমোটার কাজ করে যাওয়ার পর রাতারাতি সেখানে বিটুমিনের প্রলেপ পড়বে আর অন্যান্য রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে থাকবে এটা হতে পারে না। এই কাজ আমি বন্ধ করেছি.... আগে যে পাড়ায় জল-যন্ত্রণায় মানুষ জেরবার সেখানে কাজ করতে হবে, না হলে এই কাজ করতে দেব না....।"

তাঁর এই পোস্টের জেরে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ছে পুর-প্রশাসন তথা শাসকদল ৷ এই বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি ৷ তবে, কাউন্সিলরের এই পোস্ট নিয়ে চরম আক্রমণ করেছে বিজেপি ও সিপিএম ৷ সজল ঘোষ বলেন, "সামনে আরেকটি কাউন্সিলর ভোট আসতে চলেছে ৷ এখন কাউন্সিলরের মনে পড়েছে, কাজ করতে পারেন না-বলে সমাজমাধ্যমে লিখছেন ৷ আসলে কাজ না-করে, সেই ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছেন ৷ মানুষের ক্ষোভ যখন উঠে আসছে তখন দৃষ্টি ঘোরাতে এই সব করছেন ৷ উনি যে সমস্ত কাজের কথা বলছেন, সেগুলো নিয়ে কেন মাসিক অধিবেশনে সরব হননি ? কেন মেয়রকে চিঠি দেননি ৷ আগামী 25 তারিখ হাউস, আশা করি সেখানে তুলবেন ৷ সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন ৷"

এদিকে সিপিএম নেতা সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, "এটা আসলে বখরার লড়াই ৷ উনি যার নাম করেননি তিনি এলাকার বিধায়ক ও ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবব্রত মজুমদার ৷ এরা শুধু নয়, গোটা যাদবপুর এলাকার কোনও ওয়ার্ডে কোনও উন্নয়নের কাজ তৃণমূল কাউন্সিলররা করেননি ৷ শুধুই টাকা তুলেছেন ৷ নিজেদের কোটি কোটির সম্পত্তি করেছে ৷ মানুষের স্বার্থ দেখেননি ৷ ভোট লুট করে জিতেছেন ৷ ফের কাউন্সিলর ভোট আসছে, তাই এখন নাটক করছেন ৷ কাউন্সিলর বিধায়কের ঘাড়ে আর বিধায়ক কাউন্সিলরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন ৷"