ETV Bharat / state

সব কাজ করিয়েও মারধর-গালিগালাজ সৎ মায়ের ! স্কুলের পর কাঁদতে কাঁদতে সোজা থানায় কিশোরী

যদিও নাবালিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার সৎ মা । পালটা সৎ মায়ের দাবি, কিশোরী তাঁকে মারধর ও গালিগালাজ করেছে ৷

stepmother torture
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 3, 2025 at 5:01 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

ক্যানিং, 3 অগস্ট: বাসন মাজা থেকে সবজি কাটা, ঘরের এমন কোনও কাজ নেই যা নাবালিকাকে দিয়ে করানো হত না ৷ অভিযোগ, এরপরেও পান থেকে চুন খসলেই 14 বছরের মেয়েটির কপালে নাকি জুটত সৎ মায়ের মারধর ৷ সঙ্গে গালিগালাজ তো নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল ৷ অবশেষে আর সহ্য করতে না-পেরে কাঁদতে কাঁদতে থানার দ্বারস্থ হল অষ্টম শ্রেণির কিশোরী ৷ সৎ মায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কাকুদের কাছে অভিযোগ করল সে ৷

ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানা এলাকায় ৷ নাবালিকার অভিযোগ শুনে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ । পুলিশ আধিকারিকরা নাবালিকার বাবা ও সৎ মাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে । নাবালিকা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ৷ তাই তার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ক্যানিং থানার তরফ থেকে ৷ এ বিষয়ে ক্যানিং এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল বলেন, "নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে । নাবালিকার সৎ মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । নাবালিকাকে ক্যানিং থানার পক্ষ থেকে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে ।"

ঘরের সব কাজ করেও কপালে জুটত মারধর-গালিগালাজ ! সৎ মায়ের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ নাবালিকা (ইটিভি ভারত)

জানা গিয়েছে, নাবালিকার যখন দুই বছর বয়স তখন তার নিজের মায়ের মৃত্যু হয় । কিছুদিন বাদে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন । প্রথম প্রথম সৎ মা নাবালিকার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন ৷ অভিযোগ, পরে মেয়েটির যত বয়স বাড়তে থাকে, সঙ্গে সঙ্গে তার উপর অত্যাচার শুরু করেন সৎ মা । পাঁচ বছর বয়স থেকেই সৎ মা নাবালিকাকে দিয়ে সংসারের সব কাজ করাতে থাকেন ৷ বাসন মাজা থেকে শুরু করে সবজি কাটা, ঘর ঝাঁট দেওয়া-মোছা সবই করতে হয় ছোট্ট মেয়েটিকে । কিন্তু এসব করেও রেহাই নেই তার । সারাক্ষণ তাকে নাকি গালিগালাজ করেন তার সৎ মা । এরপর বাবা কাজ থেকে ফিরলে তাকে দিয়েও নাবালিকাকে সৎ মা মার খাওয়ান বলে অভিযোগ ।

আরও অভিযোগ, তাতেও মন না-ভরলে তিনি নিজে বেধড়ক মারধর করেন সৎ মেয়েকে । তারপরেই শনিবার স্কুলে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সোজা ক্যানিং থানায় হাজির হয় নাবালিকা । তার উপর হওয়া অত্যাচারের সমস্ত ঘটনা খুলে বলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের । পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাবালিকা বলে, "আমার সৎ মা আমায় খুব মেরেছে ৷ আনাজ কাটা, ঘর ঝাঁট দেওয়া, বাসন মাজা, আমি বাড়ির সব কাজ করায় ৷ তারপরেও মা আমাকে মারধর করে ৷ কাজে ভুল হলে সর্বক্ষণ গালিগালাজ করে মা ৷ বাবাও মারধর করে আমায় ৷"

যদিও নাবালিকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার সৎ মা ও বাবা । নাবালিকার সৎ মা বলেন, "ও মিথ্যা অভিযোগ করেছে ৷ ওকে দিয়ে আমি কাজ করাই না ৷ ওর বাবার ব্যবসা ৷ সেই কাজে আমি হাত লাগাই ৷ তখন ও দুটো বাসন মাজে ৷ বরং ও আমাকে মারধর করেছে ৷ গালিগালাজ করেছে ৷ আমায় বলে, তোকে এখানে থাকতে দেব না ৷ আজ গালিগালাজ করায় আমি ওকে মেরেছি ৷ নইলে কোনওদিন মারি না ৷ আমারে চুলের মুঠি ধরে মেরেছে, গালে মুখে আঁচড়ে দিয়েছে ৷"

নাবালিকার বাবার কথায়, "আমি বাড়ি ছিলাম না ৷ জানি না কী ঘটনা ঘটেছে ৷ তবে ওর মা ওকে মারে না ৷ কিন্তু বকাবকি করে ৷ আমিও মারধর করি না মেয়েকে ৷ মেয়ে মিথ্যে কথা বলছে ৷ ও গায়ে মারের দাগ দেখাতে পারবে না ৷ শুধু আজকে দুটো চড় মেরেছে ৷ ওমনি মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে থানায় চলে এসেছে ৷"