ETV Bharat / state

চিংড়িঘাটার কাজ শেষে মিলবে তিনটি মেট্রো লাইনের সুবিধা

অরেঞ্জ লাইন পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে শহরে মাকড়শার জালের মতো বিস্তার ছড়াবে মেট্রো ৷ নিমেষেই কলকাতা থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে পড়শি জেলায় ৷

orange line
মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 10, 2025 at 3:03 PM IST

|

Updated : September 10, 2025 at 3:16 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 10 সেপ্টেম্বর: অবশেষে চিংড়িঘাটার মেট্রোর জট কাটল। এবার অরেঞ্জ লাইনের বাকি অংশের কাজ দ্রুততার সঙ্গে এগোবে বলেই আশা করছেন শহরবাসী । আর ওই 366 মিটার কাজ শেষে এই মেট্রো পথে পরিষেবা সম্পূর্ণ চালু হয়ে গেলে শহরের একটা বড় অংশের বাসিন্দা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন । কারণ এই মেট্রো পথ জুড়বে শহরের একাধিক স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ ও বড় বড় হাসপাতাল এবং বিমানবন্দরকে ৷

সবচেয়ে লম্বা মেট্রো রুট

মেট্রোর এক আধিকারিক বলেন, "কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কের অরেঞ্জ লাইনের মোট দৈর্ঘ্য হল প্রায় 29.87 কিমি ৷ চিংড়িঘাটা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত জুড়ে গেলে এই পথ হবে কলকাতার সবচেয়ে লম্বা মেট্রো রুট । কলকাতার এক প্রান্ত নিউ গড়িয়া থেকে এক মেট্রোতেই পৌঁছে যাওয়া যাবে পড়শি জেলা উত্তর 24 পরগনার দমদম বিমানবন্দর পর্যন্ত । তাই একবার এই চিংড়িঘাটা অংশের কাজ শেষ হয়ে গেলে অনেকটা পথেই মেট্রো চলাচল শুরু হয়ে যাবে ।"

orange line
অরেঞ্জ লাইন (নিজস্ব ছবি)

অরেঞ্জ লাইনের সুবিধা

এর ফলে নিউ গড়িয়া, ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, পাঁটুলি, রুবি, আনন্দপুর, ভিআইপি বাজার এলাকার যাত্রীদের সেক্টর ফাইভে যেতে আগের থেকে অনেক কম সময় লাগবে। সেক্টর ফাইভের তথ্য-প্রযুক্তি কর্মীদের বেশি সুবিধে হবে ৷ এখন ভিড় ঠেলে অফিস পৌঁছতে তাঁদের অনেক বেশি সময় লাগে ৷ পরিশ্রম থেকে শুরু করে খরচও হয় বেশি ৷ তাঁদের আর সেই কষ্ট ভোগ করতে হবে না ৷ তাঁরা শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন ।

চিংড়িঘাটার যানজট থেকে রেহাই

প্রতিদিনের ব্যস্ত সময় এবং অফিস টাইমে চিংড়িঘাটায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় ৷ তার ফলে মানুষের গন্তব্যে পৌঁছতে অনেকটা বাড়তি সময় লেগে যায় ৷ এবার থেকে সেই সময় অনেকটাই কম লাগবে । এই রুটে পুরোপুরি মেট্রো চালু হয়ে গেলে কবি সুভাষ থেকে সোজা জয়হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত 30 থেকে 35 মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে । আর ভাড়া লাগতে পারে 30টাকার কাছাকাছি (সম্ভাব্য ভাড়া, কারণ বেলেঘাটা পর্যন্ত 9 কিমি যেতে 20 টাকা ভাড়া লাগে ৷ তারপরের 10 কিমি যেতে আরও 10 টাকা বাড়তে পারে বলে মেট্রোরেল সূত্রে জানা গিয়েছে) ।

স্কুল ও হাসপাতাল

ইএম বাইপাসের এই মেট্রো রুটে পড়বে একাধিক স্কুল, হাসপাতাল থেকে দর্শনীয় স্থান ৷ মেট্রো পথ পুরোপুরি চালু হলে যাতায়াতে আরও সুবিধা হবে উত্তর 24 পরগনা ও দক্ষিণ 24 পরগনাবাসীর ৷ মেট্রো রুটে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যাবে নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দের মধ্যে থাকা হাসপাতাল ও স্কুল থেকে দর্শনীয়গুলিতে ৷

orange line
কবি সুভাষ থেকে দমদম বিমানবন্দর মেট্রো পথ (নিজস্ব ছবি)

