ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে, ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট ! গবেষক হতে চায় মাধ্যমিকে সপ্তম অঙ্কন
ছোটবেলায় হারিয়েছে বাবাকে ৷ মা তার পথপ্রদর্শক ৷ এবারের মাধ্য়মিকে 689 নম্বর পেয়েছে গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অঙ্কন ৷

Published : May 2, 2025 at 1:44 PM IST
গঙ্গারামপুর, 2 মে: অনেক ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে ৷ তারপর স্কুল শিক্ষিকা মায়ের ছত্রছায়ায় বড় হওয়া ৷ দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অঙ্কন বসাক এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে সপ্তম স্থান অর্জন করেছে ৷ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর 689 ৷ সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে অঙ্কন ৷
সকাল থেকেই খবরে নজর ছিল ৷ এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট ঘোষণা হল যে ৷ অঙ্কন আশা করেছিল সে প্রথম দশের মধ্যে থাকবে ৷ তবে, কত নম্বরে, সেটা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল সে ৷ মোবাইলে রেজাল্ট দেখেছিল ৷ কিন্তু, ব়্যাংক করেছে কি না, তা জানতে পারেনি অঙ্কন এবং তার মা দেবিকা জোয়ারদার ৷
অঙ্কনকে তার বন্ধুরা ফোন করে অভিনন্দন বার্তা জানাতেই বুঝতে পারে, সে ব়্যাংক করেছে ৷ তবে, কত নম্বরে রয়েছে তা জানতে পারে তার মায়ের স্কুলের সহকর্মীর ফোনে ৷ ছেলে মেধাতালিকায় রয়েছে শুনে আনন্দে আত্মহারা মা ৷ তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ৷ তবে, ভীষণ খামখেয়ালী ৷ নিজের ইচ্ছে হলে পড়াশোনা করে, আর ইচ্ছে না-হলে শত চেষ্টা করেও কেউ তাঁকে পড়তে বসাতে পারে না ৷

অঙ্কন নিজে বলছে, "আমাকে বন্ধুরা ফোন করে জানায় ব়্যাংক করেছি ৷ তার আগে মোবাইলে দেখেছি 689 নম্বর পেয়েছি ৷ আমার কোনও নির্দিষ্ট পড়ার সময় ছিল না ৷ দিনে 6-8 ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম ৷ পড়াশোনার পাশাপাশি, ক্যারাটে ব্ল্যাক বেল্ট পেয়েছি ৷ ভালো রেজাল্ট করব জানতাম ৷ আশা ছিল পাঁচ থেকে দশের মধ্যে থাকব ৷ সেটা পেরেছি ৷ সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই ৷ তারপর বিজ্ঞান নিয়ে রিসার্চ করার ইচ্ছে রয়েছে ৷ আমার মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি ৷ মা-ই আমাকে সব দেখিয়ে দিত ৷ সঙ্গে স্কুলের ও টিউশনের স্যাররা ছিলেন ৷"

অঙ্কনের মা দেবিকা জোয়ারদার নিজে স্কুলে পড়ান ৷ তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয়ের অংকের শিক্ষিকা ৷ তিনি বলেন, "মোবাইলে রেজাল্ট দেখেছিলাম ৷ কিন্তু, আমার এক সহকর্মী ফোন করে বলেন, 'দেবিকাদি, অঙ্কন ব়্যাংক করেছে ৷' আমি খুবই খুশি ৷ ও নিজের ইচ্ছেমতো পড়াশোনা করত ৷ আসলে আমার ছেলে খুবই মুডি ৷ নিজের ইচ্ছে হলে পড়ত ৷ আর ইচ্ছে না-হলে কেউ ওকে বলে পড়াশোনা করাতে পারবে না ৷ আমি বিজ্ঞান বিশেষত অংক দেখিয়ে দিতে পারি ৷ কিন্তু, ও মনে করে মা সব বিষয়ে জানে ৷ তাই অন্যান্য বিষয় নিয়েও আমার কাছে চলে আসত ৷"
দেবিকা জোয়ারদার জানালেন, অঙ্কন অনেক ছোট থাকতেই তাঁর স্বামী কৃষ্ণ বসাক মারা গিয়েছেন ৷ তবে, আজকে তিনি থাকলে ছেলের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন ৷ তবে, অঙ্কন ভবিষ্যতে কী করবে, তা তার উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন দেবিকা ৷

