ফের ট্রেন লক্ষ্য করে ইট-পাথর বৃষ্টি ! মাথা ফেটে রক্তারক্তি রেলযাত্রীর
কারও ফাটল মাথা, কারও চোট লাগল হাতে তো কারও পায়ে ৷ ট্রেন লক্ষ্য় করে যাত্রীদের উদ্দেশে দুষ্কৃতীদের ইটবৃষ্টি ৷ মল্লিকপুর স্টেশনে আতঙ্ক ৷

Published : August 5, 2025 at 12:16 PM IST
মল্লিকপুর, 5 অগস্ট: ফের মল্লিকপুর স্টেশন থেকে ট্রেন লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটেছে। তিনি পেয়ারা বিক্রেতা, নাম হোসেন আলি লস্কর।
জানা গিয়েছে, কলকাতায় পেয়ারা বিক্রি করে শিয়ালদা থেকে সন্ধ্যা 6টা 57 মিনিটের নামখানা লোকালে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন হোসেন। তাঁর বাড়ি ধপধপি 2 নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায়। ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে উঠে গেটের সামনে বসেছিলেন তিনি। মল্লিকপুর স্টেশনে ট্রেন থামতেই একদল যুবক অতর্কিতে পাথর ছুড়তে থাকে বলে অভিযোগ। ওই কামরায় গেটের কাছে যাঁরা ছিলেন তাঁদের অনেকেরই গায়ে তা লাগে। কারও হাতে চোট লেগেছে কারও পায়ে। কিন্তু গেটের সামনে থাকায় হোসেনের মাথায় ইট লেগে ফেটে যায়।
বারুইপুর স্টেশনে নেমে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে ওই বিক্রেতার। বাকি যাঁরা সামান্য চোট পেয়েছিলেন, তাঁদের বারুইপুর জিআরপি থেকে সোনারপুর নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কামরায় থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "হোসেন ট্রেনে ওঠার পর কোনও এক ব্যক্তির সঙ্গে গেটের কাছে বসা নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। ওই ব্যক্তি মল্লিকপুর নামতেই শুরু হয় ইট বর্ষণ। ওই যাত্রীর ইন্ধনেই এই পুরো আক্রমণ হয়েছে বলেই মনে হয়।"
গত শনিবারও ইট ছোড়ার ঘটনায় আহত হন একজন
প্রসঙ্গত, গত শনিবার ও শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার মল্লিকপুর স্টেশনে ঢোকার আগে আপ নামখানা লোকালের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা রেলযাত্রী মিঠুন মণ্ডলের মুখে একটি পাথর লাগে। পাথর লাগার সঙ্গে সঙ্গে মিঠুন মাথা ঘুরে চলন্ত ট্রেন থেকে লাইনে পড়ে যাচ্ছিলেন। পাশে থাকা বন্ধু ও অন্যান্য রেলযাত্রীরা তাঁকে ধরে নেন। মল্লিকপুর স্টেশনে ট্রেনটি ঢোকার পরে গুরুতর আহত মিঠুনকে ট্রেন থেকে নামিয়ে টিকিট কাউন্টারে নিয়ে গিয়ে সাহায্য চান তাঁর বন্ধু ও অন্যান্য রেল যাত্রীরা।
অমানবিক রেল
কিন্তু অমানবিক রেলকর্মীদের কোনও সাহায্য না-পেয়ে মিঠুনকে নিয়ে হরিহরপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মুখের আঘাত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে তাঁকে রেফার করেন। মিঠুনের মুখের উপরের পার্টির তিনটি দাঁত পড়ে গিয়েছে। আরও চারটি দাঁত নড়বড়ে অবস্থায়। ঠোঁটে সাতখানা সেলাই পড়েছে। কে বা কারা কী উদ্দেশে রেলযাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ল তা এখন পরিষ্কার নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে রেল যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে।
মিঠুনের চিকিৎসার খরচ চলবে কীভাবে ?
মিঠুন মণ্ডল শনিবার সকাল 6.25 মিনিটে গোচরণ স্টেশন থেকে সোনারপুর পর্যন্ত যাওয়ার টিকিট কেটেছিলেন। মিঠুন দীর্ঘদিন ধরেই মল্লিকপুর স্টেশনে নেমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে দিনমজুরের কাজ করতে যান। হঠাৎ করে এরকম আঘাত পাওয়ায় বাড়িতে কতদিন বসে থাকতে হবে তিনি জানেন না। দিন আনা দিন খাওয়া মিঠুনের পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু, এখনও রেল কিংবা সোনারপুর জিআরপি বা সোনারপুর আরপিএফের তরফ থেকে মিঠুন বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করা হয়নি।
নির্বিকার রেল, আরপিএফ ও জিআরপি
মল্লিকপুর স্টেশনে থাকা রেল কর্মীদের ঘটনা কথা জানানোর পরেও কেন এত অবহেলা তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সোনারপুর জিআরপিতে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিঠুনের পরিবার। মিঠুন অসুস্থ থাকায় এখনও পর্যন্ত তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। কিন্তু তাদের স্পষ্ট দাবি, আর্থিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিক রেল পাশাপাশি রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জোরদার করা হোক। এই বিষয়ে সোনারপুর রেল পুলিশ জানিয়েছে, সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে।

