পোলেরহাটে তৃণমূল বিধায়ক শওকতের বিরুদ্ধে পোস্টার, হইচই ভাঙড়ে - Saokat Molla
Saokat Molla: ভাঙড়ে পোস্টার পড়ল ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তৃণমূলের শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে ৷ পোস্টারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, শওকত মোল্লাকে কেন এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না ? এই নিয়ে হইচই পড়েছে স্থানীয় রাজনীতিতে৷ শওকত মোল্লার বক্তব্য, এই ধরনের পোস্টার ভাঙড়ে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে ৷

Published : April 20, 2024 at 1:04 PM IST
|Updated : April 20, 2024 at 4:02 PM IST
ভাঙড়, 20 এপ্রিল: তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল ৷ দক্ষিণ 24 পরগনার ভাঙড় বিধানসভার পোলেরহাট থানার শ্যামনগর এলাকায় এই পোস্টার পড়েছে ৷ পোস্টারে লেখা রয়েছে, ’’ক্যানিং ও জীবনতলা থেকে লোক এনে ভাঙড়ে সন্ত্রাস করে খুনের দায়ে আরাবুল জেলে, সওকত মোল্লা বাইরে কেন ? প্রশাসন জবাব দাও !’’ ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা হিসেবে পরিচিত ৷ তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ায় হইচই পড়েছে ওই এলাকায় ৷

এই নিয়ে যথারীতি রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ৷ কে পোস্টার দিল সেই প্রশ্নও উঠেছে ৷ বিরোধীরা কেউ দিল, নাকি শাসক দলে শওকতের কোনও বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর কাজ এটা, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে ৷ কারণ, পোস্টারে কারও নাম না থাকলেও একাধিক ইস্যুতে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে শুধু সওকতকেই ৷

সেখানে আরও লেখা হয়েছে, ‘‘জনগনের প্রকল্পের টাকা চুরি করে নেতা-মন্ত্রীরা সব জেলে কেন ? কয়লা কাণ্ডের অভিযুক্ত শওকত মোল্লা জবাব দাও ।’’ পোস্টারে টানা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ৷ লেখা হয়েছে, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দ্বারা স্বীকৃত বোমা-গুলির মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার এই ভাঙড়ে ঠাঁই নাই ।’’ নির্বাচনী বন্ড নিয়েও সওকতের কাছেই জবাব চাওয়া হয়েছে পোস্টারে ৷ লেখা হয়েছে, ‘‘ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতিতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল শীর্ষে কেন ? শওকত মোল্লা জবাব দাও ।’’

ভাঙড় যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে ৷ এই কেন্দ্রে 2009 থেকে জিতছে তৃণমূল কংগ্রস ৷ সেখানে তৃণমূলের হয়ে সাংসদ হয়েছেন সুগত বসু, কবীর সুমন ও মিমি চক্রবর্তী ৷ এঁরা কী কাজ করেছেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে পোস্টারে ৷ এই নিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে শওকত মোল্লা ও এবার যাদবপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া সায়নী ঘোষের কাছে ৷ আর পোস্টারের একেবারে নিচে লেখা হয়েছে, ‘‘ভাঙড়বাসীর খুনি-সন্ত্রাসবাদী শওকত মোল্লা ভাঙড় থেকে দূর হটো ।’’

যদিও এই নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক ৷ তিনি বরং বলছেন, ‘‘যাঁরা পোস্টার মারছেন, তাঁরা আমাদের আর্শীবাদ করছেন । যত এমন করবেন, ততবেশি এই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস শক্তিশালী হবে ৷’’ তবে তিনি এই নিয়ে জমি কমিটিকে নিশানা করেন ৷ বলেন, ‘‘জমি কমিটি থেকে ওদের লোকজন আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে, সেই কারণে ওদের গায়ে জ্বালা ধরেছে । তাই এসব করছে ।’’

অন্যদিকে ভাঙড়ে জমি কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মির্জা হাসান জানান, শওকত মোল্লারা গত কয়েকদিন ধরে জমি কমিটির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অপপ্রচার করে যাচ্ছেন এবং অর্থের বিনিময়ে দল ভাঙানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন । পোলেরহাট এলাকার সাধারণ মানুষের উদ্যোগে বাস্তবের প্রতিফলন হল এই পোস্টারে ।"

এই পোস্টার-কাণ্ডে আইএসএফ-এর ষড়যন্ত্র দেখছেন অনেকে ৷ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাঙড়-2 ব্লকে আইএসএফের সভাপতি রাইনুর হক ৷ তিনি বলেন, ‘‘আইএসএফ এই ধরনের কুৎসা, অপপ্রচারের রাজনীতি করে না । এই ঘটনার সঙ্গে আইএসএফ কোনোভাবেই জড়িত নয় ।’’
আরও পড়ুন:

