ETV Bharat / state

দুর্গাপুজোর থিম 'শতবর্ষে ঋত্বিক', প্রতিমা সুপ্রিয়ার আদলে ! কোন মণ্ডপে ধরা দেবে 'মেঘে ঢাকা তারা'

ঋত্বিক ঘটকের শতবর্ষ ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বিষয় ভাবনায় ৷ আর প্রতিমার মুখ তৈরি হচ্ছে অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর আদলে ৷

ETV BHARAT
দুর্গাপুজোর থিম 'শতবর্ষে ঋত্বিক' (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 5, 2025 at 3:54 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 5 অগস্ট: বাংলার সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজোয় ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে । আর মাত্র মাসখানেক সময় বাকি । ফলে এখন পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে । সেই আবহে শুরু হয়েছে থিমের লড়াই ৷ টিজার থেকে ব্যানারে অভিনবত্ব প্রকাশের তৎপরতা । সেই পথে হেঁটেই এবার তাদের থিম ও মাতৃপ্রতিমায় দর্শনার্থীদের তাক লাগিয়ে দিতে চাইছে বেহালা আদর্শপল্লি দুর্গোৎসব কমিটি । এবার 68তম বর্ষে তাদের থিম 'শতবর্ষে ঋত্বিক'। আরও বড় চমক হল প্রতিমায় । ঋত্বিক ঘটকের অন্যতম পছন্দের অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর মুখের আদলে হবে মা দুর্গার মুখ ।সেটি তৈরি করছেন কুমোরটুলির প্রখ্যাত শিল্পী মিন্টু পাল ।

বাংলা ও বাঙালির অস্মিতা নিতে চলছে রাজনৈতিক যুদ্ধ । সেই আবহে বেহালার এই মণ্ডপে গেলে আরও একবার দেশভাগের আর্তনাদ, ব্যথার স্মৃতি তাজা হতে চলেছে । বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের এবছর জন্মশতবার্ষিকী । তাঁকে সম্মান জানিয়ে, তাঁর চিন্তাভাবনাকে পাথেয় করে, বেহালা আদর্শপল্লি এবার মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে । ঋত্বিক ঘটকের অবিস্মরণীয় সৃষ্টি আজও দেশভাগের যন্ত্রণার স্মৃতি তাজা করে রেখেছে ছিন্নমূল মানুষের কাছে । সেই স্মৃতিই আরও একবার ফুটে উঠবে পুজোর থিমে । কাঁটা তারে ঘেরা হবে মণ্ডপ ।

ETV BHARAT
বেহালা আদর্শপল্লি দুর্গোৎসব কমিটি (নিজস্ব চিত্র)

দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি শংকর ঘোষের কথায়, "মেঘে ঢাকা তারার নীতার আর্তনাদ শুনতে পাবেন দু'পারের মানুষই । ঘটককে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেই দেশভাগ ও সেই সময় মহিলাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হবে ।" বর্তমানে এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে গরম হাওয়া । সেই কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, "এই বিষয় ভাবনাকে দয়া করে রাজনীতির সঙ্গে এক মঞ্চে বসাবেন না । এটা আমাদের আগাম শিল্পীর ভাবা বিষয় । রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই ।"

তাঁর কথায়, "সেই সময় মহিলাদের জীবন, তাঁদের স্বপ্ন, বাঁচার লড়াই এসবের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে মণ্ডপে । ঋত্বিকের সিনেমা 'মেঘে ঢাকা তারা' যেমনটি দেখিয়েছে, নীল আকাশের ধ্রুবতারার মতো যে পথ দেখাল নিজের সংসারকে, সেই তাকেই কি না আবৃত করতে চাইল কৃতঘ্নতার কালো মেঘ ? তবু সে যে ম্লান হলো না ! নীতার মতো নারীরা যে ম্লান হতে শেখেনি ৷ আজও প্রতিটি ঘরের কোনায় এই নীতার মতো ধ্রুবতারারা জ্বলছে । পথ দেখাচ্ছে । সংসারকে নিজের কাঁধের উপর বহন করছে বিনা কোনও অভিযোগে । সংসারে সবাই স্বপ্ন দেখে । যাপন করে সেই স্বপ্নের অট্টালিকার সর্বোচ্চ ঘরের ব্যালকনিতে বসে । কিন্তু সেই অট্টালিকার ছায়াতে চাপা পড়ে যায় নীতাদের স্বপ্নের ঘরগুলি । নিভে যায় কত আশা ! মুছে যায় কত জীবন…৷ শুধু পড়ে থাকে এক হাহাকার — 'দাদা, আমি বাঁচতে চাই !' রাজনীতির ঘেরাটোপে পূর্ব-পশ্চিমে বিচ্ছিন্ন বাংলায় ছিন্নভিন্ন হল কত মানুষের সাজানো সংসার ! শুধু স্মৃতিকে সম্বল করে না জানি কত মানুষ পা রেখেছিল এপার বাংলায় নবজীবন গড়বে বলে…৷ কিন্তু সবার জীবন যে নতুনের মুখ দেখল না ! কারণ এপারে সংসার সাজাবার দায়িত্বের ভারে চাপা পড়ে গিয়েছিল তাদের সব স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা…৷"

ক্লাব কর্তাদের আরও দাবি, ঋত্বিকের সেলুলয়েডে শক্তিপদের কলমসম্ভবা নীতার মধ্যে আজও প্রতিবিম্বিত হয় সেই ছিন্নমূল উদ্বাস্তুদের স্বপ্নের চিতার আগুন, সেই বাঁচার অপূর্ণ আশা…৷ প্যালেস্তাইন থেকে সুদান, আফগানিস্তান থেকে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশ, পৃথিবীর প্রতিটি বাস্তুহারা সংসারে আমরা দেখি নীতাদের আত্মাহুতি । ঋত্বিকের শতবর্ষে তাই, সেই চিরপ্রাসঙ্গিক অভাগিনী নীতাদের বাঁচার আর্তি তুলে ধরবে আমাদের ক্লাব ।"