ETV Bharat / state

পুজোর আগে বন্ধ হয়ে গেল চা-বাগান, পথে বসলেন 1200 শ্রমিক

ফ্যাক্টরিতে পড়ে কাঁচা চা-পাতা ৷ কর্মবিরতির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছে মালিকপক্ষ। পুজোর আগে পথে বসেছেন 1200 শ্রমিক।

TEA GARDEN
পুজোর আগে বন্ধ হয়ে গেল চা-বাগান (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2025 at 6:51 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

জলপাইগুড়ি, 30 অগস্ট: পুজোর আগে বন্ধ হয়ে গেল আরও একটি চা-বাগান। জলপাইগুড়ির ডুয়ার্সের নাগরাকাটার বামনডাঙা-টন্ডু চা-বাগান বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে খবর। কর্মহারা হয়ে পড়লেন প্রায় 1200 শ্রমিক। কারখানায় এখনও পড়ে রয়েছে কাঁচা চা-পাতা। এরই মধ্যে বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছে মালিকপক্ষ।

বকেয়া মজুরি দেওয়ার দাবিতে চা-শ্রমিকরা বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিলেন । শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের জেরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বামনডাঙা টুন্ডু চা বাগান। জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন ৷ শুধু তাই নয়, সেদিন চা-বাগানের ম্যানেজারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রায় 6 কিলোমিটার পথ হাঁটিয়ে বামনডাঙার ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসেন বিক্ষাভরত শ্রমিকরা ৷ ফ্যাক্টারিতে ম্যানেজারকে ঘিরে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। এরপর ঠিক হয়, শুক্রবার কর্মীরা বেতন পাবেন ৷ কিন্তু তার আগেই বাগান বন্ধ হয়ে গেল ৷ শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে মালিক পক্ষ বাগান বন্ধ করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছিল ওয়াকিবহাল মহল ৷ সেই আশঙ্কা সত্যি হওয়ায় পথে বসলেন 1200 শ্রমিক।

পুজোর আগে বন্ধ হয়ে গেল চা-বাগান (ইটিভি ভারত)

শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বক্তব্য

  • চা শ্রমিক অনিতা ওরাওঁ বলেন, "আজ চা-বাগানের তরফে বেতন দেওয়ার কথা ছিল। আমরা এসে দেখি বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছে মালিকপক্ষ।"
  • আরও এক চা-শ্রমিক অনিষা ওরাওঁ বলেন, "গতকালও বেতনের জন্য আমরা এসেছিলাম তবে, তা পাইনি। আজ আবার আসি ৷ কিন্তু দেখি মালিকরা বাগান বন্ধ করে চলে গিয়েছেন। অতি দ্রুত বাগান খুলে আমাদের বকেয়া মজুরি প্রদান করা হোক।"
  • এদিকে মালিকপক্ষের বক্তব্য, শ্রমিকরা ম্যানেজারকে অপদস্ত করেছেন বলে তারা বাগান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইন্ডিয়ান টি-প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অমৃতাংশু চক্রবর্তী বলেন, "শ্রমিকদের অসন্তোষ এবং প্রতিবাদের কারণে বামনডাঙা-টুন্ডু চা-বাগান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকরা ম্যানেজারকে অপমান করার কারণে তাঁরা চা-বাগান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷

এর আগে, গত জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ডুয়ার্সের আরও একটি চা-বাগান। সেবার কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় 2000 শ্রমিক। সেদিন চা-বাগানের গেটে তালা দেখে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড় হয় শ্রমিকদের। বিনা নোটিশে মালিকপক্ষ ছেড়ে চলে গিয়েছিল ডুয়ার্সের বানারহাট আমবাড়ি চা-বাগান।

TEA GARDEN
চা-বাগান (ইটিভি ভারত)

রাজ্য সরকারের SOP

গত নভেম্বর মাসে একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (এসওপি) চালু করে রাজ্য সরকার। আচমকা কোনও বাগান বন্ধ হয়ে গেলে সেটি পরিচালনার দায়িত্ব অন্য কারও হাতে তুলে দিয়ে শ্রমিকদের দুর্দশার হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। গত কয়েক বছরে বার বার দেখা গিয়েছে, চালু চা-বাগান বন্ধ করে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে পালিয়ে গিয়েছেন বাগান মালিকরা। অনেক ক্ষেত্রে লিজ বদলের সময়ও শ্রমিকদের সমস্যার মধ্য়ে পড়তে হত ৷ হস্তান্তরে বেশ খানিকটা সময় লেগে যেত। এর ফলে দুর্ভোগে পড়তেন হাজার হাজার শ্রমিক। এসব থেকে শ্রমিকদের মুক্তি দিতেই চালু হয় নয়া ব্যবস্থা ৷