NRC নোটিশে আতঙ্কে ধুবুলিয়ার সঞ্জু-আশাদ, ভোটের আগে ভয়ের রাজনীতি, তোপ মহুয়ার
আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে পাশে থাকার আশ্বাস সাংসদের ৷ মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থাকার বার্তায় স্বস্তিতে, জানাচ্ছেন এনআরসি-র নোটিশ প্রাপকরা ৷

Published : October 10, 2025 at 6:48 PM IST
নদিয়া, 10 অক্টোবর: গত 3 অক্টোবর অসম সরকারের পাঠানো এনআরসি নোটিশ বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায় নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার পুলিশ ৷ আর সেই এনআরসি নোটিশ হাতে আসার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটছে ধুবুলিয়ার সোনডাঙার সঞ্জু শেখ এবং আশাদ শেখের ৷ তবে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ায় কিছুটা নিশ্চিন্তবোধ করছেন তাঁরা ৷ অন্যদিকে, এ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের আগে ভয়ের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ৷
উল্লেখ্য, দশমীর পরেরদিন নদিয়ার ধুবুলিয়া থানা থেকে সঞ্জু শেখ এবং আশাদ শেখের নামে দু’টি নোটিশ পৌঁছায় তাঁদের বাড়িতে ৷ বলা হয়, অসম সরকারের থেকে সেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৷ আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি তথা বিজেপিশাসিত রাজ্য অসম প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷
মমতা প্রশ্ন তোলেন, "এসআইআরের নামে কেন এনআরসি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে ? কোন অধিকারে অসম সরকার বাংলার বাসিন্দাদের কাছে এমন চিঠি পাঠাচ্ছে ? এসআইআরের আড়ালে বিজেপি ভোট কাটার ষড়যন্ত্রে নামছে ৷ গায়ের জোরে বাংলায় এনআরসি চালু করতে চাইলেও পারবে না ৷"
আর যাঁদের নামে এই নোটিশ দু’টি এসেছে, সেই সঞ্জু এবং আশাদ কী বলছেন ? এই নিয়ে সঞ্জু বলেন, "আমি আজ থেকে 14-15 বছর আগে অসমে মার্বেলের কাজ করতে গিয়েছিলাম ৷ মাসখানেক কাজের জায়গাতে থেকেছি ৷ তারপর বাড়ি ফিরে আসি ৷ সেই সময় ঠিকাদার আমাদের এখানকার (নদিয়া) নাম-ঠিকানা লিখে নিয়েছিল ৷ কিন্তু, এত বছর পর সেখান থেকে এনআরসি-র নোটিশ কেন এসেছে জানি না ৷ আমার বাপ-ঠাকুর'দা এই রাজ্যে জন্মেছে ৷ আমিও এখানেই জন্মেছি ৷ আর আমি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ৷ তো আমাকে অসম থেকে কেন নোটিশ পাঠালো বুঝতে পারছি না ৷"

তবে, মুখ্যমন্ত্রী পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সঞ্জু শেখ ৷ অন্যদিকে, এনআরসি-র আরেক নোটিশ প্রাপক আশাদ শেখ বলেন, "আমি প্রায় 15 বছর আগে অসমে মার্বেল, টাইলসের কাজে অসম গেছিলাম ৷ তারপর এত বছর পরে সেখান থেকে নোটিশ পাঠিয়েছে শোনার পর থেকে ভয়ে আছি ৷ আমি তো ওখানে কোনও পরিচয়পত্র বানাইনি ৷ আর ঠিকাদার কোনও পরিচয়পত্র জমাও নেয়নি ৷"
উল্লেখ্য, অসম সরকারের তরফে পাঠানো ওই এনআরসি নোটিশে সঞ্জু এবং আশাদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া অসমে প্রবেশের অভিযোগ করা হয়েছে ৷ সেই সন্দেহে তাঁদের বিরুদ্ধে এনআরসি নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৷ আর সেই সঙ্গে নিজেদের ভারতীয় হওয়ার বৈধ নথি নিয়ে অসমের এনআরসি কাউন্সিলের দফতরে জমা দিতে বলা হয়েছে ৷

তবে, পুরো বিষয়টির পিছনে বিজেপির রাজনীতি দেখছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ৷ তিনি এই নিয়ে বলেন, "ভোটের আগে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোই বিজেপির উদ্দেশ্য। এই এনআরসি নোটিশ পুরোপুরি বেআইনি । অসম সরকারের কোনও অধিকার নেই পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের কাছে এমন নোটিশ পাঠানোর ৷"

নদিয়ার মানুষের কাছে ভয় না-পাওয়ার আবেদন করেছেন সাংসদ ৷ তিনি বলেন, "এই ঘটনা প্রমাণ করছে বিজেপি কতটা পরিকল্পিতভাবে বিভাজনের রাজনীতি করছে ৷ নদিয়ার মানুষ ভয় পাবেন না ৷ আমরা প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে এই বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব ৷"

