ETV Bharat / state

‘ভাড়া’ 200 টাকা! ট্রলি না-পেয়ে করিডরেই মৃত্যু রোগীর, কাঠগড়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল

মৃতের নাম বিশ্বজিৎ চন্দ (38)৷ চিকিৎসায় গাফিলতি ও ট্রলি নিয়ে দালালরাজের অভিযোগ উঠেছে৷ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

Medical Negligence in NBMC
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের করিডরে পড়ে বিশ্বজিৎ চন্দের নিথর দেহ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 26, 2025 at 7:02 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

শিলিগুড়ি (দার্জিলিং), 26 সেপ্টেম্বর: জরুরি বিভাগ থেকে মেল মেডিসিন ওয়ার্ড৷ পায়ে হেঁটে বড়জোড় দশ মিনিট৷ এইটুকু পথ অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যেতে লেগে গেল তিনঘণ্টারও বেশি সময়৷ তাও পুরো পথ যাওয়া সম্ভব হল না৷ করিডরেই শেষ হয়ে গেল 38 বছরের এক যুবকের জীবন৷

চিকিৎসায় গাফিলতি ও ট্রলি নিয়ে দালালরাজের জেরেই বিশ্বজিৎ চন্দ নামে ওই যুবকের এমনই পরিণতি হল বলে অভিযোগ৷ মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷ শুক্রবারের এই ঘটনা ঘিরে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে৷ মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপরই চাপিয়েছে বিশ্বজিতের পরিবার৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে৷

‘ভাড়া’ 200 টাকা! ট্রলি না-পেয়ে করিডরেই মৃত্যু রোগীর, কাঠগড়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল (ইটিভি ভারত)

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসায় গাফিলতি!

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎ চন্দ বাগডোগরার বাসিন্দা। শুক্রবার সকালে আচমকা বমি ও পেটে ব্যাথার উপসর্গ নিয়ে প্রথমে বাগডোগরার ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসার পরও তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়৷ তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেই মতো রোগীর পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন৷

পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিশ্বজিতের সেভাবে কোনও চিকিৎসা করা হয়নি৷ সরাসরি তাঁকে মেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করার জন্য বলা হয়। সেই সময় বিশ্বজিতের হেঁটে যাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না৷ প্রয়োজন ছিল হুইল চেয়ার বা ট্রলির৷ কিন্তু সেই ট্রলি বা হুইল চেয়ারের জন্য প্রায় তিনঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেন বিশ্বজিতের পরিজনরা৷ কিন্তু কিছুই মেলেনি৷ শেষে নিজেরাই ওয়ার্ডের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়৷

Medical Negligence in NBMC
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রোগীর পরিজনদের ভিড় (নিজস্ব ছবি)

ট্রলির ‘ভাড়া’ 200 টাকা!

পরিবারের সদস্যদের দাবি, হাসপাতালের করিডরে ব্লাড ব্যাংকের কাছে এক কর্মীর কাছে ট্রলির দেখা মেলে৷ ট্রলির জন্য তাঁদের কাছে 200 টাকা চাওয়া হয়৷ তাঁরা সেই টাকা দিতে রাজি হন৷ তার পরও তাঁদের ট্রলি দেওয়া হয়নি৷ শেষপর্যন্ত হাসপাতালের করিডরেই শোয়ানো হয় বিশ্বজিৎকে৷ তখন শারীরিক পরিস্থিতি একেবারে আশঙ্কাজনক৷

হাসপাতালের করিডরে মৃত্যু

পরিজনদের দাবি, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় বিশ্বজিৎ চন্দের৷ চিকিৎসায় গাফিলতি ও দালালরাজের জেরে করিডরে রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এই খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে যায়৷ এই নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়৷ খবর যায় মেডিক্যাল ফাঁড়িতে৷ সেখান পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ছুটে আসেন হাসপাতালের আধিকারিকরা। তাঁরা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

Medical Negligence in NBMC
এই করিডরেই রোগীর মৃত্যু হয়৷ (নিজস্ব ছবি)

পরিবার কী বলছে?

মৃতের দাদা গোপাল চন্দ বলেন, "জরুরি বিভাগে ভর্তি করার পরে তিন ঘণ্টা ভাই বিনা চিকিৎসায় পরে থাকল। একটা ট্রলি বা হুইল চেয়ার পেলাম না। আমি ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।" মৃতের মাসি নূপুর পাল বলেন, "জরুরি বিভাগে ভর্তি করি। ওখানে খালি স্যালাইনের চ্যানেল করে ছেড়ে দেয়৷ তিন ঘণ্টা আমরা ট্রলির জন্য অপেক্ষা করি। পাইনি। কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু আমরা বয়স্করা পারিনি। মাঝে একজনের কাছে ট্রলি দেখতে পাই। আমাদের কাছে 200 টাকা চায়। আমরা দেব বলি। কিন্তু তাও দেয়নি। ছেলেটা রাস্তাতেই মারা গেল। এর বিচার চাই।"

কী বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ?

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার সুদীপ্ত মণ্ডল বলেন, "গাফিলতি কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। জরুরি বিভাগেই রোগীকে ঠিকমতো চিকিৎসা করার পর কিছুটা সুস্থ হলে ওয়ার্ডে পাঠানো উচিত ছিল। তা কেন করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ট্রলি বা হুইল চেয়ার কেন ছিল না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।"

আরও পড়ুন -

  1. হাসপাতালের করিডরে ভবঘুরের দেহ খুবলে খেল কুকুর !
  2. উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে চিকিৎসা-বর্জ্য খাচ্ছে গবাদিপশুরা, মহামারির আশঙ্কা পশুপ্রেমীদের