এছাড়াও অরেঞ্জ লাইনটি সেক্টর ফাইভে গ্রিন লাইনের সঙ্গে জুড়ে যাবে । অর্থাৎ বাইপাসের যে কোনও স্টেশন থেকে গ্রিন লাইনের যে কোনও স্টেশন যেমন ধর্মতলা, হাওড়া ও শিয়ালদা চলে যাওয়া যাবে ৷ এই লাইন একবার চালু হয়ে গেলে মাকড়শার জালের মতো সারা শহরকে কমবেশি মেট্রো নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা যাবে ৷ তাই এতে মানুষের যাতায়াতের সময় যেমন কমবে, তেমনই খরচও কমবে অনেকটাই বলে মনে করা হচ্ছে ।

যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি

এখন কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশন (পোশাকি নাম মেট্রোপলিটন স্টেশন) পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইনে মেট্রো চলাচল করে ৷ এই রুটে এখন তেমন যাত্রী ভিড় না হলেও একবার এই পুরো লাইনটি চালু হয়ে গেলে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে গ্রিন লাইনের ইন্টারচেঞ্জ হলে এক লাফে যে যাত্রী অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে সেটা বলাই বাহুল্য ।

orange line
অরেঞ্জ লাইনের মেট্রো পথ (নিজস্ব ছবি)
কবি সুভাষ থেকে জয় হিন্দ বিমানবন্দর পর্যন্ত 24টি স্টেশন হবে
  • কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন: নিউ গড়িয়া এলাকা ৷ এখানে এসে ব্লু নাইনে ইন্টারচেঞ্জ করা যায় বা কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরের মেট্রো ধরা যায় ।
  • সত্যজিৎ রায় মেট্রো স্টেশন: এসআরএফটিআই বা হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় ।
  • জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী: মুকুন্দপুর এলাকায় ৷
  • কবি সুকান্ত: কালিকাপুর এলাকায় ৷
  • হেমন্ত মুখোপাধ্যায়: রুবি ক্রসিং ৷
  • ভিআইপি বাজার:
  • ঋত্বিক ঘটক: উত্তর 55 গ্রাম এলাকায় ৷
  • বরুণ সেনগুপ্ত: মাঠপুকুর বা ধাপা এলাকায় ৷
  • বেলেঘাটা: মেট্রোপলিটন এলাকায় ৷
  • গৌরকিশোর ঘোষ: চিংড়িহাটা এলাকায় ৷
  • নলবন:
  • সেক্টর ফাইভ: গ্রিন লাইনের সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ করা যাবে ৷ অর্থাৎ সেক্টর ফাইভে নেমে যাত্রীরা আবার গ্রিন লাইনের মেট্রো ধরতে পারবেন ৷
  • নব দিগন্ত: সল্টলেক এলাকায় ৷
  • নজরুল তীর্থ:
  • স্বপ্নভোর:
  • বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার:
  • শিক্ষার্থীর্থ:
  • মাদার্স ওয়াক্স মিউজিয়াম:
  • ইকোপার্ক:
  • মঙ্গলদীপ:
  • সিটি সেন্টার টু:
  • চিনার পার্ক: নিউটাউন এলাকায় ৷
  • ভিআইপি রোড: তেঘরিয়া এলাকায় ৷ আগামিদিনে মেট্রো রেল সেক্টর ফাইভ থেকে গ্রিন লাইনের সম্প্রসারণ করতে চলেছে ভিআইপি রোড পর্যন্ত ৷ এর ফলে কয়েক বছর পর এখান থেকেও গ্রিন লাইনের সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ করা যাবে ৷
  • জয় হিন্দ বিমানবন্দর এয়ারপোর্ট: ইয়েলো লাইনের সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জ করা যাবে । অর্থাৎ বিমানবন্দরে নেমে যাত্রীরা আবার ইয়েলো লাইনের মেট্রো ধরতে পারবেন ৷ পুরো রুটটি চালু হয়ে গেলে দক্ষিণ শহরতলির সঙ্গে শহরের স্মার্ট স্যাটেলাইট সিটি বা আইটি হাবকে যুক্ত করবে অরেঞ্জ লাইন ।
অবশেষে কাটল চিংড়িঘাটার মেট্রো-জট, উৎসব-পর্ব শেষেই শুরু হবে কাজ
চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজে জট, চা-চক্রে বসার নির্দেশ হাইকোর্টের
পুজোর আগেই দুঃসংবাদ ! বুধ থেকে উঠে যাচ্ছে নাইট স্পেশাল মেট্রো
Last Updated : September 10, 2025 at 3:16 PM IST