শেরশাহর আমলে তৈরি নিয়ামতপুরের কালী মন্দির, পুজোর সময় শিকলে বাঁধা হয় দেবীকে
মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনি৷ আজও নাকি অমাবস্যায় শোনা যায় নূপুরের শব্দ৷

Published : October 13, 2025 at 8:40 PM IST
কুলটি/আসানসোল, 13 অক্টোবর: শেরশাহ সুরির আমলে নির্জন এলাকায় গড়ে উঠেছিল কুলটির নিয়ামতপুরের কালী মন্দির। পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। কথিত আছে, এই মন্দির ঘিরেই গড়ে উঠেছিল নিয়ামতপুর গ্রামের জনপদ। এই কালী মন্দির নিয়ে নানা অলৌকিক কাহিনি রয়েছে। আজও অমাবস্যা রাতে শোনা যায় মায়ের নূপুরের শব্দ। শুধু তাই নয়, দেবীকে পুজোর সময় শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
শেরশাহ সুরির সময় গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোডের (জিটি রোড) সংস্কার হয়েছিল। কুলটির নিয়ামতপুর অঞ্চলে সেই গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোডের পাশে ছিল পান্থশালা। পূর্ব দিকের সেই পান্থশালা ছিল৷ আর পশ্চিমে গড়ে উঠেছিল এই কালী মন্দির। স্থানীয়দের মতে, নিয়ামতপুর অঞ্চলে তখন এই দু’টিই চিহ্ন ছিল প্রাচীন নিয়ামতপুর গ্রামের। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে জনপদ গড়ে ওঠে।
পুরুলিয়ার কাশীপুরের রাজা এবং নিয়ামতপুরের গড়ে ওঠা জনপদের জমিদাররাই এই মন্দিরের সংস্কার করেছিলেন। এখানে দেবীর নিত্যপুজো হয়। প্রতিদিনই ভক্তকূলের ভিড় নামে। স্থানীয়দের বিশ্বাস নিয়ামতপুর কালী মন্দিরের এই দেবী খুব জাগ্রত। দেবীর কাছে মন দিয়ে প্রার্থনা করলে, দেবী মনস্কামনা পূর্ণ করেন।
নিত্যপুজো হলেও কালীপুজোর সময় ধুমধাম করে এখানে পুজো হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না৷ তাই মন্দির চত্বরেই তৈরি হচ্ছে কালী প্রতিমা। নিয়ামতপুর গ্রামের চক্রবর্তী পরিবারের সদস্য অংশুমান চক্রবর্তী বলেন, "এখানে দেবীর শাক্ত মতে পুজো হয়। দেবীকে রক্ত দিয়ে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়। প্রায় 12 পুরুষ ধরে এখানে পুজো হয়ে আসছে। প্রায় 600 বছর আগে এখানে পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।"

এই মন্দির ও দেবীকে ঘিরে অনেক অলৌকিক গল্পগাঁথা আছে। অংশুমান চক্রবর্তী বলেন, "এখানে পুজোর সময় দেবীকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এখানে অমাবস্যার রাতে এখনও মায়ের নূপুরের শব্দ পাওয়া যায়।"
আরেক পুণ্যার্থী সুচিত্রা চক্রবর্তী বলেন, "আজ থেকে বহু বছর আগে যখন এই এলাকা শুনশান থাকত, তখন অনেকেই দেবীর দর্শন পেয়েছেন। এমনকী আমাদের পরিবারের পুরনো মানুষজনও দেবীর দর্শন পেয়েছেন। দেবী খুব জাগ্রত। ভক্তরা মন দিয়ে ডাকলে দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করেন। এই মন্দিরে কালীপুজোর রাতে আজও শতাধিক ছাগ বলি দেওয়ার রীতি আছে।"

