আরজি করের নির্যাতিতার বাড়িতে স্বাস্থ্যসচিব, পরিবারের হাতে মৃত্যুর শংসাপত্র
দীর্ঘ টালবাহানা শেষে মেয়ের মৃত্যুর সংশাপত্র হাতে পেলেন আরজি করে নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার ৷ স্বয়ং স্বাস্থ্যসচিব বাড়ি গিয়ে দিয়ে এলেন সার্টিফিকেট।

Published : March 19, 2025 at 10:40 PM IST
|Updated : March 19, 2025 at 10:55 PM IST
সোদপুর, 19 মার্চ: আরজি করে নির্যাতিতার মামলায় সিবিআই তদন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে হোক ৷ সোমবার নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবারের এই আবেদনে সম্মতি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷ এরপর একদিন যেতে না যেতেই বুধবার সন্ধ্যায় ওই চিকিৎসকের মৃত্যুর শংসাপত্র তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম ৷
গত বছরের 9 অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার রুমে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের দেহ ৷ তাঁকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে ৷ পরে এই ঘটনায় সাজা পায় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় শিয়ালদা আদালত। ঘটনায় মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র হাতে পেতে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা ৷ সাত মাসেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে ৷ এদিন সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য সচিব তাঁদের উত্তর 24 পরগনার সোদপুরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে নির্যাতিতা ছাত্রীর ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে এলেন ৷
এই মৃত্যুর সংশাপত্র দিতে কেন এত টালবাহানা হল, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন নিহত চিকিৎসক তরুণীর বাবা ৷ তিনি বলেন, "মেয়ের অরিজিনাল ডেথ সার্টিফিকেট আজ স্বাস্থ্যসচিব দিয়ে গেলেন ৷ তিনি বলেছেন, পরে অন্য কপির দরকার হলে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি দিয়ে দেবেন ৷ আমাদের কাছে সার্টিফিকেটের লিংকও এসেছে ৷ সেখান থেকে আমরা প্রিন্ট আউট বের করে নিতে পারব ৷"
নিহত চিকিৎসক তরুণীর বাবা আরও বলেন, "মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে চেষ্টা করছিলাম ৷ গত 31 জানুয়ারি আমরা লিখিত দিই ৷ এরপর থেকে গত কয়েক মাস ধরে কখনও আরজি কর হাসপাতাল, কখনও কলকাতা পুরনিগমের অফিসে গিয়েছি ৷ আবার কখনও স্বাস্থ্য ভবনে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে ৷ আমি এমএসভিপিকে বলেছিলাম, এত কষ্ট করে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার দরকার নেই ৷ বেশি কায়দা করে ডেথ সার্টিফিকেট দিতে হবে না ৷ আমরা কায়দা করে ঠিক জায়গা থেকে নিয়ে নেব ৷ এর ঘণ্টাখানেক পর হঠাৎ আমার কাছে মেসেজ আসে এবং এইমাত্র স্বাস্থ্যসচিব নিজে এসে দিয়ে গেলেন ৷ বাবা হয়ে মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট পেতে ঘোরাঘুরি করাটা যে কতটা কষ্টকর, সেটা আমরা জানি ৷ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ায় আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ৷"
মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেটে কী লেখা ? সেই প্রশ্নের জবাবে নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা বলেন, "যেটা আমরা চেয়েছি সেটারই উল্লেখ রয়েছে ডেথ সার্টিফিকেটে ৷" অন্যদিকে, নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম সাংবাদিকদের বলেন, "তাঁর পরিবারকে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার কথা ছিল ৷ সেটা দিয়ে গেলাম ৷ পরিবারের সঙ্গে এছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে কথা হয়নি ৷"
মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পেতে বারবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার ৷ তারপরও দীর্ঘদিন ধরে নিহত চিকিৎসক তরুণীর মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে টালবাহানা চলেছে বলে অভিযোগ ৷ এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছিল নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা-মাকে ৷
সম্প্রতি সিবিআই-এর ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি গিয়েছিলেন তাঁরা ৷ তার আগে মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র নিয়ে মুখ খুলেছিলেন নিহত চিকিৎসক তরুণীর বাবা-মা ৷ সেই সময় আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রীতিমতো তাঁদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল পরিবার ৷

