ETV Bharat / state

'বেআইনি' সোনাঝুরির হাট ! আইনি পদক্ষেপের পথে সুভাষ দত্ত

সোনাঝুড়ির হাট পরিদর্শন করলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত ৷ ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জানান, দূষণ বন্ধ করতে এই হাটের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন ৷

GREEN ACTIVIST SUBHAS DUTTA AT SONAJHURI HAAT
সোনাঝুড়ির হাট পরিদর্শনে গিয়ে ছবি তুলছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : April 7, 2025 at 8:52 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বোলপুর, 7 এপ্রিল: শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির খোয়াই হাট 'বেআইনি' ৷ এমনই দাবিকে সামনে রেখে এবার জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত । সোমবার, সোনাঝুরি হাট-সহ সংলগ্ন হোটেল-রিসর্টগুলি ঘুরে দেখেন তিনি ৷ বিভিন্ন ছবিও সংগ্রহ করেন । তাঁর বক্তব্য, বন দফতরের জায়গায় কোনওভাবেই একটি ব্যবসায়িক হাট চলতে পারে না ৷

এই বিষয়ে পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, "সোনাঝুরির সোনা ঝড়ে গিয়েছে । এটা এখন জং ধরা লোহা ৷ এত সুন্দর একটি অক্সিজেন জোন, বন দফতরের জায়গা ৷ সেটি নন-ফরেস্ট অ্যাক্টিভিটিতে ভরে গিয়েছে ৷ যা হচ্ছে তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না ৷ বন আইন অনুযায়ী ফরেস্টে কোনও নন-ফরেস্ট অ্যাক্টিভিটি করা যাবে না । এখানে সবই হচ্ছে । আমি এই নিয়ে পরিবেশ আদালতে যাব ৷ প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও যাব ।"

সোনাঝুড়ির হাট নিয়ে বিস্ফোরক পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত (ইটিভি ভারত)

2000 সাল থেকে স্থানীয় গুটিকয়েক আদিবাসী শিল্পী শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির জঙ্গলে তাঁদের শিল্পকর্মের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেন ৷ তাও শুধুমাত্র সপ্তাহে একটি দিন, শনিবার । এই খোয়াই হাট বসিয়েছিলেন আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীর। রাজ্যে পালাবদলের পর এই হাটের পরিধি বাড়তে শুরু করে ৷ হু হু করে বাড়তে থাকে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও ৷ বর্তমানে প্রায় 1800 ব্যবসায়ী এই হাটে বসেন ৷ এখন শুধু শনিবার নয়, রোজ হাট বসে ৷

Hotel and resort at Sonajhuri
সোনাঝুড়ির জঙ্গলে গজিয়ে ওঠা বেআইনি রিসর্টের ছবি তুলছেন সুভাষ দত্ত (ইটিভি ভারত)

শুধু তাই নয়, এই হাটে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চার চাকা গাড়ির দৌরাত্ম্যও দেখা যায় ৷ একেবারে জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়ে গাড়িগুলি । বন সুরক্ষা আইন অনুযায়ী বন দফতরের জায়গায় ব্যবসায়িক হাট সম্পূর্ণ বেআইনি ৷ সেই আইনকে উপেক্ষা করে শুধু যে বিকিকিনি চলে তা নয়, যথেচ্ছভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার হয় ৷ সেই প্লাস্টিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে জঙ্গল এলাকাতেই ৷ এই নিয়ে বহুবার সরব হয়েছেন অনেকে । কিন্তু কোনও ফল হয়নি ৷ বন দফতরের তরফেও মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয় ৷ তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলেই মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা ৷

Soanjhuri Haat Birbhum
সোনাঝুড়ি হাটে পরিবেশের ক্ষতি, পরিদর্শনে গিয়ে ছবি তুললেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত (ইটিভি ভারত)

'পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মানে না বিশ্বভারতী !' ক্ষোভ সুভাষের - বিশ্বভারতী

এমনই আবহে এবার শান্তিনিকেতনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়ে সরব হলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত । এদিন তিনি নিজে হাট ঘুরে দেখেন ৷ পাশাপাশি এদিক ওদিক পড়ে থাকা প্লাস্টিক, জঙ্গলে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চারচাকা গাড়ি, মরে যাওয়া গাছ, হাটের পাশেই গজিয়ে ওঠা হোটেল, রিসর্ট, আবর্জনার স্তুপ প্রভৃতির ছবিও সংগ্রহ করেন ৷ 'বেআইনি' এই সোনাঝুরি হাট নিয়ে তিনি জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানান ৷

BIRBHUM SONAJHURI HAAT
এভাবেই প্লাস্টিকে ভরছে সোনাঝুড়ি জঙ্গল (ইটিভি ভারত)

সুভাষ দত্ত আরও বলেন, "আগে সপ্তাহে একদিন হাট বসত ৷ কোন এক নেতা বলে দিলেন হাট রোজ বসবে ৷ হোটেলগুলো ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে গাছ কেটে কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করছে । এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম আর এই জঙ্গল দেখতে পাবে না । সোনাঝুরির ভূগোলকে ইতিহাসে পরিণত করা হচ্ছে ৷"

প্রসঙ্গত, এর আগেও পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার দূষণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন ৷ তাঁর দায়ের করা মামলার ফলে আজও আদালতের নির্দেশে মেনে দূষণ বিধি মাথায় রেখে মেলার আয়োজন করতে হয় বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টকে ৷ এবার তিনি বন দফতরের জায়গায় 'বেআইনি' সোনাঝুরির খোয়াই হাট নিয়ে সরব হলেন ৷