অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ ধর্ষণের চেষ্টা নয়! বিচারপতির মন্তব্যের বিরোধিতা শশীর
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ধর্ষণের চেষ্টার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন, তাতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশে ৷ বিচারপতির এমন মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা ৷

Published : March 23, 2025 at 3:53 PM IST
কলকাতা, 23 মার্চ: সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র 'ধর্ষণের চেষ্টা'র সংজ্ঞায় যা বলেছেন, তাতে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী-সহ একাধিক ব্যক্তি এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন ৷ এবার রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা বিচারপতির দেওয়া সংজ্ঞাকে 'অত্যন্ত চমকপ্রদ' এবং 'সংকীর্ণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন' বলে উল্লেখ করলেন ৷
2021 সালের একটি ধর্ষণের মামলায় দুই অভিযুক্তকে রেহাই দিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্র ৷ তিনি রায়ে জানান, কোনও ব্যক্তি কোনও মহিলাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করলে তা ওই ব্য়ক্তির বিরুদ্ধে 'ধর্ষণের চেষ্টা'র অভিযোগ আনার জন্য যথেষ্ট নয় ৷ তাঁর এমন পর্যবেক্ষণে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৷ সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দাবিও উঠেছে ৷ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এই রায় প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ৷
এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা সবসময় বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ৷ কিন্তু এই ঘটনা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে ৷ বিচারপতিকে কিছু বলতে চাই না, কারণ এটি বিচারাধীন বিষয়। তবে এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে একজন বিচারকের মানসিকতা এমনও হতে পারে ৷"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সমাজে নারীরা বরাবরই নিজেদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন ৷ প্রশাসন ও আইন-ই তাঁদের সুরক্ষার ঢাল ৷ কিন্তু এই মন্তব্য মহিলাদের মর্যাদা ও বিশ্বাসের উপর আঘাত হেনেছে ৷ আমরা পশ্চিমবঙ্গে বহু নিন্দনীয় হেনস্তার ঘটনা দেখেছি ৷ তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'অপরাজিতা বিল 2025' নিয়ে এসেছেন, যা এখনও কেন্দ্রীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ৷ আমাদের সাংসদরা সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে এই বিলটি অনুমোদনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন ৷ আমরা এই সমস্ত উদ্যোগ শুধুমাত্র আমাদের কন্যাদের সুরক্ষার জন্য নিয়েছি ৷ আমাদের মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন ৷ বিচারপতির এই মন্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, এটি সংকীর্ণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচায়ক ৷ আমাদের এখন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানোর সময় এসেছে ৷"

