জলপাইগুড়িতে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল রেললাইন, সংস্কার করে শুরু ট্রেন চলাচল
জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে জলের তোড়ের ভেসে গিয়েছিল আলতাগ্রাম ও বেতগাড়ার মধ্যে রেললাইন ৷ সংস্কার করে ট্রেল চলাচল শুরু রেল ৷

Published : October 13, 2025 at 1:43 PM IST
জলপাইগুড়ি, 13 অক্টোবর: বন্যা পরিস্থিতিতে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল আলতাগ্রাম ও বেতগাড়ার মধ্যে রেললাইনের কালভার্ট ৷ ব্যাহত হয় উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ৷ 7 দিনের মধ্যে সেই কালভার্টের পাড় বাঁধিয়ে গার্ডওয়াল দিয়ে স্টিলের স্ল্যাব পেতে রেল চলাচল শুরু করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশন ৷ আপাতত ঘণ্টায় 10 কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে অস্থায়ী এই ট্র্যাকে ৷ পরবর্তীতে পাকা সেতু নির্মাণ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ ৷
গত সপ্তাহে একরাতের ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ৷ তিস্তা, জলঢাকা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ভেসে যায় বাড়ি, ঘর, ইলেকট্রিকের পোল, রাস্তাঘাট এমনকী সেতুও ৷ প্রাণ হারান একাধিক মানুষ ৷ জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে জলের তোড়ের ভেসে যায় আলতাগ্রাম ও বেতগাড়ার মধ্যে অবস্থিত রেললাইনের কার্লভাট ৷
জলের স্রোতে ভেসে যায় রেললাইনের নীচের অংশও । ফলে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের তরফে ৷ নিউ আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটা, ধূপগুড়ি হয়ে ময়নাগুড়ি রুটে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রেন চলাচল ৷ বিকল্প হিসাবে ঘুরপথে নিউ আলিপুরদুয়ার, মাথাভাঙা, জলপাইগুড়ি রোড হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি দিয়ে ট্রেন চলাচল করানো হয় ৷ ব্যাহত পড়ে উত্তর-পুর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম রেলপথ ৷
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত 8 অক্টোবর ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের পরিদর্শনে আসেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন শ্রীবাস্তব, আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার দেবেন্দ্র সিং-সহ রেলের একাধিক আধিকারিক । এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দিনরাত পরিশ্রম করে রেললাইন সংস্কারের কাজে লেগে পড়েন রেলকর্মীরা ৷ অবশেষে রবিবার ময়নাগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি রুটে আলতাগ্রাম আর বেতগাড়ার মধ্যে 58নং সেতুর সংস্কার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করলেন তাঁরা ৷

এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে ডিভিশনের কমার্শিয়াল ম্যানেজার আসিফ আলি জানান, রেলকর্মীরা লাগাতার কাজ করে রেললাইন সংস্কার করেছেন । পরীক্ষার জন্য প্রথমে মালগাড়ি চালানো হয় । তারপর প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানো হয় ৷
4 অক্টোবরের রাতের ভারী বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বন্যার সৃষ্টি হয় ৷ জলের স্রোত আর ভূমিধসের কারণে ভেঙে পড়ে একাধিক সেতু ৷ ভেসে যায় একাধিক রাস্তা ৷ ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ৷ জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে দুধিয়ার সেতুও ৷ সম্প্রতি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গ সফরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মৃতদের পরিবার পিছু 5 লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যে তুলে দেন তিনি ৷ এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফে ৷

