ETV Bharat / state

দিল্লি রওনা মুখ্যসচিবের, বিকেলে কমিশনে হাজিরার নির্দেশ

আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে মুখ্যসচিবকে জরুরি তলব করা হয় ৷ আর তারপরেই এদিন দিল্লি গেলেন মনোজ পন্থ ।

Chief Secretary Manoj Pant
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 13, 2025 at 1:30 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 13 অগস্ট: বিধানসভা ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের টানাপোড়েনের আবহে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ বুধবার সকালে দিল্লি রওনা দিয়েছেন । জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁকে 13 অগস্ট, অর্থাৎ বুধবার বিকেল 5টার মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে বলেছে । কলকাতা বিমানবন্দরে সকালে তাঁকে দেখা গেলেও সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি । তবে কমিশনের তলবের কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যসচিব ।

দেশজুড়ে চলা এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে দক্ষিণ 24 পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের চার ইআরও-সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন ৷ সাসপেনশনের পাশাপাশি এফআইআর দায়েরের কথাও বলা হয় । অভিযোগের তালিকায় বারুইপুর পূর্বের দুই ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও তথাগত মণ্ডল, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাসের নাম রয়েছে ।

Chief Secretary Manoj Pant
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (নিজস্ব ছবি)

পাশাপাশি সুরজিৎ হালদার নামে এক 'ডেটা এন্ট্রি অপারেটর'-এর বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দেয় কমিশন । 5 ও 8 অগস্ট, দু'দফায় চিঠি পাঠিয়ে একই নির্দেশে অনড় থাকে নির্বাচন কমিশন । কিন্তু রাজ্য প্রশাসন সরাসরি সাসপেনশনের পথে না-গিয়ে সোমবার কমিশনকে জানায়, ময়নার সুদীপ্ত দাস (রাজ্যের চিঠিতে যাঁকে 'সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে) এবং বারুইপুর পূর্বের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে আপাতত সরিয়ে রাখা হচ্ছে ৷ অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে ।

এর আগে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই জানান, ভোট ঘোষণার আগে কোনও সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হবে না ৷ এই অবস্থানও কমিশনের সক্রিয়তাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় মাত্রা যোগ করে । নির্বাচন কমিশনের মতে, এটি শুধু নির্দেশ অমান্য করা নয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রশ্ন ৷ তাই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে ।

রাজ্য সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় 72 ঘণ্টার ডেডলাইন পেরোতেই দিল্লিতে মুখ্যসচিবকে জরুরি তলব করা হয় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে ৷ আর সেই তলব মানতেই এদিন দিল্লি গেলেন মুখ্যসচিব । নির্বাচনের মুখে কমিশনের কড়া ভঙ্গি ও নবান্নের দ্রুত সাড়া, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, পূর্বের মতো চিঠি-চালাচালি বা নীরব উপেক্ষার পথে না-গিয়ে কি এবার কৌশলে বদল আনছে প্রশাসন ? সরকারি স্তরে অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি । নির্বাচন কমিশনে মুখ্যসচিবের হাজিরার পর এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায়, আর রাজ্য রাজনীতিতে তা নতুন কোনও আলোড়ন তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার ৷