বীরভূমে বোমাবাজিতে পা উড়ল তৃণমূল কর্মীর, নেপথ্যের কারণ কি কাজল-কেষ্টর লড়াই?
বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের ঘটনা ৷ এলাকায় উত্তেজনা ৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ৷ আটক 6 ৷

Published : February 11, 2025 at 3:04 PM IST
|Updated : February 11, 2025 at 3:36 PM IST
কাঁকরতলা (বীরভূম), 11 ফেব্রুয়ারি: প্রকাশ্যে বোমাবাজি বীরভূমে ৷ এই ঘটনার জেরে পা উড়ে গেল এক ব্যক্তির ৷ তিনি এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত ৷ আহত হয়েছেন আরও একজন ৷
মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের কাঁকরতলা থানার জামালপুর গ্রামে ৷ বালিঘাটের দখল ও টাকার ভাগাভাগি নিয়ে গোলমালের জেরেই এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ৷ বোমাবাজির জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় গ্রামে ৷ ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ৷ এখনও পর্যন্ত ছ’জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ৷
বীরভূম বরাবরই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত থাকে ৷ কখনও শাসক-বিরোধীর লড়াই, আবার কখনও শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলের অভিযোগ ওঠে ৷ মঙ্গলবারের ঘটনায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী জড়িত বলে অভিযোগ ৷ বিজেপি এই নিয়ে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূলের দুই নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখকে ৷ যদিও তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে ৷
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অজয় নদের বালির ঘাট ও বালির টাকার ভাগ নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিন ধরে ৷ তৃণমূলের স্থানীয় নেতা স্বপন সেন ও উজ্বল হক গোষ্ঠীর মধ্যে এই দ্বন্দ্ব চলছিল ৷ সেই দ্বন্দ্বই মঙ্গলবার সকালে চরম আকার ধারণ করে ৷
এদিন গ্রামের মাঠে দুই গোষ্ঠীর আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি করে ৷ গ্রামের মাঠে মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়তে থাকে ৷ বোমার আঘাতে সাত্তার আলি নামে এক তৃণমূল কর্মীর পা উড়ে যায় ৷ জখম হন তাঁর দাদা সেখ বাবু । দু’জনকেই দুর্গাপুরে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ।
ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় । প্রথমে ঘটনাস্থলে যায় কাঁকরতলা থানার পুলিশ ৷ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পরে ঘটনাস্থলে সিউড়ি পুলিশ লাইন থেকেও বাহিনী পাঠানো হয় জামালপুর গ্রামে৷ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি ৷ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ৷ বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই 6 জনকে আটক করা হয়েছে । তার মধ্যে দু’জন চিকিৎসাধীন ।
দুবরাজপুরের বিধায়ক বিজেপির অনুপ সাহা বলেন, "অনুব্রত ও কাজলের লোকেরা বালির কাটমানি, তোলার টাকা নিয়ে বোমাবাজি করেছে ৷ ধিক্কার জানাই ৷ কোথা থেকে এল এই বোমা । মুখ্যমন্ত্রী যখন বেআইনি বালি নিয়ে কথা বলছেন, তখন তাঁর দলের লোকজন গ্রামে বোমাবাজি করছে ।"
উল্লেখ্য, একসময় বীরভূমে তৃণমূলের শেষকথা ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল ৷ কিন্তু গরুপাচার মামলায় যে দু’বছর তিনি জেলে ছিলেন, সেই সময় বীরভূমে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠী ক্রমশ মাথাচাড়া দেয় ৷ অভিযোগ, অনুব্রতর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর অন্যতম মাথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল ৷
অনুব্রত মাস কয়েক আগে জামিন পেয়ে বীরভূমে ফিরেছেন ৷ তার পর ক্রমশ তিনি রাজনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি করছেন ৷ সেই কারণেই তাঁর অনুগামীরাও ফের বীরভূমের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন বলেই শাসক দলের কোনও কোনও নেতার দাবি ৷ আর সেই কারণেই কাঁকরতলার এই ঘটনায় বীরভূমে তৃণমূলের ‘যুযুধান’ দুই নেতার নাম জড়িয়ে গিয়েছে ৷
তবে এই বোমাবাজির ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগাযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন বীরভূমে শাসক দলের সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, "এখানে তৃণমূলের কোনও বিষয় নেই ৷ প্রশাসন আছে, দেখছে ৷ এটা কোনও গ্রামের নিজের বিষয় বা ক্লাবের বিষয় হতে পারে ।"

