বদলে যাচ্ছে বেসরকারি বাসের আকার ও সিট সংখ্যা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতেই উৎসাহী মালিকপক্ষ
এবার যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী বাসের আকার পরিবর্তন করা যাবে ৷ বাস মালিক সংগঠনগুলির আবেদনে সাড়া দিয়ে জানাল পরিবহণ দফতর ৷

Published : August 13, 2025 at 8:43 PM IST
কলকাতা, 13 অগস্ট: যাত্রী সংখ্যার উপর নির্ভর করে এবার বদল করা হবে বাসের আকার । এই বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে ৷ আর তারপরেই একাধিক বেসরকারি বাস মালিকরা নয়া পারমিট মতো বাসের মাপ বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে উদ্যত হয়েছেন ।
কোভিডের পরবর্তী সময় শহর তথা রাজ্যের একাধিক বাস রুটে কমেছে যাত্রী সংখ্যা ৷ মালিকপক্ষের দাবি, বেশ কিছু রুটে আর বাস চালিয়ে লাভ হচ্ছে না ৷ তাই তারা নিরুৎসাহী হয়ে বাসের সংখ্যা কমিয়েছে । এর পাশাপাশি বহু বাস রুট বন্ধ হয়ে গিয়েছে । আবার বেশ কিছু রুটে তুলনামূলকভাবে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা । তাই যাত্রী সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসের মাপ কমবেশি করার আবেদন জানানো হয় ৷ এই নিয়ে পরিবহণ দফতরকে চিঠি দিয়েছিল বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি ।

এর পাশাপাশি মালিকপক্ষের দাবি, 2018 সালের পর থেকে বাসের ভাড়া বাড়েনি ৷ অথচ পারমিট-সহ বাস চালাতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং নবীকরণের খরচ বেড়েছে । বেড়েছে জ্বালানি থেকে যন্ত্রাংশের দাম । তাই বড় বাস চালিয়ে কোনও লাভ থাকছে না বাস মালিকদের । তাই বাসের আসন সংখ্যা কমানো হোক । এই বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে আবেদনপত্রে ৷
আর বাস মালিকদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পরিবহণ দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৷ তাতে বলা হয়, একই রুট পারমিটে বাসের আসন সংখ্যা কমানো যাবে এবং প্রয়োজনে আসন সংখ্যা বাড়ানোও যাবে । এমনকি প্রয়োজনে ছোট বা বড় নতুন বাসও রুটে নামানো যাবে ।

উল্লেখ্য, এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগে একটি বড় বাসে ন্যূনতম আসন সংখ্যা হতো 38 এবং তারও আগে যখন কাঠের বাস ছিল তখন আসন সংখ্যা ছিল 40 । কিন্তু নয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, বাসের আসন সংখ্যা ন্যূনতম 22 হতে হবে এবং সর্বোচ্চ 55 আসন । বাসের মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা কমপক্ষে ছয় ফুট হতে হবে ।
এছাড়াও বলা হয়েছে, যদি কোনও বাসের আসন সংখ্যা 30-এর কম হয় সেক্ষেত্রে 'স্পেশাল স্টেজ ক্যারেজ' নাম দিয়ে পারমিট বের করতে হবে ৷ আর তা না-হলে 'স্টেজ ক্যারেজ' নামে পারমিট বের করতে হবে । তবে নতুন বাসের ক্ষেত্রে এই বদল করতে হলে স্থানীয় পরিবহণ আধিকারিকের আনুমোদন নিতে হবে ।

এই বিজ্ঞপ্তিতে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বেসরকারি বাস মালিকদের । অনেকেই রুটে নতুন বাস নামানোর ক্ষেত্রে এই বদল করছেন । 285 নম্বর (শ্রীরামপুর-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ) রুটের বাস মালিক রঞ্জন প্রামাণিক বলেন, "শ্রীরামপুরের দিকে যে বাস রুটগুলোতে নতুন বাস নামানোর হচ্ছে, সেগুলির ক্ষেত্রে মাপে বদল করা হয়েছে । দৈর্ঘ্যে নতুন বাসগুলি আগের থেকে প্রায় একফুট বড় হবে ৷ তাই নতুন বাসগুলো 40 আসনের ৷ অর্থাৎ আগের বাসের চেয়ে 10টি আসন বেশি থাকছে এই নতুন বাসগুলোতে। বর্তমানে 285 বাস রুট 17টি বাস পরিষেবা দেয় ।"
এদিকে 40 নম্বর (শ্রীরামপুর-বীরশিবপুর) রুটে বর্তমানে 35টি বাস পরিষেবা দেয় ৷ আর পাঁচটি নতুন বাস নামতে চলেছে যেগুলির ক্ষেত্রেও মাপে বদল করা হবে । অন্যদিকে 33 নম্বর বাস রুটে বাসের মাপ ছোট করা হচ্ছে ।

পশ্চিমবঙ্গ বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির প্রদীপনারায়ণ বসু বলেন, "যত পরিমাণে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই পরিমাণে রাস্তা বাড়েনি একেবারেই । তাই অনেক ক্ষেত্রে বড় বাস ঘোরাতে বা পার্ক করতে চরম সমস্যায় পড়তে হয় চালকদের । শুধু তাই নয়, বড় বাসের জ্বালানি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অনেক পড়ে যায় । কিন্তু আয় হয় না তেমন । তাই ন্যূনতম 33 আসনের বাসের অনুমোদন যাতে দেওয়া হয়, সেই আবেদন জানানো হয়েছিল সরকারকে । তাই স্বাভাবিকভাবেই বাস মালিকদের এই আবেদনকে সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করায় বাস মালিকরা অনেকটাই উপকৃত হয়েছেন ।"

তিনি আরও বলেন, "বাসের মাপ কমলে বাসের দামও কমবে প্রায় তিন লক্ষ টাকা । তাই বহু বাস মালিক যারা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন, তারা আবার বাস চালাতে ইচ্ছুক হবেন । পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে রুটে বাসের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে ।"

