'মরা ছাড়া উপায় নেই !' উঠোনে ভাগীরথীর জল, চিন্তায় ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের
যদিও গঙ্গার পার বাঁধানো নিয়ে কেন্দ্র সরকারের দিকেই দায় ঠেলেছেন তৃণমূল বিধায়ক ৷ পালটা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি ৷

Published : August 3, 2025 at 5:11 PM IST
শান্তিপুর, 3 অগস্ট: গঙ্গা ভাঙন অব্যাহত ৷ ভাগীরথী নদীর জল বৃদ্ধি পেয়ে এসে পৌঁছেছে বাড়ির উঠোন পর্যন্ত । হয়তো আর কয়েকদিনের মধ্যে নদীর গ্রাসে চলে যাবে বাড়িঘর ৷ পরিবারের ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাবেন, সেই ভেবেই এখন ঘুম উড়েছে ভাগীরথী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ৷ ভাঙন কবলিতরা বলছেন, 'মৃত্যু ছাড়া আর কোনও উপায় নেই ৷'
নদিয়ার নাকাশিপাড়া, নবদ্বীপ, শান্তিপুর, রানাঘাট, চাকদা থেকে শুরু করে কল্যাণী এলাকায় ভাগীরথী নদী তীরবর্তী এলাকায় হাজার হাজার পরিবার বসবাস করে । প্রতিবছর এই সময় ভাগীরথী নদীর জল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় । সেই কারণে আতঙ্কে থাকে একাধিক পরিবার । তার উপর দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গা ভাঙন যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে । গঙ্গা ভাঙতে ভাঙতে একেবারে বর্তমানে বাড়ির উঠোনে চলে এসেছে । এবার গঙ্গার পাড় ভাঙা মানে ভিটে-বাড়ি সবকিছু নদীবক্ষে তলিয়ে যাবে ।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন সর্বহারা হওয়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যে আশ্বাসে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী । তাদের দাবি, প্রতিবছর ভোট এলেই জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় এসে ভুড়ি ভুড়ি আশ্বাস দেন ৷ পাকাপোক্তভাবে গঙ্গার পাড় বাঁধিয়ে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান ৷ তবে কাজের কাজ কিছু হয় না ৷ ভোট পার হয়ে গেলে প্রতিশ্রুতিই রয়ে যায় সেটা । কেউ আর মুখ ফিরেও তাকায় না ।
গ্রামবাসী চায়না সরদার বলেন, "প্রতিবছর ভাঙন দেখা দেয় ৷ তাতে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় ৷ গঙ্গা বাড়ির কাছে চলে এসেছে ৷ এবার সব তলিয়ে যাবে ৷ জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি ৷ দুটো বস্তা ফেলে চলে যায় ৷ কিছু হয় না ৷ এভাবেই আমাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করতে হবে ৷ মরে গেলে যাব ৷ গঙ্গা ভাঙন আটকানোর ফের দাবি জানাব ৷ জানি না হবে কি না কিছু ৷"

আরেক বাসিন্দা বৈশাখী সরদার বলেন, "আমরা খুব ভয়ে আছি ৷ আমরা বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাব ৷ আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই ৷ প্রত্যেক বছর প্রতিশ্রুতি মেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না ৷ আমরা যেখানেই ছিলাম সেখানেই রয়ে গেছি ৷ কংক্রিটের পাকাপোক্ত পাড় চাই আমরা ৷"
এ বিষয়ে বিজেপি নেতা সোমনাথ কর বলেন, "দিন দিন গঙ্গা ভাঙন বাড়ছে ৷ এত বছর ধরে এতজন জনপ্রতিনিধি এল গেল কারও ভাঙন নিয়ে হেলদোল দেখলাম না ৷ সাময়িকভাবে ঠেকনা দিয়ে রেখেছিল ৷ একাধিকবার সংসদে আমাদের রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার এ বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছেন । কিন্তু রাজ্যে সরকারের উদাসীনতার ফলে সেইসব প্রকল্প বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না ।"
যদিও বিজেপির তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শান্তিপুর বিধানসভা তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী । তিনি পালটা মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, "একাধিকবার এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে । গঙ্গার পাড় বাঁধানোর বিষয়ে যেহেতু প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয় । আর এ বিষয়টা সম্পূর্ণ কেন্দ্র সরকারের তত্ত্বাবধানে ৷ কেন্দ্র সরকার কোনও সাহায্য না করার কারণে পাকাপোক্তভাবে গঙ্গা বাঁধানো যাচ্ছে না ।"

