গ্রাহকের অজান্তে নথি ব্যবহার করে সক্রিয় হচ্ছে সিমকার্ড, ব্যবহার সাইবার প্রতারণায়, ধৃত তিন
চলতি সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও বেলডাঙা থেকে গ্রেফতার তিন ৷ উদ্ধার কয়েকশো সিম ৷ সব মিলিয়ে দু’কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে, মনে করছে পুলিশ ৷

Published : August 30, 2025 at 4:17 PM IST
বেলডাঙা (মুর্শিদাবাদ), 30 অগস্ট: রেজিনগরের পর এবার বেলডাঙায় ধৃত সাইবার জালিয়াতি চক্র । বেলডাঙা থানার জগুনকা থেকে গ্রেফতার দুই ভাই । ধৃতদের নাম দুলহান শেখ ও আশিক ইকবাল । তাঁদের বাড়ি বেলডাঙা থানার মহ্যমপর । তাঁদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিভিন্ন নামে অ্যাক্টিভেট করা 311টি সিম ও চারটি কিপ্যাড মোবাইল ।
শনিবার দু’জনকে আদালতে পেশ করে পুলিশ ৷ আশিক ইকবালকে পাঁচদিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত ৷ আর দুলহান শেখকে 14 দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে ৷
পরপর দু’দিনে দুই সাইবার প্রতারণার নয়া চক্র পুলিশের জালে । অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, বেলডাঙা থেকে শয়ে শয়ে অ্যাক্টিভেট করা সিম নানা জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে । সেই সিম ব্যবহার করেই চলছে সাইবার প্রতারণা চক্র । জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি নদীয়া, উত্তর 24 পরগনা, বীরভূম ও হুগলি জেলা-সহ ভিনরাজ্যে বিভিন্ন কোম্পানির চালু সিম পাচার করছে এই সব দালাল চক্র ।
সাইবার ক্রাইম থানার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার এই কারবারে যুক্ত সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করে রেজিনগর থানার পুলিশ । রেজিনগর থানার লোকনাথপুরের মাঝপাড়ার বাসিন্দা মিলন শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করে । অভিযুক্ত যুবক ওই এলাকায় ‘পয়েন্ট অফ সেল’ বা পস চালাত । তার নামেই মোবাইল ও সিমের দোকান রয়েছে । ধৃতের কাছ থেকে নানা কোম্পানির 31টি 5জি ও 4জি সিম উদ্ধার হয়েছে ।

উদ্ধার হওয়া সমস্ত সিমই চালু ছিল । ধৃতকে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হয় ৷ বিচারক তাঁকে ছয়দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন । পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে । এদিকে ঠিক একদিন পর একই জালিয়াতি চক্রে দুই ভাইকে গ্রেফতার করল বেলডাঙা থানার পুলিশ ।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার যেসমস্ত ব্যক্তি মিলন, আশিকের দোকান থেকে সিম কিনতে আসতেন, তাঁদের নথিপত্র জাল করেই তিনি অতিরিক্ত সিম সক্রিয় করতেন । এই জন্য বায়োমেট্রিক স্ক্যানারে বারবার গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ নিয়ে নিতেন । গ্রামের মানুষ ঘুণাক্ষরেও বুঝতেও পারেননি, তাঁদের এক-একজনের নামে কত সিম সক্রিয় করা হয়েছে । ভিনরাজ্য থেকে পুরাতন মোবাইল কিনে সেখানে ব্যবহার করা সিম খুলে অ্যাক্টিভেট করা হতো । সেই সিম মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁরা প্রতারকদের কাছে পৌঁছে দিতেন ।
বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ‘‘অভিযুক্ত যুবক বহু সিম অ্যাক্টিভেট করতেন । সেগুলি সাইবার প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হতো । মুর্শিদাবাদ থেকে দু’তিনজন দালাল মারফত এই সিম নানা জেলায় ও ভিনরাজ্যে পৌঁছে যেত । আমরা বেশ কিছু অ্যাক্টিভ সিম-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি । তাঁকে পুলিশ হেফাজতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে ।’’
পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন, মিলন শেখের দোকান থেকে প্রতারকদের হাতে যে সিম গিয়েছে, তার মাধ্যমে নানা জেলায় অন্তত 50 লক্ষ টাকার সাইবার প্রতারণা হয়েছে । আশিকের এই অ্যাক্টিভেট সিম ব্যবহার করে সাইবার প্রতারকরা মুর্শিদাবাদ থেকে অন্তত দেড় কোটি টাকার প্রতারণা করা হয়েছে । সেই প্রতারিতদেরও খোঁজ শুরু হয়েছে ৷ জেলায় আর কোথাও এমন প্রতারক চক্র রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

