ETV Bharat / state

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে এয়ারগান-সহ আটক স্কুলশিক্ষক, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা

কালীঘাট থানায় ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তার পর তাঁকে ছেড়ে দেয় কলকাতা পুলিশ৷

Kolkata Police
লালবাজার (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : October 10, 2025 at 8:57 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 10 অক্টোবর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অদূরে অস্ত্র-সহ আটক হলেন এক প্রৌঢ়৷ শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে৷ এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে অস্ত্র-সহ কীভাবে কেউ চলে এল, উঠেছে সেই প্রশ্ন৷ তাহলে কি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক থেকে গিয়েছিল!

কলকাতা পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে এদিন বিকেলে কালীঘাট চত্বরে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়৷ ওই ব্যক্তি বারবার কালীঘাট রোড ও হাজরা রোডের সংযোগস্থলে ঘোরাফেরা করছিলেন৷ তাঁর কাছে একটি ব্যাগ ছিল৷ বিষয়টি সন্দেহ হয় পুলিশের৷ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটক করা হয় নিয়ে যাওয়া হয় কালীঘাট থানায়৷

তাঁকে দীর্ঘক্ষণ থানায় বসিয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ তল্লাশি চালানো হয় তাঁর ব্যাগে৷ সেই ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় একটি এয়ারগান৷ তাতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে৷ তখন ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হয়, এয়ারগান কোথা থেকে এল? কেন তিনি ব্যাগে এয়ারগান নিয়ে ঘুরছিলেন? কী উদ্দেশ্যে তিনি কালীঘাট চত্বরে এসেছিলেন?

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় যে ওই প্রৌঢ়ের নাম দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর বয়স 51 বছর৷ তিনি সল্টলেকের বাসিন্দা৷ পেশায় স্কুলশিক্ষক৷ তাঁর কাছে যে এয়ারগান ছিল, তা বৈধ৷ তিনি পুলিশকে সেই সংক্রান্ত সব নথিও দেখান৷ তিনি পুলিশকে জানান যে তিনি শ্রীরামপুর রাইফেল ক্লাবের সদস্য৷ শুটিং প্র্যাকটিসের জন্যই তিনি অস্ত্র বহন করছিলেন৷

পুলিশ তাঁর দাবি খতিয়ে দেখে৷ তার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, "তিনি ইংরেজি একটি স্কুলের শিক্ষক। তাঁর বাড়ি সল্টলেকে। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়৷" তবে
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

যদিও এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এত কাছাকাছি এলাকায় কেউ এভাবে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে পারলে নিরাপত্তা কোথায়? পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।

হাওড়ার মল্লিকঘাটে অস্ত্র-সহ গ্রেফতার

এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক 19 বছরের যুবককে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের উত্তর বন্দর থানা। ধৃতের নাম সুফিয়ান হোসেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার মল্লিকঘাট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সুফিয়ানের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বেশ কয়েক রাউন্ড কার্তুজ। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, “ধৃতের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, অস্ত্রটি অবৈধভাবে তার কাছে এসেছিল। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অস্ত্র সরবরাহ বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কোনও গোষ্ঠীর হয়ে কাজ করছিল ওই যুবক। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে তেমন কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জেরা করা হবে।

সূত্রের খবর, সুফিয়ানের বাড়ি তিলজলা এলাকায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সে কেন আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গভীর রাতে হাওড়ার মল্লিকঘাটে গিয়েছিল? পুলিশের সন্দেহ, কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিল সে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আপাতত বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি নয়।

এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা ধৃতের ফোন ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছি। কে বা কারা অস্ত্রটি তার হাতে তুলে দিয়েছিল, সেই তথ্য বের করাই এখন মূল লক্ষ্য।” উত্তর বন্দর থানার পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনায় অস্ত্র আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করেছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও আলাদা করে তদন্তে নেমেছে।

আরও পড়ুন -

  1. কলকাতায় ফের ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রী, এবার ঘটনাস্থল আনন্দপুর
  2. সাইকেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বচসা, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা