পুলিশের 'পরিচয়' দিয়ে বর্ধমানে অন্তঃসত্ত্বা আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে মার, নষ্ট তাঁর গর্ভের সন্তান
মহিলা আইনজীবীকে রাস্তায় ফেলে মার ৷ বুধবার বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির ডাক ৷

Published : March 19, 2025 at 7:25 AM IST
বর্ধমান, 19 মার্চ: বর্ধমান জেলা আদালতের এক জুনিয়র মহিলা আইনজীবীকে পুলিশের পরিচয় দিয়ে মদ্যপ অবস্থায় বেধড়ক মারধর করার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। দোলের দিনে ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের রামকৃষ্ণ রোড এলাকায়।
ঘটনার জেরে ওই আইনজীবীর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ ৷ ঘটনার পরে তিন দিন কেটে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি ৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা। প্রতিবাদে বুধবার আদালতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন তাঁরা ৷

মঙ্গলবার ওই আইনজীবী বলেন, "আমি হোলির দিনে স্বামী, দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গে যাচ্ছিলাম। রামকৃষ্ণ রোড দিয়ে যাওয়ার সময় দুটো ছেলে এসে গাড়িতে ধাক্কা মারে ৷ তাদের আস্তে গাড়ি চালাতে বলি। পিছন থেকে আর একটা বাইক এসে দাঁড়ায়। তাদের বাইকে পুলিশের স্টিকার লাগানো ছিল। হঠাৎ বাইক থেকে নেমে এক যুবক আমাকে ঘাড় ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারতে শুরু করে। আমার স্বামী জিজ্ঞাসা করতে গেলে তারা নিজেদের বর্ধমান থানার পুলিশের পরিচয় দেয়। আমার পেটে লাথি মারে। আমার স্বামী জানায়, আমি অন্তঃসত্ত্বা। সেটা জানার পরে ফের আমার পেটে লাথি মারা হয়। আমি মার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমার দিদিকে ফেলে দেয়। সেখান থেকে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে দুর্ব্যবহার শুরু করে। ইতিমধ্যেই আমার ব্লিডিং শুরু হয়ে যায়। আমরা হাসপাতালে যাই। সেখানে চিকিৎসা করাই। কিন্তু হাসপাতালে বলে থানা থেকে অভিযোগ পত্র জমা দিয়ে সেই রিসিভ কপি আনতে হবে। পরের দিন ফের থানায় যাই অভিযোগ জানাতে । হোলি থাকায় থানায় সেভাবে কেউ ছিল না। ফলে কেউ অভিযোগ নেয়নি। এরপর বার অ্যাসোসিয়েশনে বিষয়টি জানালে অভিযোগ জমা নেয়।"

বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জেলা জজ, জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। 72 ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করতে না-পারলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় ৷ এমনকি বুধবার বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা বলেন, "হোলির দিনে জুনিয়র মহিলা আইনজীবীকে দু'জন যুবক মারধর করে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। বর্ধমান থানায় গেলে পুলিশ কোন সহযোগিতা করেনি। আমরা পুলিশকে 72 ঘণ্টা সময় দিয়েছি দোষীদের ধরার জন্য ৷ পুলিশ যদি না-পারে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নেব। এর প্রতিবাদে বুধবার আমরা আদালতে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছি।"

