পুতুল নাচে আরজি করের প্রতিবাদ, বিশেষ কর্মশালায় শিক্ষামূলক বার্তা পড়ুয়াদের
পুতুল নাচে উঠে এল আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ ৷ যাদবপুর বিদ্যাপীঠে বিশেষ কর্মশালার পর পুতুল নাচে শিক্ষামূলক বার্তা পড়ুয়াদের ৷

Published : June 8, 2025 at 4:55 PM IST
কলকাতা, 8 জুন: কেটে গিয়েছে 10 মাস ৷ এখনও দগদগে ঘা-এর মতো টাটকা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনা । যার ন্যায় বিচারের জন্য পথে নেমেছিল সমাজের সকল স্তরের মানুষ । কিন্তু এরপর ? এর পরেও রাজ্য, দেশ তথা গোটা পৃথিবীতে একাধিক যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে । নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এমন ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বিভিন্ন বয়স । এবার এরই প্রতিবাদ হল গ্রাম বাংলার হারাতে বসা এক ঐতিহ্যের হাত ধরে । পুতুল নাচের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসুখের কথা তুলে ধরলেন সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা ।
সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সায়েন্স কমিউনিকেটর্স ফোরামের উদ্যোগে যাদবপুর বিদ্যাপীঠে আয়োজন করা হয় একটি কর্মশালার । সেখানে হাতে কলমে শেখানো হয়েছে পুতুল নাচের ইতিকথা । পুতুল নাচের মাধ্যমে কীভাবে নানা গল্প তুলে ধরা যায়, সেটাই শেখানো হয়েছে পড়ুয়াদের ৷ পাঁচদিনব্যাপী এই কর্মশালায় যাদবপুর সংলগ্ন সাতটি স্কুল অংশ নেয় ।
কী উদ্দেশ্যে এই কর্মশালা ? সায়েন্স কমিউনিকেটর্স ফোরামের সদস্য অভিজিৎ বর্ধন বলেন, "যেগুলো সিলেবাসের মধ্যে রয়েছে, সেগুলো আরও সহজে কীভাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তুলে ধরা যায়, তার সঙ্গে সিলেবাসের বাইরের সচেতনতামূলক বেশকিছু জিনিস কীভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা যায়, তার জন্যই এই পুতুল নাচের আয়োজন । সাতটা স্কুলের পড়ুয়া এখানে অংশ নিয়েছে । স্কুলের সময়তেই আমরা সেই কর্মশালা করেছিলাম । প্রতিটা স্কুল থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির পাঁচ থেকে ছয়জন পড়ুয়া অংশ নিয়েছে ।"

এই কর্মশালার সমাপ্তি হয় শনিবার । সেদিন পড়ুয়ারা তাদের তৈরি করা পুতুল নিয়ে এসে ছোট ছোট পুতুল নাটক পরিবেশন করে । সেখানেই উঠে আসে প্রতিবাদের ভাষা । কেউ তুলে ধরেছে পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা অন্যায়ের কথা । উঠে এসেছে মোবাইলের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের অতিরিক্ত আকর্ষণের ফলাফল । কেউ আবার পুতুল নাটকের মাধ্যমেই প্রতিবাদ জানিয়েছে যৌন নির্যাতনের । এই কর্মশালায় অংশ নেওয়া যাদবপুর বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্রী ভরসা মণ্ডল বলে, "এটা আমরা পুরো নিজের হাতে করেছি । নিজেরাই এই পুতুল বানিয়েছি । একটা দলগত কাজ কীভাবে হয়, কীভাবে একটা দলে সবাই একে-অপরকে সাহায্য করে, এসব এখানে শিখলাম ।"

এই কর্মশালায় পড়ুয়াদের কাজ শিখিয়েছেন ড. প্রদীপ সরকার । তিনি বলেন, "আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে পুতুল তৈরি । তাই ফেলে দেওয়া থার্মোকল দিয়ে আমরা এই পুতুল তৈরি করছি । কিন্তু আসল পুতুল হয় কাঠের । কিন্তু এখন আর সেই গাছ নেই । তার সঙ্গে ওই পুতুলের অনেক ওজন হয় । সেটা ওরা বহন করতে পারবে না । তাই আমরা এইভাবে পুতুল তৈরি করেছি । সকল পড়ুয়া খুব মন দিয়ে এই কাজটা করেছে । আর পূর্বে শুধুমাত্র রামায়ণ, মহাভারত পুতুল নাচে ব্যবহার করা হত। কিন্তু যদি বিজ্ঞানেও পুতুল নাচ ব্যবহার করা যায় তাহলে ভালোই হবে । সেটাই আমরা করেছি ।"

অন্যদিকে, এই পুতুল নাচের মতো কর্মশালা করানোর নেপথ্যে রয়েছে আরও বেশকিছু পরিকল্পনা । প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের উপসচিব পার্থ কর্মকার বলেন, "আমি প্রধান শিক্ষকদের বললাম, সিলেবাসের বেশকিছু জিনিস যদি পুতুল নাচের মাধ্যমে শেখানো যায়, তবে পড়ুয়াদের জন্য সেটা সব থেকে ভালো হবে । কারণ এর ফলে পড়ুয়াদের হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডে অনেক সুবিধা হবে ।"



