7 দিনে পুলিশ-সেনায় চাকরি! ‘ভুয়ো’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অভিযান, জালে প্রাক্তন জওয়ান-সহ 2
ব্যারাকপুরের শিউলি এলাকার ঘটনা৷ গ্রেফতার হওয়া দু’জনের নাম গোপাল দাস ও নির্মল মাইতি৷ নির্মলই প্রাক্তন সেনা জওয়ান৷

Published : October 10, 2025 at 6:35 PM IST
ব্যারাকপুর (উত্তর 24 পরগনা), 10 অক্টোবর: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনার প্রাক্তন জওয়ান খুলে বসেছিলেন 'ভুয়ো' প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। পুলিশি অভিযানে বড়সড় প্রতারণা চক্রের পর্দা ফাঁস হল। ঘটনাটি ব্যারাকপুরের শিউলি এলাকার। চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দু'জনকে গ্রেফতার করেছে মোহনপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম গোপাল দাস ও নির্মল মাইতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নির্মলই প্রতারণা চক্রের মাথা। পেশায় সে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ান। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ব্যারাকপুরের শিউলি এলাকায় এই 'ভুয়ো' প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি খুলেছিলেন। সেখানে আসা চাকরিপ্রার্থীদের নির্মল স্বপ্ন দেখাতেন সাতদিনের মধ্যে WBCS, পুলিশ অথবা সেনার নানা পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সূচনার দিনকয়েকের মাথায় ‘স্বপ্নভঙ্গ’।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোহনপুর থানার পুলিশ হানা দেয় শিউলি এলাকার ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় সেনার প্রাক্তন জওয়ান-সহ দু'জনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ফোন, ল্যাপটপ-সহ বিভিন্ন নথিপত্র। ইতিমধ্যে 'ভুয়ো' ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ। এর নেপথ্যে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাতদিনের মধ্যে WBCS অফিসার কিংবা সেনা অথবা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি হয়ে যাবে, এই টোপ দিয়ে সুদূর গ্রাম থেকে যুবক-যুবতীদের টেনে আনা হতো ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। তাঁদের মনে যাতে কোনও সন্দেহ না-হয় তার জন্য ব্যারাকপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খুলে ফেলেছিলেন অভিযুক্তরা। অভিযোগ, সেখানে পড়ুয়াদের রাখার ব্যবস্থাও ছিল। এভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে পুলিশ ও সেনায় চাকরি পাইয়ে দেবে বলে অভিযুক্তরা চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া নিয়েছিল।

কিন্তু, কীভাবে পুলিশ চক্রের পর্দা ফাঁস করল?
জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে হঠাৎই ওই দু'জন এসে এলাকায় ঘর ভাড়ার খোঁজ করতে শুরু করেন। বেশি টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নিতেও রাজি ছিলেন তাঁরা। তাঁদের এই কাণ্ড দেখে প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি স্থানীয় লোকজন। কিন্তু, পরে জানতে পারেন রাস্তার পাশে একটি নির্জন এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসেছে নির্মল'রা। সেখানে অচেনা লোকজনের ভিড় দেখে সন্দেহ তৈরি হয় বাসিন্দাদের মনে। এর পর পুলিশে খবর দিতেই খোলসা হয় আসল রহস্য! প্রকাশ্যে আসে প্রতারণা চক্র।

স্থানীয়দের দাবি, "গত কয়েকদিনে 400 থেকে 500 জন চাকরিপ্রার্থী ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের থেকে প্রশিক্ষণ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল।" প্রথমে এলাকার লোকজনের ধারণা ছিল সেনার কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চলছে সেখানে। পরে পুলিশ আসতেই সেই ধারণা পুরোপুরি পাল্টে যায়। বুঝতে পারেন সেনার বদলে চাকরির ভুয়ো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসেছেন অভিযুক্তরা। এরকম প্রতারণা চক্র আরও একাধিক জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

এদিকে, এই নিয়ে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা আতঙ্কে মুখ খুলতে নারাজ। তবে, অঙ্কিত পাল নামে ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, "বৃহস্পতিবার রাতে আমি এখানে শিফট হয়ে এসেছি। শুক্রবার আমার প্রথম ডিউটি ছিল এখানে। কিন্তু, এসে দেখলাম প্রচুর পুলিশ এসেছে। এখানে 500 জনেরও বেশি যোগ দিয়েছিল। পড়াশোনা হতো এটুকু জানি। বাকি কী বিষয় সেটা বলতে পারব না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বিষয়টি নিয়ে ভালো বলতে পারবে।"
অন্যদিকে, ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, "ঘটনায় দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আর কারও যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।"

